সাত হাজার টাকা ধারে শুরু করে ২৫ বছরে নীনার Baggit একশ কোটির কোম্পানি

0

নীনা লেখির চলার পথটা একেবারেই অন্যরকম। তাঁর বংশের মেয়েদের ভিতর তিনিই প্রথম বহির্জগতে কাজ করতে পা রাখেন। এর আগে তাঁদের বংশের মেয়েদের জীবন কাটত অন্দরমহলেই।

যখন খুব অল্পবয়সে নীনা বহির্জগতে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তখন অবশ্য তাঁকে পারিবারিক কোনও বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। উপরন্তু মাকে বরাবর পাশে পেয়েছেন। ছোটবেলায় ছবি আঁকার প্রতি আকর্ষণ ছিল। আর্ট স্কুলে ভর্তি হয়েও কোর্সটা মাঝপথে ছেড়ে দেন। সেইসময়েই অন্য কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে কাজ নেন আমারসন শপ ফ্লোরে। সেখানে কাজ করতে করতেই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয় একতটি আইডিয়া।

নীনা জানালেন, আজ থেকে ২৫ বছর আগে এদেশে স্লোগান আঁকা টি-সার্ট পরতেন অনেকেই। কিন্তু অন্যরকম ব্যাগ ব্যবহারের কোনও ঝোঁক বা সুযোগ ছিল না। সেইসময়ে আমি নতুন ডিজাইনের ব্যাগ বাজারে আনি। আইডিয়াটা বাজারে সাফল্য পেল। আমাকেও আর পিছন ফিরে তাকাতে হল না। সংক্ষেপে এটাই মহিলা উদ্যোগী নীনার সাফল্যের কাহিনি। তাঁর সংস্থার নাম ব্যাগিট। মানিব্যাগ, কাঁধে ঝোলানো ব্যাগ থেকে শুরু করে ব্যাগিট বিভিন্ন ধরনের ব্যাগ তৈরি করে থাকে। রমরম করেই চলছে ব্যাগিটের ব্যবসা।

নীনা জানিয়েছেন, মায়ের কাছ থেকে ৭০০০ টাকা ধার নিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এখন ব্যাগিটের টার্নওভার ১০০ কোটি। ৯০ টি শহরে ব্যাগিটের দোকান রয়েছে। এক্সক্লুসিভ ৪৮টি। এছাড়া ৩৫০টি ফরম্যাট স্টোর্সও রয়েছে। আগামী দিনে ভারতের প্রতিটি শহরেই ব্যাগিটের আউটলেট খোলার পরিকল্পনা করেছেন নীনা।

নিজের সংস্থাটিকে শুধু আর্থিক লাভের নিরিখেই বিচার করেন না নীনা। তিনি চান তাঁর সংস্থায় কর্মরতরা যেন পেশায় উন্নতির পাশাপাশি মানসিকভাবেও শান্তিতে থাকতে পারেন। নিজে অধ্যাত্মচর্চা করতে ভালোবাসেন। প্রতি তিন থেকে ছয় মাস অন্তর অন্তর সিদ্ধ সমাধি যোগা নামে একটি সংস্থার ব্যবস্থা‌পনায় ব্যাগিটের কর্মীরা কয়েকদিনের জন্যে যোগ শিবিরে কাটিয়ে আসেন। মন সতেজ করে ফের ফিরে আসেন কাজে। নীনা মনে করেন, কর্মীদের মানসিকভাবে সুস্থ রাখাটাও একজন উদ্যোগী হিসাবে তাঁর দায়িত্বের ভিতর পড়ে।