গুয়াহাটি আইআইটি-তে জমজমাট উদগম ১৭

0

ভারতে নতুন উদ্যোগপতি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করার মতো স্বপ্ন দেখার পরিবেশ আছে দেশ‌জোড়া আইআইটিগুলিতেই। আইআইটিগুলি যে স্টার্টআপ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে চিন্তাচর্চা করার মতো অনুকূল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সে আর নতুন কথা কী। নতুন উদ্যোগ গড়ে তুলতে আইআইটি পড়ুয়াদের উদ্ভাবনী শক্তির কাহিনী নয়া জমানার উদ্যোগমুখী তরুণ-তরুণীর কাছে এক-একটি প্রেরণাদায়ক গল্প।

আইআইটি-র অবশ্য এটা এক নিজস্ব ঐতিহ্য। ধারাবাহিকভাবে স্টার্ট আপ আন্দোলনকে নিজের শ্রেষ্ঠ মেধাগুলি দিয়ে আশাভরসা জুগিয়ে চলেছে আইআইটিগুলি। এভাবে অনেকক্ষেত্রে সৃষ্টি হয়েছে অনন্য দৃষ্টান্তও।

বহু বিজনেস আইডিয়া যা পরবর্তীকালে বাজার সফল – আইআইটিগুলির হোস্টেলে, ক্যাম্পাসে কিংবা কাফেটোরিয়ায় নিছক আড্ডা মারাকালীন সেখানকার পড়ুয়াদের মাথায় ঝিলিক দিয়েছে। পরে সেগুলি নিয়ে তাঁরা উঠেপড়ে লেগেছেন। আর দেখিয়ে দিয়েছেন এক-একটি রাস্তা। সেটি আর কিছুই নয় – এভাবেও পারা যেতে পারে! গড়ে তোলা যেতে পারে উদ্যোগের দুনিয়ার অভিনবত্ব।

এও উদ্বুদ্ধ করে চলেছে প্রাথমিক স্তরে বিজনেস আইডিয়া নিয়ে আকাশপাতাল ভাবা তরুণ-তরুণীদের। এগিয়ে চলার পথে সেও এক বিরাট ভরসা বলতে হবে।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে স্টার্ট আপ আন্দোলনকে জোরালো করতে বিশেষ অবদান রয়েছে গুয়াহাটি আইআইটি-রও। গোটা আসাম জুড়ে এবং সেইসঙ্গে উ্ত্তর-পূর্বের অন্য রাজ্যগুলিতে উদ্যোগপতি গড়বার কারিগর হিসাবে গুয়াহাটি আইআইটি এখন এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সম্প্রতি এখানে হয়ে গেল ই-সামিট। তিনদিনের এই সামিটে্ আইআইটি গুয়াহাটিতে অংশগ্রহণকারী হিসাবে ছিলেন উদ্যোগপতি হিসাবে স্বপ্ন দেখা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ। সেইসঙ্গে ছিলেন তরুণীরাও। আইআইটি গুয়াহাটির এই উদ্যোগের ফলে উত্তর-পূর্বের ছেলেমেয়েরা যারপরনাই উপকৃত হলেন।

তিনদিনের এই ই-সামিটের নাম রাখা হ‌য়েছিল, উদগম। উদগমে অংশগ্রহণকারী হিসাবে ছিল সারা দেশের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও। আর ইওর স্টোরি ছিল উদগম-এর পার্টনার।

উদগম উপলক্ষে হয়ে গেল কর্মশালা, আলোচনাসভা, কনক্লেভ ইত্যাদি। তবে এই সামিটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল উদ্যোগ সংক্রান্ত সহযোগিতা করতে বক্তৃতামালার আয়োজন। কীভাবে এগোতে হবে, পথের বাধাগুলি কী – এ ধরনের প্রশ্নের মোকাবিলা করার মতো অভিভাবক না থাকলে উদ্যোগপতির একার পক্ষে চলবার অজানা পথটা স্বভাবতই খানিক ঝুঁকির হয়ে ওঠে। এ ব্যাপারে সহায়ক-বক্তৃতামালায় বক্তা হিসাবে ছিলেন স্প্রাউটবক্সের সহ-প্রতিষ্ঠাতা রাজীব গুপ্তা, গগনদীপ সিং সাপরা, সিস্টেম থ্রি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা বালাজি বিশ্বনাথন, ফোর্বস থার্টির ডঃ রীতেশ মালিক, ইনোভ এ‌ইটের অঙ্কিত নারোগী, আবির টেকনোলজিসের প্রতিষ্ঠাতা হানি বাজাজ, এমআইটি-র গবেষক-বিজ্ঞানী রিচ ফ্লেচার, গ্রোবিজসের সিইও রোশনি কুমার যামবেম প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, দেশের উত্তর-পূর্ব জুড়ে রয়েছে নতুন নতুন উদ্যোগ গড়ে্ তোলার ক্ষেত্রে্ এক বিচিত্র ও সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনা। এই অঞ্চলের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে উত্তর-পূর্বের সঙ্গে অবশিষ্ট ভারতের সংযোগ তোলার ক্ষেত্রে নতুন উদ্যোগগুলির বলাবাহুল্য গুরুত্বপূর্ণ এক ভূমিকা থাকছে। আসলে এই শূন্যতা একমাত্র ভরাট করতে পারে এখানকার স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেমটি। উদ গম ১৭-তে এই দিকগুলি নিয়েই আলোচনা হয়েছে।

আশা করা যাচ্ছে, ব্যাপারটা আলোচনার পর্যায়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না। বরং নতুন ভাবনায় ভাবিত হয়ে এখানে গড়ে তোলা যাবে স্টার্ট আপগুলির পক্ষে অনূকূল এক ইকোসিস্টেমও। এ ব্যাপারে আইআইটি গুয়াহাটির আন্ত্রেপ্রেনিয়রশিপ ডেভলপমেন্ট সেলের আহ্বায়ক মুকে্শ বাবু বলেছেন, আমরা গোটা উত্তর-পূর্বকে উদ্যোগমুখী করতে উদগমকে একটি মঞ্চ হিসাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছি।

প্রসঙ্গত, উদগমের অনুষ্ঠিত হল কয়েকটি কর্মশালা, কনক্লেভ ইত্যাদি। যেমন, একটি ইভেন্ট ছিল উদগম ১৭ স্টার্ট আপ শো-কেস। এই ইভেন্ট থেকে উপকৃত হলেন যাঁরা নিজস্ব স্টার্ট আপে বিনিয়োগ বা স্টার্ট আপটির ব্র্যান্ডিং করতে চাইছেন। উদ্যোগীরা তাঁদের আইডিয়াগুলি পিচ করলেন। বিনিয়োগকারী, অন্যান্য পেশাদারদের সঙ্গে যোগসূত্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে উদগম-এর বিশেষ ভূমিকা আছে। এছাড়া সেরা পিচিংয়ের জন্যে ছিল ২৫,০০০ টাকা ও ৩০,০০০ টাকার নগদ পুরস্কার। পিচিং হয়েছে দুটি রাউন্ডে। আয়োজিত হয় ক্যাম্পাস অ্যাম্বাসাডর প্রোগ্রামও।

Related Stories