ভারতে ভল্‌ভো কেবল কর্নাটকেই

0
"আমরা একমাত্র কর্ণাটক রাজ্যেই বিনিয়োগ করছি" - কমল বালি, এম.ডি., ভল্ভো ইন্ডিয়া

‘ইনভেস্ট কর্ণাটক ২০১৬’ এর দ্বিতীয় দিনের গ্লোবাল ইনভেস্টরস মিটে ভারতে ভল্ভো গ্রুপের জার্নির কথা বলছিলেন সংস্থার ম্যানেজিং ডিরেক্টর কমল বালি। বলছিলেন বেঙ্গালুরু ও কর্নাটক কিভাবে তাঁদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় তৈরি করেছে। এক দুই তিন রীতিমত যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন বিনিয়োগকারীরা একটি সরকারের কাছ থেকে ঠিক কী চায়।

কর্ণাটক – একটি অবশ্যম্ভাবী গন্তব্য

কর্নাটকের আর্থিক বৃদ্ধি ২০১৪-১৫ সালে ভারতের জিডিপি তে ৫.৬৮ শতাংশ অবদান রেখেছে। এবং এই কারণেই ভারতে ভল্ভো সংস্থাকে সুষ্ঠুভাবে চালনার জন্য কর্ণাটক ছিল প্রথম পছন্দের স্থান। আর এই প্রসঙ্গে তিনি কর্ণাটকের শিল্প-বন্ধু সরকারের সুগম ও সর্বক্ষেত্রে সহায়তাকারী চরিত্রের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন,

একমাত্র কর্ণাটক রাজ্যেই আমরা বিনিয়োগ করেছি। বেঙ্গালুরুর প্রধান এক্স ফ্যাক্টরগুলি হল এখানকার কসমোপলিট্যান্ট পরিবেশ, আবহাওয়া, যথেচ্ছ পরিমাণ ট্যালেন্টেড কর্মচারী ও উচ্চমানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। আর সেই সঙ্গে রয়েছে প্রধান প্রধান আইটি, টেলিকমিউনিকেশান ও ভারি শিল্প সংস্থাগুলির উপস্থিতি ও সারা রাজ্য জুড়ে উচ্চমানের টেলিকমিউনিকেশান নেটওয়ার্ক ও অপটিক্যাল ফাইবার কানেক্টিভিটি।


কর্ণাটকে ১৭ বছর

ভল্ভো গ্রুপ ১৯৯৮ সালে বেঙ্গালুরুতে তাদের ‘গ্রুপ ট্রাক’ কারখানা প্রতিষ্ঠা করে এবং ২০১৪ সালে তাদের নতুন ভ্যালু ট্রাকের মাধ্যমে ব্যবসাকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। ২০০৭ সালে তারা ভল্ভো বাস তৈরির কারখানাও নির্মাণ করে এবং ২০১৩ সালে তাদের অগ্রগতির পদচিহ্ন গিয়ে ঠেকে একশ শতাংশে। এবং এই উন্নয়নশীল শিল্পনীতি কে সম্বল করে ২০১৪ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তাদের লক্ষ্য বাৎসরিক ১২ শতাংশ শিল্প বৃদ্ধি।

এছাড়া চলতি পলিসি পিরিয়ডে কর্ণাটকের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে তাদের জিডিপি অবদানকে ১৬.৮৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশয় নিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া সংস্থার অন্যান্য লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে পাঁচ লক্ষ কোটি টাকার বিনিয়োগ নিয়ে আসা এবং প্রায় ১৫ লক্ষ কর্ম সংস্থান।

কর্ণাটক এবং ভারতীয় উপমহাদেশে সাফল্য

ভল্ভো সংস্থার বিশ্বাস যে কর্ণাটকে (এবং ভারতে) তাদের সাফল্যের পিছনে রয়েছে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংস্থার পরিকল্পনা নির্ধারণ যার মধ্যে রয়েছে পরিবেশ বান্ধব প্রোডাক্ট নির্মাণ, নগরায়নে সাহায্য করা, জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও স্কিল ডেভেলপমেন্টে সাহায্য করা। তাদের লজিস্টিক্স, টেলিমেটিক্স, ট্রাক টেকনোলজি ও আইটি পরিষেবার সাহায্যে সংস্থাটি ৩৬০ ডিগ্রী ফুটপ্রিন্ট তৈরি এবং ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’তেও আগ্রহী। বর্তমানে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মচারী ও ৪০০ জন সেলস ও সার্ভিস বিভাগীয় আধিকারিক সহ বেঙ্গালুরুর হোসকোটে ও পীন্যা এবং মধ্যপ্রদেশের পিথাম্বরে ভল্ভোর কারখানা রয়েছে।

