#Brexit-এ কি ধাক্কা খেতে পারে ভারতের অর্থনীতি?

0

ইংরেজদের গণভোটে ভারত ধাক্কা খাবে এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞ মহল। পৃথিবীর বাজার সেই তরঙ্গের ধাক্কা অনুভব করতে শুরু করে দিয়েছে। গোটা দুনিয়া স্তম্ভিত। নিজেদের ওপর বিষয়টির কী প্রভাব পড়তে চলছে সেটা বুঝে উঠতেই তামাম বিশ্ব নাস্তানাবুদ। চুলচেরা বিচার বলছে Brexit এর কুপ্রভাব থেকে ভারতও বাদ যাবে কিনা। কেউ কেউ বলছেন জটিলতা তৈরি হবে দেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে। এখানে Brexit কিভাবে স্টার্টআপদের সমস্যায় ফেলতে পারে সেই বিষয়েই আলোচনা করব আমরা।

যেকোনও পরিণত স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমে ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্ট আর অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টররা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকেন। আশঙ্কা এই ঘটনার প্রভাবে VC-দের ভারতীয় স্টার্টআপে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আত্মপ্রকাশ কমে যাবে। ইউরোপের বাজারও এই ভাঙ্গনের ফল ভুগবে। Warburg Pincus আর Axon Partners Group গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগকারী সংস্থা। এতে তাঁদেরও বিনিয়োগ কমবে। নিয়ন্ত্রণ, পুনর্গঠন এবং কঠোর ইমিগ্রেশন আইনে প্রভাবিত হবেন ভেঞ্চার ক্যাপিটালিস্টরা। ফলত তার প্রভাব ভারতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অবশ্যই পড়বে। Brexit এর পর ইনভেস্টররা হয়ত ঝুঁকি নেবেন কম। নতুন করে ঢেলে সাজাবেন বিনিয়োগের প্ল্যান। কমবে বিনিয়োগের পরিমাণও।

বিনিয়োগের অবমূল্যায়ণ

আমরা সকলেই জানি এই গণভোটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ব্রিটেনের পাউন্ডের দামের ওপর। ইতিমধ্যেই পাউন্ডের দাম ৭.০৮ শতাংশ কমেছে। ফলে ব্রিটিশ ইনভেস্টরের কাছে টাকা পেয়েছেন এমন স্টার্টআপরা ফ্যাসাদে। ধরুন, গতকাল কোনও ভারতীয় সংস্থা পেয়েছে এক মিলিয়ন পাউন্ড মানে ভারতীয় মুদ্রায় ১০ কোটি টাকা। কিন্তু আজকের অবমূল্যায়ণের কারণে সেই অর্থের মূল্য এখন ৯.৩০ কোটি। ভাবুন কোনও দোষ না করেও প্রায় সত্তর লাখ টাকার ধাক্কা খেলেন একজন স্টার্টআপ।

ভারতীয় স্টার্টআপের বৃদ্ধির সম্ভাবনায় ঘাটতি

আমাদের আগে বুঝতে হবে বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থা কিভাবে পরষ্পর ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। ইউরোপের বাজারে অনিশ্চয়তা এবং মুদ্রার অবমূল্যায়ণ ওখানকার বাজারে বস্তুর চাহিদা হ্রাস করবে। যেই মুহূর্তে চাহিদা কমবে,মালের জোগান কমবে। এবার যদি সাপ্লায়ার কোনও ভারতীয় হন, তবে তিনি অবশ্যই সমস্যায় পড়বেন। স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম একটা আন্তর্সম্পর্কিত জালের মতো। Musigma-র মতো সংস্থা যাদের চাহিদা বেশ গণনীয় পর্যায়েই, তারাও এই বাজারে চাপে।

বাজারে প্রবেশাধিকার

স্টার্টআপরা বাজারে ঢোকার অধিকারও হারাতে পারেন। আগে যখন ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পুরোটা সামলাতো তখন বাজারে প্রবেশের পথটাও সহজ ছিল। এখন ইংল্যান্ডের ক্ষেত্রে অন্য নীতি ধার্য্য হবে। ফলে অন্যান্য EU-এর দেশগুলির সম্মতি মূল্য বাড়বেই। EU আর ইংল্যান্ডের ভিতরের এই ভাঙ্গন স্টার্টআপদের বাজারে প্রবেশাধিকারে বাধা সৃষ্টি করবে।

ক্ষমতাশালী বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি নিতে অনীহা

যেসকল বিনিয়োগকারীর ভারতে বিনিয়োগের ইচ্ছা ছিল তাঁরা এবার হয়ত পিছু হটবেন। শুধু ইউরোপের ইনভেস্টররাই নন, এতে প্রভাবান্বিত হবেন তাবড় আন্তর্জাতিক মানের ইনভেস্টররা। যেহেতু ইউরোপের বাজার অনেক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাবে, তাই ইনভেস্টররাও নিরাপদ ক্ষেত্রে বিনিয়োগ করবেন। নতুন আইডিয়া কিংবা স্টার্টআপে টাকা ঢালবেন না। সর্বোপরি ভারতীয় স্টার্টআপরা ফান্ডের মন্দায় ভুগবেন। গোটা বিশ্বের বাজার খুবই খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। আগে থেকে কিছু বলা যাচ্ছে না। সময় শক্তিমান। আমরা অপেক্ষায় রইলাম, একমাত্র সময় বলবে কি রয়েছে ভারতের স্টার্টআপ কমিউনিটির ভাগ্যে!