ডিজিটাল মিডিয়ায় মহিলাদের জানালা POPxo

0

জুতো সেলাই থেকে চন্ডীপাঠ-কী নেই POPxo কমিউনিটিতে? শুধু কমিউনিটি বললে ভুল হবে, POPxo মহিলাদের জন্য ডিজিটাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মও। মূলত ১৮ থেকে ৩৪ বছরের মহিলারাই এই সংস্থার টার্গেট অডিয়ান্স। ফ্যাশন থেকে বিউটি টিপস, সম্পর্ক থেকে বিয়ে, চাকরি, লাইফস্টাইল সব ধরনের সুলুক মিলবে POPxo এর ওয়েবসাইটে। আইডিজি ভেঞ্চার ইন্ডিয়া এবং কালারি ক্যাপিটালের নেতৃত্বে প্রায় ৫০০ স্টার্টআপের ইনভেস্টমেন্ট রাউন্ড হয়। সেখানে সিরিজ অ্য ফান্ডিং থেকে ২০ লক্ষ ডলার পুঁজি সংগ্রহ করছে POPxo ।

২০১৪র মার্চে প্রিয়ঙ্কা গিল এবং নম্রতা বস্ট্রোমের হাত ধরে POPxo এর আত্মপ্রকাশ। দুই উদ্যোক্তার দাবি, মাসে ৯ মিলিয়ন উৎসাহী তাদের পেজে ঢোকেন। তাছাড়া, নিয়মিত যারা পেজ দেখেন সেই সংখ্যাটা ৩ মিলিয়ন। ২০১৪র নভেম্বরে দুজনেই রজন আনন্দন, কারাটলেনের মিঠুন সনচিতি (ভায়া চেন্নাই এঞ্জেল) এবং আরও কয়েকটি উৎস থেকে ৩ কোটি টাকা পুঁজি সংগ্রহ করেন।

রেভিনিউ বাড়াতে POPxo স্থানীয় অ্যাডভারটাইজিং এবং স্পন্সরদের ওপর ভরসা করে। এখনও পর্যন্ত যেসব সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে POPxo সেগুলি হল, নাইকি, হুইসপার, তানিশক, মোটেরোলা, ট্রুলিম্যাডলি, লেকমে, চুম্বক, টিগিবেডহেড, উইলস লাইফস্টাইল, ক্যারাটলেন, ওয়েস্টসাইড, ভেরোমোদা এবং ভ্যানুসেন। সোশ্যাল মিডিয়া বাজ তৈরি করতে নামী ব্লগারদের নেটওয়ার্কও ব্যবহার করেন প্রিয়ঙ্কা-নম্রতা। ব্লগারদের সঙ্গে তার জন্য চুক্তিও রয়েছে। POPxo মনে করে, যা করা হচ্ছে তার সব কিছু ডাটায় থাকা দরকার। একেবারে কী লেখা হবে তা থেকে শুরু করে ওয়েবসাইট এবং অ্যাপের জন্য হেডলাইন পর্যন্ত। তার জন্য অ্যানালেটিকেল টিমটি এডিটরের সঙ্গে কাজ করে এবং সবকিছু যাতে নির্বিঘ্ন হয় তার জন্য রয়েছে সোশ্যাল টিম, বলেন নম্রতা, সংস্থার সিইও এবং সহ প্রতিষ্ঠাতা। ‘ভারতে কটা মহিলা আওয়াজ তুলে নিজেদের প্রকাশ করতে পেরেছেন? কিশোরী, যুবতীদের কথা ছেড়েই দিলাম। ফ্যাশন থেকে সম্পর্ক মহিলাদের নানা ইস্যু নিয়ে আমরা স্টোরি বানালাম, তার ভিডিও তৈরি করলাম’, জানান নম্রতা। সম্প্রতি POPxo হিন্দি সাইট লঞ্চ করেছে। হিন্দি অথবা ইংরেজি সব ক্ষেত্রে চাহিদা প্রায় সমান, উপলব্ধি নম্রতার। তিনি বলেন, ‘হিন্দি অথবা ইংরেজি সব পাঠকের জন্য প্রাসঙ্গিক বিষয় থাকে। তবে বিউটি টিপস বা সম্পর্কের বিষয়গুলি সবার জন্য এক’।

আপাতত ৬০ মিলিয়ন ভারতীয় মহিলা POPxo এর অনলাইনে হিট করেন। ২০২০র মধ্যে সংখ্যাটাকে ৩০০ মিলিয়নে নিয়ে যাওয়াই লক্ষ্য। নেটে লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের আনাগোনায় আইডিজি ভেঞ্চার ইন্ডিয়ার এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর করণ মোহলার উপলব্ধি, প্রজন্ম যেমন বদলেছে, সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটের ব্যবহারও বদলেছে। ভাইরাল কনটেন্টের জন্য একসময় শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিল বাজফেড (Buzzfeed)। POPxo এর প্রতিযোগিতা মিস মিলানি (Miss Malini)বা ফেমিনা (Femina)এর সঙ্গে। তাদেরও লক্ষ্য মহিলা এবং তাদের প্রাত্যহিত জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা নানা বিষয়।

টিম POPxo এ এখন ৩০ জন কাজ করছেন। প্রিয়ঙ্কা জানান, ২০১৬য় সংখ্যাটা ৬০ এ নিয়ে যাবেন। দিল্লি এবং মুম্বইতে অফিস রয়েছে। প্রিয়ঙ্কা বলেন, ‘এই পর্যন্ত সবকিছু দারুণ কেটেছে। খুব তাড়াতাড়ি বড় হয়েছি আমরা। একটা হিন্দি সাইট জুড়েছি, নিজেদের ভিডিও প্রডিউস করেছি, মোবাইল অ্যাপ রিলিজ করেছি এবং মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ অনেক বাড়িয়েছি। যে পুঁজি সংগ্রহ করেছি সেটাই আমাদের ক্রমশ বাড়তে সাহায্য করবে। আমাদের গ্রাহক, ব্র্যান্ড পার্টনার এবং বিনিয়োগকারীরা যে বিশ্বাস রেখেছেন, সেটা অটুট রাখার ব্যাপারে আমরা আত্মবিশ্বাসী’। কালারি ক্যাপিটেলের এমডি ভানি কোলা বলেন, ‘ভারতে ইন্টারনেটের রমরমার এই বাজারে মহিলারা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর। ডিজিটাল মিডিয়ার বিবর্তনে আধুনিক ভারতীয় মহিলারাই নেট দুনিয়ার টার্গেট। প্রিয়ঙ্কা-নম্রতার বহুমুখী প্রতিভার এই টিমের সঙ্গে আমার কাজ করতে ভালো লাগে। কারণ তাঁরা আধুনিক মহিলাদের ভাষা, তাদের প্রয়োজন বুঝতে পারেন’।

মূলত ফেসবুকের মাধ্যমে ইউজার টানে POPxo। তবে ইনস্টাগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাটের মতো প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহার করে পাঠকদের সঙ্গে আলোচনা চলে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে নম্রতা জানান, পরের দুবছর প্রযুক্তিগত উন্নতিতে জোর দেবেন তাঁরা। তাতে পাঠকদের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। ভিডিও প্রোডাকশন আরও বাড়ানোর ইচ্ছে রয়েছে। তাছাড়া এনরয়েড এবং আইওএস অ্যাপসে আরও নতুন ফিচার নিয়ে আসার পরিকল্পনাও রয়েছে দুই উদ্যোক্তার।