শিল্পকলার মানচিত্রে ঘুরিয়ে আনে বাংলা নাটক

1

অবসর নেওয়ার পর নতুন বাড়িতে পা রেখেছেন বীরেন দত্ত। গিন্নির খুব শখ বীরভূমের বিকনা গ্রামের ডোকরার শোপিসে সাজবে বসার ঘর। মেয়ের ঘরে দক্ষিণ দিনাজপুরের কুশমান্ডিগ্রামের বিখ্যাত কাঠের মুখোশ লাগাবেন। হস্তশিল্পের মেলা ঘুরে ঘুরে অনেকটাই জোগাড় করে ফেলেছেন কত্তা-গিন্নি। জিনিসগুলি হাতে নিয়ে দুজনেরই খালি মনে হত, এমন সুন্দর কারুকার্য বহুদিনের সাধনার ফসল হবে হয়তো। বদলির চাকরি মেয়ের পড়াশুনোর চাপে ইচ্ছে হলেও কখনও হয়ে ওঠেনি এইসব কাজ যেখানে হয় সেখানে গিয়ে নিজে চোখে দেখার ইচ্ছে পূরণ। সময় হলেও কীভাবে যাবেন, কোথায় থাকবেন, সাতপাঁচ ভাবতেই কেটে গিয়েছে দিন। দত্ত পরিবারের মতো আরও অনেকে আছেন পুরুলিয়ার ছৌ মুখোশ অথবা পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার পটশিল্প এবং শিল্পীদের কাজ করার ধরণ এবং তাঁদের জীবনযাত্রা একদম কাছ থেকে দেখতে চান। এবার তাঁদের কথা ভেবেই তৈরি হল পর্যটন প্যাকেজ।

বাংলার লোকশিল্পের সঙ্গে পর্যটনকে মিশিয়ে অভিনব প্যাকেজ। ট্যুরিস্ট ডেস্টিনেশন হিসেবে বাংলাকে পর্যটকদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্যোগ রাজ্যের পর্যটন দফতরের। যৌথ উদ্যোগে সঙ্গী বাংলা নাটক ডট কম। সঙ্গে রয়েছে খাদিও। প্রত্যেক উইকএন্ডে ট্যুর।পুরুলিয়ার ছৌ অথবা পিংলার পটশিল্পে মজে যেতে যেতে গোটা এলাকা চষে ফেলার সুবর্ণ সুযোগ থাকছে পর্যটকদের জন্য।

ট্যুর প্যাকেজের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে ১৩টিগ্রাম। ‘এই সব গ্রামে গিয়ে পর্যটকরা এই লোক শিল্পীদের কাজের সঙ্গে পরিচিত হচ্ছেন। থাকার ব্যবস্থাও করছেন উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি কলকাতায় এই শিল্পীদের এনে স্কুল পড়ুয়াদের সঙ্গে একাধিক কর্মশালার আয়োজন করা হচ্ছে। স্কুল পড়ুয়ারা জানতে পারছে এই লোকশিল্পের কথা’, প্রকল্প সম্পর্কে বলছিলেন ফিল্ড কোঅর্ডিনেটর সিলভিয়া রায়। আরেকটু খোলসা করে বললে হোমস্টের ব্যবস্থা। সব উইকএন্ডে প্যাকেজ ট্যুর আছে। পর্যটন দফতরের ওয়েবসাইট অথবা সরাসরি যোগাযোগ করে ট্যুর বুকিং করা যায়। পর্যটকদের ইচ্ছে মতো বুকিং করা প্যাকেজ ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়। শিল্পীদের বাড়ির আশেপাশে অথবা তাদের বাড়িতে রেখে শিল্পকর্ম এবং শিল্পীদের জীবনযাত্রা দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়। তাছাড়া আশেপাশের ট্যুরিস্ট স্পটগুলি ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা থাকে।

এতো গেল পর্যটকদের জন্য সুব্যবস্থার কথা। লোকউৎসবের মেলাই পর্যটন পযাি কেজের মূল আকর্ষণ। শিল্পীদের নিয়ে বিভিন্ন জেলায় মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এই মেলা ঘিরে পর্যটকরা ভিড় করছেন গ্রামগুলিতে। আবার স্কুল কলেজ পড়ুয়াদের জন্য কর্মশালার আয়োজন করা হয় মেলাগুলিতে। শিল্পীদের কাছ থেকে সরাসরি হাতের কাজ শেখা এবং দেশজ শিল্পের সঙ্গে স্কুলপড়ুয়াদের পরিচিতি ঘটানোই এইসব কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।