দীর্ঘ লাইন? সমাধান দিচ্ছে স্মার্ট কিউ

0

আপনার ‘নাক উঁচু’ বসের বেখাপ্পা সব ম্যানারিজম নিয়ে অফিস ক্যান্টিনে একটু পিএনপিসি করবেন বলে ভেবেছিলেন, কিন্তু লাইনের ঠেলায় সব মাটি। টাকা দেওয়া, কুপন নেওয়া তারপর খাবার পেতে পেতেই লাঞ্চ টাইম শেষ। পিএনপিসির পরিকল্পনায় জল ঢেলে, কোনওমতে নাকে-মুখে গুঁজে তেতো মুখেই ফিরতে হল তো ডেস্কে!

একই সমস্যায় ভুগতেন স্মার্ট কিউ-এর প্রতিষ্ঠাতা কৃষ্ণা ওয়াগে। ওঁর কথায়, ‘‘দেড়টার সময় যেতাম অফিস ক্যান্টিনে। কিন্তু ভিড়, আর লম্বা লাইন‌। খাবার পেতে পেতেই তিরিশ-চল্লিশ মিনিট শেষ। ঠিক করলাম লাইনের কারণটা খুঁজে বের করতে হবে।’’

ভাগ্যিস অভিষেক, অশোক এবং সুজিত লালওয়ানিকে সঙ্গী করে সত্য সন্ধানে নেমেছিলেন কৃষ্ণা। দীর্ঘ লাইনের রহস্যভেদ করে তাঁরা সৃেষ্টি করলেন নতুন অ্যাপ। স্মার্ট কিউ। লাইনে দাঁড়িয়ে গলদঘর্ম হওয়ার দিন শেষ। অ্যাপের কল্যাণে ভিড় এড়িয়ে খাবার পাবেন বিদ্যুতের বেগে। মুরগির ঠ্যাং চিবোতে পারবেন মনের সুখে।

ডিজিটাল কিউ

কর্পোরেট জগতের বেশিরভাগ ফুডকোর্টে খাবার তৈরি থাকে। শুধু অর্ডার দিতে হয়। তা সত্ত্বেও এত দেরী কেন? কৃষ্ণা ওয়াগের মতে, ক্যাশিয়ারকে বিল তৈরি করতে হয়, টাকা গুনতে হয়। সেই বিল যায় ওয়েটারের কাছে। ওয়েটার আবার খাবারের অর্ডার নিয়ে যাবেন কিচেনে। সেই খাবার ওয়েটারের হাত ঘুরে আপনার টেবিলে আসতে আসতে আধ ঘণ্টা শেষ। গোটা প্রক্রিয়াটাকে আধ ঘণ্টা থেকে পাঁচ মিনিটে নামিয়ে এনেছে কৃষ্ণা, অভিষেক এবং সুজিতের তৈরি অ্যাপ-স্মার্ট কিউ।

কৃষ্ণার দাবি, নামের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তাদের অ্যাপ যেমন স্মার্ট, সেরকমই আধুনিক। ডেস্ক থেকে ক্যান্টিনের যাওয়ার পথে অ্যান্ডড্রয়েড ফোনের স্মার্ট কিউ থেকে দেখে নেওয়া যাবে আজকের মেনু। অর্ডার করুন। বিশেষ সফটওয়ারের দৌলতে ক্যান্টিনের কম্পিউটারে পৌঁছে যাবে আপনার বার্তা। যান্ত্রিক পদ্ধতিতে বেরিয়ে আসবে দুটো রিসিট। একটা চলে যাবে কিচেনে, এবং অন্যটা ওয়েটারের জন্য। এতে সময়ও বাঁচল। আর ক্যান্টিনে পা দেওয়া মাত্র কোড নম্বর মিলিয়ে আপনাকে দেওয়া হবে খাবারের থালা।

লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ

‘‘রেস্টুরেন্ট কিংবা অফিস ক্যান্টিন যে পদ্ধতিতে চলে তা আমরা বাতিল করিনি। বরং প্রচলিত ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখেই কাজের গতি বাড়িয়ে নিয়েছি।’’ বললেন কৃষ্ণা। এই মুহূর্তে ভারতে ফুড কোর্ডে ব্যবসার অঙ্কটা ২৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি। কিন্তু লাইনের ধাক্কায়, কর্মীদের গাফিলতিতে ব্যবসার একটা বড় অংশ নষ্ট হচ্ছে। কৃষ্ণার কথায়, ‘‘স্মার্ট কিউ হল বিপ্লব। সময় অপচয়ের বিরুদ্ধে নতুন আন্দোলনের নাম।’’

প্রতি ঘণ্টায় এক লক্ষ পর্যন্ত অর্ডার নিতে পারে স্মার্ট কিউ। ৬ মাস আগে কৃষ্ণারা যখন ব্যবসা শুরু করেছিলেন, সে সময় গ্রাহক ছিল সাকুল্যে আট হাজার। সংখ্যাটা বাড়তে বাড়তে ২৫ হাজার ছাড়িয়ে গিয়েছে। প্রতিদিন লেনদেনের পরিমাণ প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।

পরিষেবার জন্য ক্যান্টিনের কাছ থেকে যেমন লেনদেন পিছু নির্ধারিত মূল্য নেওয়া হয়। নামমাত্র টাকা দিতে হয় গ্রাহকদেরও। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে গাঁটছাড়া বেঁধে কুপনের সঙ্গে বেশ কিছু অফার দিচ্ছে স্মার্ট কিউ। কখনও উপহার, কখনও বা ফ্রি লাঞ্চ।

‘‘যেখানে যত লাইন, বিকল্প হিসেবে স্মার্ট কিউকে ব্যবহারের জন্য আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। হয়তো হাসপাতাল থেকে শপিং মল এমনকী অফিসের কাজেও এর ব্যবহার শুরু হবে।’’ আশায় বুক বেঁধে কৃষ্ণা জানালেন, মাস দুয়েকের মধ্যে দেশের ১৫টা মাল্টিপ্লেক্স এবং শপিং মলে ঢুকে পড়বে স্মার্ট কিউ।

লেখক- বিঞ্জল শাহ, অনুবাদ- তন্ময় মুখোপাধ্যায়