বর্জ্য থেকে শক্তির খোঁজে মাথা খাটাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীরা

0

স্বচ্ছ ভারত অভিযান মানে শুধু চারপাশটা পরিষ্কার রাখা নয়। এটা একটা মিশন। কীভাবে মিশন সফল হবে তার নানা দিক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের একটা প্যানেল প্রতিনিয়ত কাজ করছে। সম্প্রতি ওই প্যানেলের একটা সভা হয়ে গেল চণ্ডীগড়ে। এই প্যানেলের মতে, বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনই এর থেকে মুক্তির একমাত্র উপায়। প্রধানমন্ত্রীকে এই নিয়ে শিগগিরই একটা রিপোর্ট দেবে মুখ্যমন্ত্রীদের প্যানেল।

পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্ধ্রের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নাইডুর নেতৃত্বে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীদের সাব গ্রুপ একটা বৈঠক করে। বৈঠকে মহারাষ্ট্র, মিজোরাম, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রীদের পাশাপাশি আরও ৭টি রাজ্যের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। দ্বিতীয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় এক প্রশ্নের উত্তরে চন্দ্রবাবু নাইড়ু বলেন, ‘পাওয়ার সেক্টরে এমন বিনিয়োগকারীও রয়েছেন যারা আবর্জনা সংগ্রহ করে, প্রসেসিং করে পাওয়ার প্ল্যান্টে পর্যন্ত পৌঁছে দেবেন, যেখান থেকে শক্তি উৎপাদন হবে’। তিনি বলেন, জল, সৌর, তাপ-কোন পাওয়ার প্ল্যান্টে বর্জ্য ব্যবহার হবে তার উপর নির্ভর করে শুল্ক ঠিক হবে। ‘আমরা একটা স্থায়ী মডেল তৈরি করতে চাই। বর্জ্যকে শক্তিতে পরিনত করতে চাই। এমনকী তরল বর্জ্যও প্রযুক্তির মাধ্যমে পানীয় জলে পরিনত করা যায়, সিঙ্গাপুর তা দেখিয়েও দিয়েছে’, চন্দ্রবাবু বলেন।

প্যানেলের প্রথম বৈঠকটি হয় দিল্লিতে। এবার পরের বৈঠক হবে বেঙ্গালুরুতে। ‘বৈঠক ফলপ্রসূ হয়েছিল। কেন্দ্রের নানা বিভাগ তিনটি প্রেজেনটেশন দিয়েছিল। একটি বিশেষজ্ঞ দলের প্রযুক্তিগত প্রেজেনটেশনও ছিল। প্রজেক্টটা নিয়ে কীভাবে এগোন যায় সেই প্রসঙ্গে সব সদস্যরাই দারুণ দারুণ সব আইডিয়া দিয়েছিলেন। শুধু রিপোর্ট তৈরিতে নয়, প্রকল্পকে কীভাবে বাস্তবে রূপ দেওয়া যায় তার ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে’, জানান নাইড়ু। একটা উদাহরণ টেনে নাইডু বলেন, দিল্লির ওখলায় ২০ মেগাওয়াট শক্তি বর্জ্য থেকে উৎপন্ন হয়। ‘খুব ভালো কাজ দিচ্ছে। সারা বিশ্বে বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনের পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। চিন, জাপান, আমেরিকায় এই ধরনের প্ল্যান্ট ইতিমধ্যে চালু হয়েছে’। তিনি আবার বলেন, হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার প্রস্তাব দিয়েছেন স্যানিটেশনকে স্কুলের সিলেবাসে জুড়ে দিতে, যাতে ছোটবেলা থেকে নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা এবং আশেপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার অভ্যেস গড়ে ওঠে।

বর্জ্য পুনর্ব্যবহারের ক্ষেত্রে নাইডু বলেন, ‘আমরা কিছু প্রাথমিক আলোচনা সেরে রেখেছি। ভারত সরকারও এই ব্যাপারে যথেষ্ট উৎসাহী। পাওয়ার সেক্টরে সেন্ট্রাল রেগুলেটরি কমিশনও আগ্রহী’। তিনি বলেন, প্রকল্পের সঠিক বানিজ্যিকীকরণ হলে বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনের ক্ষেত্রে পার ইউনিটে খরচ অনেকটা কমে যাবে।