চ্যালেঞ্জের নাম রোহিনা নাগপাল

জীবনটাই যেন চ্যালেঞ্জ রোহিনা নাগপালের কাছে। অ্যাটেলিয়ার এবং ল'অরেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা। ইন্টেরিয়োর ডিজাইন নিয়ে নানা ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

0

জীবনে একটার পর একটা চ্যালেঞ্জ আসবেই... কোনও চ্যালেঞ্জই কঠিন নয়... কারণ সব চ্যালেঞ্জে সমাধানের রাস্তাও রয়েছে। যিনি নিজে চ্যালেঞ্জের মানে উপলব্ধি করেননি, তাঁর মুখে এই কথা শোনা যায় না। জীবনটাই যেন চ্যালেঞ্জ রোহিনা নাগপালের কাছে। অ্যাটেলিয়ার এবং ল'অরেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা। জীবন সম্পর্কে এই ধরনের চিন্তাভাবনাই তাঁকে এগিয়ে নিয়ে গেছে সাফল্যের চূড়ায়।


বাবা ছিলেন সেনাবাহিনির সঙ্গে যুক্ত। তাই সারা ভারতেই তাঁকে ঘুরতে হত। সেখান থেকেও বিভিন্ন জায়গার আদবকায়দার সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন রোহিনা। বিভিন্ন অভিজ্ঞতার সম্মুখীনও হয়েছেন তিনি। রোহিনা নিজের কেরিয়ার শুরু করেন মাত্র ১৫ বছর বয়সে। ক্রেডিট কার্ড বিক্রি করতেন তিনি। ১৮জনের দলে সবচেয়ে ছোট ছিলেন রোহিনাই। কর্মজীবনের প্রথম দিনের অভিজ্ঞতাই তাঁকে সারাজীবনের রাস্তা পরিষ্কার করে দেয়। সেদিন এমন কিছু লোকের সঙ্গে রোহিনা দেখা করেছিলেন, যাঁদের তিনি চেনেন না। মনে আছে রোহিনার, সেদিন একটি অফিসের ম্যানেজার কী বিশ্রী ভাবে চেঁচিয়ে তাঁকে বেড়িয়ে যেতে বলেছিলেন। অফিসে ফিরে নিজের বসকে বলেওছিলেন। সব ধৈর্য্য ধরে শোনার পর তিনি বলেন, রোহিনা ‘ তোমাকেই এই কাজ করতে হবে’। সেটাই প্রথম এবং সেটাই শেষ দিন ছিল, তারপর থেকে আর কখনও এই ধরনের ঝামেলা নিয়ে বসের কাছে হাজির হননি। আর সেই জন্যই ২৫০০ টাকার চাকরি থেকে মাত্র ৬০ দিনে ১৫,৫০০ টাকা বেতন হয় তাঁর। এর পর শুরু হয় মোবাইল বিক্রির কাজ। তখনকার দিনে মোবাইল বিক্রি করা খুব কঠিন কাজ। কারণ একমিনিটে তখন কল চার্জ উঠত ১৬ টাকা করে।


২০০০ সালে ২০ বছর বয়সে রোহিনা পুণেতে শুরু করেন হোম ডেকরের স্টোর। বাড়িঘর সাজানোর সমস্ত জিনিস পাওয়া যেত রোহিনার 'নটস অ্যান্ড ক্রসেস'-এ। এছাড়াও ইন্টেরিয়োর ডিজাইনের কাজও করতেন রোহিনা। ব্যাঙ্কিং, ফিন্যান্স, বিজনেস এন্ট্রিপ্রেনিওরশিপ নিয়ে পড়াশুনা করেছিলেন রোহিনা। সেই সঙ্গে ইন্টেরিয়োর ডিজাইন, লাইটিং ডিজাইন, রিটেল ডিজাইন এক্সপিরিয়েন্স নিয়ে আহমেদাবাদের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ডিজাইন থেকে কোর্স করেন।

২০০৫ সালে রোহিনা ইন্টারনো মোদা তৈরি করেন, প্রধানত ইনটেরিয়োর ডিজাইনের জন্য। ২০০৮ সালে হাজার স্কোয়ারফিটের হোম স্টোর তৈরি করেন, অ্যাটেলিয়ার হোমস। এরপরই জন্ম হয় ল'অরেঞ্জ। নিজে মা হয়ে রোহিনা অনুভব করেছিলেন, বাচ্চাদের ঘর সাজানোর জন্য কোনও রেডিমেড প্রোডাক্ট পাওয়া যায় না। যার অভাবই পূরণ করে ল'অরেঞ্জ। বিভিন্ন আসবাব, খাট, পর্দা থেকে শুরু করে বাচ্চাদের ঘর সাজাতে প্রয়োজন যাবতীয় জিনিসের সম্ভার রয়েছে ল'অরেঞ্জে। এই ধরনের সেক্টরে ল'অরেঞ্জই প্রথম স্টোর। তাই কর্মীদের নানা ভাবে শিক্ষিত করার চাপ তো রয়েইছে। পরবর্তী কয়েক বছরের মধ্যে সারা দেশ জুড়ে এবং এশিয়ার অন্যান্য দেশেও ল'অরেঞ্জের স্টোর খোলা হবে।


রোহিনা মহিলাদের সাফল্যের জন্য যে মন্ত্রগুলি দিয়েছেন, তা হল-

১) নিজের কাজকে ভালোবাসা কোনও অপরাধ নয়। তাই বলে তুমি নিজের পরিবারকে ভালোবাসছো না, তা নয়।

২) নিজের ওপর বিশ্বাস রাখো। নিজের মধ্যে নিজেকে আবিষ্কার কর। এতে নিজের কাজেরও উন্নতি হবে।

৩) অসাম্য নিয়ে ভেবে সময় নষ্ট কর না, নিজের কাজটা মন দিয়ে কর।



লেখক-তনভি দূবে

অনুলেখক-চন্দ্রশেখর চ্যাটার্জী

Related Stories