৯০ পেরনো দম্পতি বিদ্যা বালানের রোল মডেল

0

মোদিজির স্বচ্ছ ভারত অভিযানের পর আজকাল টিভির পর্দায় প্রায়ই একটি বিজ্ঞাপন নজরে পরে, বলিউড তোলপাড় করা সুন্দরী বিদ্যা বালান, এক গ্রামের বধূর সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেন। বধূটি প্রথাগতভাবে মাথায় ঘোমটা টানেননি। স্বাভাবিক যে বড়বুড়োরা বকা দেবেন, অথচ সে শৌচালয় খুঁজলে লাজলজ্জার মাথা খেয়ে দেখিয়ে দেওয়া হয় খোলা মাঠ। প্রতিবাদ করেন বিদ্যা। বাড়িতে শৌচালয়ের প্রয়োজনীয়তার কথা বোঝান সকলকে। টনক নড়ে গ্রামবাসীর।

তামিলনাড়ুর এক প্রত্যন্ত গ্রাম আছামপাট্টি। মাদুরাই থেকে আরও পনের কিলোমিটার ভেতরে। ২০১৫ সালের ২রা অক্টোবর গান্ধিবাপুর জন্মদিনে, open defecation free (ODF) গ্রামের তকমা পেয়েছে এই গ্রাম। জেলার স্বচ্ছ ভারত মিশনের অধীন গ্রামীণ সংস্করণ বিভাগের সেরা গ্রাম এখন আছামপাট্টি। প্রত্যেক গ্রামবাসীর যৌথ উদ্যোগে সফল হয়েছে এই পরিকল্পনা। তবে এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার নেতৃত্ব দিয়েছেন নব্বই উর্দ্ধ এক দম্পতি।

পঞ্চায়েত প্রেসিডেন্ট এস মুরুগন বলেন কাজটি বেশ কঠিন ছিল। প্রোজেক্ট শুরুর সময় গুটিকয়েক বাড়িতে নিজস্ব শৌচালয় ছিল। বেশিরভাগ মানুষ খোলা মাঠ আর জলাশয়ে শৌচকর্ম করত। তাদের শৌচালয় ব্যবহার করার জন্য বোঝাতে হয়েছে। যারা বাড়িতে শৌচালয় বানিয়েছে DRDA’s (District Rural Development Agency)-র আওতায় তারা ১২,০০০ টাকা ভর্তুকি পেয়েছে। মুরুগন আরও জানালেন, সৌভাগ্যজনকভাবে, মাদুরাইয়ের দেবকি হাসপাতালের মালিক এই গ্রামেই বড় হয়েছেন। প্রতিটি শৌচালয়ে সৌরবিদ্যুৎ বাতি লাগাতে তিনি সাহায্যের হাত বাড়ান। তাছাড়াও ওই গ্রামের গরীব মানুষের বাড়িতে টয়লেট নির্মাণের খরচ তিনিই বহন করেছেন।

৩৭৩ টি বাড়ির মধ্যে ৩৬৯ টিতেই নিজস্ব টয়লেট আছে। বাকি বাড়ির লোকেরা সুলভ শৌচালয় ব্যবহার করেন। ১৪৮ টি বাড়ির টয়লেটে সৌরবিদ্যুৎ আছে। গ্রামের পরবর্তী মিশন হল পচনশীল আর পচনশীল নয় এমন বর্জ্য পদার্থের সঠিকরূপে পরিচালন ব্যবস্থা করা।

DRDA প্রোজেক্টের ডিরেক্টর রহিনী রামদাস জানালেন গ্রামের ODF স্টেটাসের সফলতার পিছনে আছেন গ্রামের মানুষ। তাঁরা একটি দল বানিয়েছেন যাঁরা কড়া নজরে রাখেন যেন প্রতিবেশী গ্রামের কেউ তাঁদের গ্রাম নোংরা করতে না পারে। ভোর চারটে থেকে তাঁরা টহল দেন আর মুক্ত জায়গায় কাউকে শৌচকর্ম করতে দেখলেই তাড়া করেন।

রোল মডেলরা খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। গ্রামবাসী প্রথমদিকে অনেকরকম অভিযোগ করতেন। বদ্ধ শৌচালয়ে অনেকের শ্বাসকষ্ট হয়, কিংবা বাড়ির পরিচ্ছন্নতা ব্যহত হয়, এমন আরও কতকি। নব্বই বছর বয়স্ক সি আলাগু আমবালাম আর তাঁর স্ত্রী আনগাম্মাল নিজেদের বাড়িতে প্রথম টয়লেট বানিয়ে উদাহরণ প্রতিষ্ঠা করলেন। সন্তানদের দ্বারা পরিতক্ত এই দম্পতি বুড়ো বয়সের সামান্য পেনসন দিয়ে, আর ছাগল পুষে সংসার চালান। আমবালাম জানালেন নিজস্ব শৌচালয় খুবই সুবিধাজনক আর এভাবে গ্রামও পরিচ্ছন্ন থাকে।

(Think Change India)