ভারতে নির্মাণ ও বণ্টনের পাশাপাশি লাতিন আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভল্ভো তাদের নির্মাণ সামগ্রী ও যন্ত্রপাতি রপ্তানি করে থাকে। এই সংস্থার বাসগুলি বর্তমানে দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়াতে রপ্তানি হচ্ছে, এবং শীঘ্রই এই লিস্টে যুক্ত হতে চলেছে ইউরোপের নামও। উন্নতমানের রাস্তা নির্মাণের মাধ্যমে দ্রুতগতির উন্নত যোগাযোগ পরিষেবা নির্মাণেও আগ্রহী হয়েছে তারা। এছাড়া তারা ভারতীয় নেভি ও উপকূল রক্ষী বাহিনীকেও নিজেদের পরিষেবা দিয়ে সাহায্য করছে।

‘ভল্ভো অপারেটর আইডল কম্পিটিশন’ ও ‘ভল্ভো ফুয়েল ওয়াচ চ্যালেঞ্জ’ এর মত বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সংস্থাটি তাদের অপারেটর ও ড্রাইভারদের মধ্যে নিরাপত্তার মান ও জ্বালানী বাঁচানোর কার্যকারিতার দিকটি তুলে ধরছে।

ভল্ভো-জিএমআর পার্টনারশিপের মাধ্যমে সংস্থাটি বেকার যুবক যুবতীদেরকে ট্রেনিং দিয়ে হায়দ্রাবাদ ও দিল্লীর সাইটে এবং বেঙ্গালুরুর CE ডেমো সেন্টারে অপারেটর হিসাবে নিযুক্ত করছে। এছাড়া ‘রাস্তা অ্যাকাডেমি’ উন্নতমানের রাস্তা নির্মাণে পরামর্শ দিচ্ছে এবং রোড টেকনলজিতে পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু করেছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ভল্ভোর বিশ্বাস ভবিষ্যৎবানীকে সফল করার শ্রেষ্ঠ উপায় হল নিজের ভবিষ্যৎ নিজে তৈরি করা। আর তাই তাদের লং-টার্ম পরিকল্পনা হল নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ পরিষেবা দানে এক নম্বর স্থান দখল করা। আর এই লক্ষ্য পূরণে তারা পাঁচটি মূল মন্ত্র নিয়ে এগিয়ে চলেছে যা তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে দিতে পারে। আর সেগুলি হল -  

১. ডিজিটাল বিপ্লব

২. অর্থনৈতিক ভরকেন্দ্রের পশ্চিম থেকে পূর্বে স্থান পরিবর্তন

৩. অর্থনৈতিক অসাম্যের বৃদ্ধি

৪. মানুষের সঙ্গে পৃথিবীর সম্পর্কে বদল

৫. দ্রুত নগরায়নের  

কর্ণাটকে ভল্ভোর ভবিষ্যতের পরিকল্পনাগুলির মধ্যে রয়েছে বাসে হাইব্রিড প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ৪০ শতাংশ জ্বালানী বাঁচানো, নির্গমন ও কার্বন পদচিহ্নকে ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনা এবং যাত্রীদের কাছে জার্নিকে আরও উপভোগ্য করে তোলা। কমল তাঁর বক্তব্যের শেষে এমন কিছু প্রস্তাব রাখেন যা কর্ণাটক রাজ্যকে একটি অতুলনীয় গ্লোবাল গন্তব্যে পরিণত করে তুলতে পারে।  

১. শ্রম আইন ও সেই সংক্রান্ত জটিলতাগুলিকে আরও সহজ করে তোলা যার মাধ্যমে যুব সমাজের কর্ম সংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও স্থায়িত্ব সুনিশ্চিত হবে।

২. রাস্তায় যানজট কমানোর মাধ্যমে পরিকাঠামো বৃদ্ধি, বিমানবন্দর ও বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও জঞ্জাল সাফাই ব্যবস্থার উন্নতি ঘটানো।

৩. পণ্য ও পরিষেবা কর (GST) চালু করে কর সংক্রান্ত জটিলতাকে কমিয়ে আনা এবং ট্রান্সফার প্রাইসিং (TP) কে সহজতর করা।

৪. উন্নত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের মাধ্যমে স্কিল ডেভেলপমেন্টের দিকে নজর দেওয়া ও সিঙ্গল উইন্ডো ক্লিয়ারেন্সের পরিষেবা কে আরও উন্নত করে তোলা।


স্টোরি - Harshith Mallya

অনুবাদ - শঙ্খ শুভ্র গাঙ্গুলি