নীলমকুমারের রাস্তা নিজে নিজেই মেরামত হয়

কানাডার কাজ কম্ম শিকেয় তুলে দেশে ফিরেছেন অধ্যাপক নীলকুমার বানটিয়া। বানিয়েছেন তাঁর নিজের প্রযুক্তির রাস্তা যা নিজে নিজেই মেরামত হয়।

1

ভারতে রাস্তাঘাট এক নিত্যনৈমিত্তিক সমস্যা। রাস্তাঘাটের অবস্থা বহুক্ষেত্রেই বেহাল। এদিকে সরকার চাইছে শিল্পায়ন। শিল্পায়নের অন্যতম শর্ত হল উন্নত পরিকাঠামো। পরিকাঠামোর বলতে যা কিছু বোঝায় তার ভিতর ভালো মানের রাস্তাও অতি গুরুত্বপূর্ণ। কানাডায় প্রবাসী এক ভারতীয় অধ্যাপক এই প্রয়োজন মেটাতে উদ্ভাবন করেছেন নতুন প্রযুক্তির রাস্তা। অধ্যাপকের নাম নীলমকুমার বানটিয়া। ভাঙা রাস্তাঘাটের মেরামতিতে অধ্যাপক নীলমকুমারের উদ্ভাবন পরিকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক হিসাবে কাজে লাগছে।

নীলমকুমার জানিয়েছেন, তাঁর দেখানো প্রযুক্তিতে রাস্তা নির্মাণের খরচও তুলনায় কম। বর্তমানে রাস্তাঘাট নির্মাণে যে প্রযুক্তি‌ ব্যবহার করা হয়, সে তুলনায় নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাস্তা তৈরি করলে তা হবে আরও টেঁকসই। অন্ততপক্ষে ১৫ বছর রাস্তাগুলি থাকবে অটুট। তারপরেও রাস্তা খারাপ হয়ে গেলে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা সহজেই সারানো যাবে। প্রসঙ্গত, ভারতের রাস্তাঘাটগুলি সাধারণত নির্মাণের বছর দুয়েকের ভিতরই নানা ধরনের রোগব্যাধির কবলে পড়ে। আর ভাঙতে শুরু করে।

অধ্যাপক নীলমকুমারের দাবি, যে প্রযুক্তি ব্যবহার করে তিনি রাস্তা নির্মাণ করছেন তা পরিবেশেরও কোনওরকম ক্ষতি করবে না। ইতিমধ্যে কর্ণাটকে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী দিনে মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানাতেও একইভাবে নতুন প্রযুক্তিতে রাস্তাঘাট তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন নীলমকুমার।

জেনে নেওয়া যাক অধ্যাপক নীলমকুমারের প্রযুক্তিটি ঠিক কী?

 নীলমকুমার জানিয়েছেন, তাঁর দেখানো প্রযুক্তি ব্যবহার করে রাস্তাঘাট নির্মাণ করা গেলে ওই রাস্তা হবে তুলনায় ৬০ শতাংশ কম ভারি। রাস্তা নির্মাণের মালমশলার বাবদ খরচও তুলনায় বেশ কম পড়বে। এক্ষেত্রে সিমেন্টের বদলে ব্যবহার করা হবে ফ্লাই অ্যাশ।  নিজের উদ্ভাবনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নীলমকুমার আরও জানিয়েছেন, এমন ফাইবার দিয়ে রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে যাতে রয়েছে হাইড্রোফিলিক ন্যানো কোটিং। হাইড্রোফিলিয়ার অর্থ যা জল শোষণ করতে পারে। বেশিরভাগ সময়ে রাস্তা ভাঙে আন হাইড্রোলিক সিমেন্ট ব্যবহার করার দরুণ। কেননা এই ধরনের সিমেন্টের জল টেনে নেওয়ার ক্ষমতা নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে হাইড্রেসনের ক্ষমতাই রাস্তাঘাটগুলি মেরামতির সহায়ক।

কানাডায় ব্রিটিশ কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অধ্যাপনা করেন নীলমকুমার। দিল্লি আইআইটি থেকে উত্তীর্ণ হওয়ার পরেপরেই দেশ ছেড়েছিলেন। সেই থেকেই কানাডা প্রবাসী। ২০১৪ সাল থেকেই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে উঠেপড়ে লেগেছেন নীলমকুমার। স্বদেশকে নতুন কিছু দিতে চান তিনি। তাঁর অবদান যে নতুন প্রযুক্তি এর মাধ্যমে বেঙ্গালুরু থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে থোনডেভাবি গ্রামে পরীক্ষামূলকভাবে হাইড্রোলিক সিমেন্ট ব্যবহার করে রাস্তা নির্মাণের কাজ চলছে। অধ্যাপকের দেখানো প্রযুক্তিতে সেই কাজে সাফল্যও এসেছে।