ফ্লিপকার্টে ফ্লিপ-ফ্লপ, গেলেন সচিন, এলেন বিন্নি

0

আট বছরের বেশি সময় ধরে তিনিই নেতৃত্ব দিয়েছিলেন ভারতের ই-কমার্স-এর দিশারি সংস্থা ফ্লিপকার্টকে । হঠাৎই রদবদল। সংস্থার সিইও তথা সহ প্রতিষ্ঠাতা সচিন বনসল সরে দাঁড়ালেন। এখন তিনি ফ্লিপকার্টের এগজিকিউটিভ চেয়ারম্যান। সচিনের হাত থেকে ব্যাটন নিলেন তাঁরই সহযোগী বিন্নি বনসল। এতদিন তিনি ছিলেন সংস্থার সেকেন্ড ইন কমান্ড অর্থাৎ চিফ অপারেটিং অফিসার।

তবে বোর্ডের চেয়রম্যান পদে বহাল থাকছেন সচিন। ফোর্বসের ১০০ ধনকুবেরের তালিকায় স্থান পেয়েছেন সচিন আর বিন্নি দুজনই। এ পর্যন্ত ৩২০ কোটি মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ পেয়েছে ফ্লিপকার্ট। এরমধ্যে ব্যক্তিগত বিনিয়োগ রয়েছে ১০৩ কোটি মার্কিন ডলার।

নতুন ভূমিকায় সচিন

সংস্থার তরফে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে , ফ্লিপকার্টের এগজিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে নিম্নলিখিত ভূমিকা পালন করবেন সচিন :

১. ফ্লিপকার্টকে কৌশলগত দিশা দেখাবেন

২. সংস্থার শীর্ষ আধিকারিকদের মেন্টর হিসেবে কাজ করবেন

৩. নতুন বিনিয়োগ সম্ভাবনা খতিয়ে দেখবেন

৪. দেশ ও দেশের বাইরে সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করবেন

পরবর্তী পর্যায় আমাদের লক্ষ্য, ফ্লিপকার্টকে ভারতের ই-কমার্স সাইটের মুখ হিসেবে তুলে ধরা যাতে বিশ্বের দরবারে প্রমাণিত হয় অত্যাধুনিক ইন্টারনেট সংস্থাকে জন্ম দেওয়ার অধিকার রয়েছে ভারতের। এ ব্যাপারে বিশ্বের প্রথম সারির যে কোনও প্রতিষ্ঠানকে টেক্কা দিতে পারে তারা।

চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার হওয়ায় দায়িত্বে বদল এসেছে বিন্নিরও :

  1. সংস্থার সুষ্ঠু পরিচালনা ও সার্বিক অগ্রগতির দায়িত্ব তাঁর
  2. কমার্স, ইকার্ট, মিন্ত্রার মতো বাণিজ্যিক শাখাগুলিও তাঁকেই রিপোর্ট করবে
  3. সংস্থার মানব সম্পদ, অর্থ, আইন,কর্পোরেট কমিউনিকেশনস এবং কর্পোরেট ডেভেলপমেন্ট বিভাগ তাঁরই অধীনে থাকবে

একটি বিবৃতিতে বিন্নি দাবি করেছেন, ভারতের এম-কমার্স বাজারের ৬০ শতাংশ ফ্লিপকার্টের দখলে। রয়েছে পাঁচ কোটি গ্রাহকের ডেটাবেস। স্মার্টফোন, ফ্যাশনের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের পছন্দের নিরিখে অন্যান্য সংস্থার থেকে অনেকটাই এগিয়ে এই সংস্থা।

সংস্থার বাণিজ্যিক বিভাগের প্রধান থাকছেন মুকেশ বনসল। সামলাবেন ফ্লিপকার্টের মূল ব্যবসা আর বিজ্ঞাপন বিভাগের কাজ। মিন্ত্রার চেয়রম্যান পদেও বহাল থাকছেন মুকেশ।

ইওরস্টোরির চোখে

ভারতের ইতিহাসে প্রথমবার ১০০ কোটি মার্কিন ডলারের কোনও স্টার্টআপ সংস্থায় এত বড় রদবদল ঘটল। আট বছরের বেশি সময় ধরে সংস্থার সিইও পদে থাকার পর সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সক্রিয় ভূমিকা থেকে যেন অব্যাহতি নিলেন সচিন। ভারতের বৃহত্তম ই-কমার্স সংস্থাকে সামনে থেকে পরিচালনার সুযোগ পেলেন সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিন্নি। শীর্ষতম পদে এই রদবদলে ভবিষ্যতে সংস্থার কোনও শীর্ষ আধিকারিক কিংবা যোগ্য প্রফেশনালকে সিইও পদে বসানোর ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও এর মধ্যেই ফ্লিপকার্টের সেকেন্ড লাইন অফ কমান্ড তৈরি। মুকেশ বনসল, পুনিত সোনি, পীযূষ রঞ্জন ও অঙ্কিত নাগোরি যথাক্রমে সংস্থার ই-কমার্স, উৎপাদন, প্রযুক্তি ও বাণিজ্য বিভাগ সামলাচ্ছেন। এঁদের যে কেউই ভবিষ্যতে ফ্লিপকার্টের সিইও নিযুক্ত হতে পারেন।

(লেখক অলোক সোনি, অনুবাদ শিল্পী চক্রবর্তী)