পরিশ্রম ও আইডিয়ার অভিনবত্বেই Mobikwik এর উপাসনা সফল

0

উপাসনা টাকুরের সংস্থার নাম MobiKwik। সংস্থাটি যখন ভারতে কাজ আরম্ভ করে সেইসময় ক্যাশলেস পেমেন্ট সম্পর্কে ভারতীয়দের কোনও স্বচ্ছ ধারনা ছিল না। উপাসনার সংস্থা MobiKwik ভারতের প্রথম মোবাইল ওয়ালেট সংস্থা।

সুরাটে স্কুলের লেখাপড়া করেছেন উপাসনা। এরপর সুযোগ পেয়ে যান ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব টেকনোলজিতে পড়বার। এখান থেকে বি টেক করেন। পরে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে ম্যানেজমেন্ট সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনীয়ারিং নিয়ে পড়েছেন।

এরপর আমেরিকায় HSBC তে যোগ দেন। মার্কেটিং থেকে শুরু করে মার্কেট রিসার্চ – কর্মজীবনের শুরুতে নানা ক্ষেত্রে হাত পাকাতে থাকেন উপাসনা। পরে যোগ দেন মার্কিন সংস্থা PayPal –এ। উপাসনা জানালেন, এখানে তিনি পেমেন্ট সিস্টেম সম্পর্কে অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন।

২০০৮ সাল নাগাদ নিজে কিছু করবার কথা ভাবতে গিয়ে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন উপাসনা। ২০০৯ সালে ভারতে ফেরেন। ততদিনে যথেষ্ট অভিজ্ঞতাও সঞ্চয় করেছেন।

উপাসনা জানালেন, এই সময়েই তাঁর আলাপ হয় বিপিনের সঙ্গে। আলাপ থেকে প্রেম। বিপিনও তখন নিজে কিছু করবার কথা ভাবছিল। আমরা দুজনে্ মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে MobiKwik –এর জন্ম দিলাম।

২০১০ সালে উপাসনা তাঁর সংস্থার প্রথম কর্মী নিয়োগ করেন। এর এক বছরের ভিতর স্বামী-স্ত্রীকে নিয়ে সংস্থার মোট কর্মীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৬জন। প্রতিভাবান ছেলেমেয়েরা সেইসময় স্টার্ট আপগুলি্তে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে ইতস্তত করতেন।

উপাসনা বললেন, আসলে তখন স্টার্ট আপ সম্পর্কে এদেশে তেমন পরিষ্কার ধারনাও গড়ে ওঠেনি।

নিজেদের বসবাসের ফ্ল্যাটটিতেই সংস্থার যাত্রা আরম্ভ হল। ২৪ ঘণ্টাই কাজ হত। সংস্থায় তখন যে কয়েকজন কর্মী ছিলেন, তাঁদের জন্যে নিজ হাতে রান্নার ব্যবস্থাও করতেন উপাসনা।

সেই সংস্থায় এখন মোট কর্মীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫০জনের বেশি্। দ্বারকায়, গুরগাঁওতে বড় অফিস নেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে গত কয়েক বছর ধরে প্রতি বছরই ভালো অঙ্কের ফান্ডিং পাচ্ছে MobiKwik। ২০১৩ সালে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের পিপিআই লাইসেন্সও পেয়েছে এই সংস্থা। এরপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

২০১৪ সালে প্রথম দফায় ৫ মিলিয়ন ডলার ফান্ডিং পেয়েছে MobiKwik।

Sequoia Capital, American Express, Tree Line Asia, Cisco Investment এর কাছ থেকে ২০১৫ সালে ফান্ডিং হয়েছে ২৫ মিলিয়ন ডলার। ২০১৬ সালে এটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ মিলিয়ন ডলারে। বর্তমানে ৩৫ মিলিয়ন গ্রাহক MobiKwik এর পরিষেবা নিচ্ছেন।