ডিজিটাল ভিডিও চ্যানেল Trendspotters.tv

0

প্রথম ভেঞ্চার চূড়ান্ত সফল। কুণালকিশোর সিনহা ফের নতুন স্টার্টআপ নিয়ে হাজির। বেশ কিছুদিন আগে Value360 নামে যোগাযোগ সংস্থা গড়েছিলেন কুণাল। এখন সারা দেশে ৫টি শহরে Value360 এর অফিস মসৃনভাবে চলছে। ‘গতবারের ভেঞ্চারে আমার ভূমিকা সক্রিয় উদ্যোক্তা থেকে মেন্টরে পরিণত হয়ে গিয়েছিল। তাই নতুন চ্যালেঞ্জের খোঁজ করছিলাম। নানা বিজনেস আইডিয়া পর্যালোচনা করে শেষ পর্যন্ত Trendspotters.tv তে এসে নোঙর ফেলি’, বলেন কুণাল। ট্রেন্ডস্পটার্স হল এমন একটি মঞ্চ যার মাধ্যমে একটা নির্দিষ্ট প্রজন্মের জন্য ভিডিও তৈরি করা হয়। ইন্টারনেটে সেই ভিডিও দেখা হয়।

কমিউনিকেশনের ব্যবসা নিয়ে গবেষণার সময় কুণাল একটা সাইট নিয়ে দারুণ উৎসাহিত হয়ে ওঠেন। ইন্টারনেটে ভিডিও কনটেন্ট-এমন সুবর্ণ সুযোগ দেখে ভালো লেগে যায়। আইডিয়া উৎসাহিত করে কুণাল এবং তাঁর টিমকে। ‘উদ্যোক্তা হিসেবে আমার লক্ষ্য একেবারে শূণ্য থেকেও কিছু একটা ফল বের করে আনা। ছক বাঁধা পথে চলিনি আমরা। লক্ষ্যে পৌঁছানোর চাইতে, যাত্রাটাই বেশি উপভোগ করি’, বলেন কুণাল।

আরও দুই সহ প্রতিষ্ঠাতা গৌরভ পাত্র এবং মণীষা চৌধুরীকে নিয়ে কুণাল ডিজিটাল ভিডিও চ্যানেল তৈরির তোড়জোড় শুরু করেন। তিনজনেরই এটি দ্বিতীয় ভেঞ্চার। তাঁদের প্রথম ভেঞ্চার পিআর ফার্ম Value360। ‘যদিও Trendspotters.tv শুরু করার আইডিয়া আমারই ছিল। কিন্তু এখন আমার দুই সহ প্রতিষ্ঠাতা গৌরব এবং মণীষা এই ভেঞ্চার চালানোর রসদ যোগাচ্ছেন’, জানান কুণাল। কো-ফাউন্ডারদের নতুন ভেঞ্চারে রাজি করাতে কুণালকে কোনও চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়নি। যখন দুই পার্টনারকে নিজের আইডিয়ার কথা জানান, কুণালের চাইতে বাকি দুজনের বিশ্বাস আরও বেশি ছিল, জানান সফল উদ্যোক্তা।

যে কোনও স্টার্টআপে টিমই হল মেরুদন্ড। সব সদস্যকে একই আবেগ নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ‘এই বছর মিডিয়ায় প্রচুর ছাঁটাই হয়েছে। সেই সুযোগটা নিলাম আমরা। টেলিভিশন, রেডিও এবং প্রিন্ট মিডিয়া থেকে কিছু মেধাবী কর্মীকে তুলে নিলাম’, কুণালের সংযোজন। এই বছরের জুনে শুরু হয়ে ট্রেন্ডস্পটার এক মাসের মধ্যে অ্যানড্রয়েড অ্যাপ চালু করেছে। বিনোদন, ফ্যাশন, সঙ্গীত এইসব ক্ষেত্রে ট্রেন্ডস বুঝে ট্রেন্ডস্পটার্স নানা কনটেন্ট তৈরি করে। ট্রেন্ডস্পটার্সের অনেকগুলি ইউটিউব চ্যানেল আছে যেখানে ওই ভিডিও দেখা যায়। মূলত টেলিভিশন দর্শকদের কথা ভেবেই ওই কনটেন্ট তৈরি করা। যদিও মূল ধারার মিডিয়ায় যা দেখা যায় না সেই ধরনের কনটেন্টই তৈরি করে ট্রেন্ডস্পটার্স। ‘আমরা কিছু ইউনিক কনটেন্ট তৈরিতে মন দিয়েছি, মানুষের মধ্যে যার সাড়া ব্যাপক’, ব্যাখ্যা করেন কুণাল। যে কোনও অনলাইন কনটেন্ট ব্যবসার ক্ষেত্রে টাকা রোজগারের কথা ভাবার আগে আকর্ষণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। ট্রেন্ডস্পটার্সও এখনই টাকা রোজগারের দিকে মন না দিয়ে আপাতত মার্কেটিং এবং জনসচেতনতা তৈরির কাজ সেরে নিচ্ছে। ভবিষ্যতে অবশ্য টাকা রোজগারের কথা ভাববে। আয়ের জন্য আন্তর্জাতিক চ্যানেলগুলিকে কনটেন্ট দেবে। এই চ্যানেলগুলি ব্র্যান্ডেড এবং স্পন্সর্ড কনটেন্টকে টার্গেট করে যার মধ্যে গ্রাউন্ড ইভেন্ট এবং ডিজিটাল অ্যাডভারটাইজিংও রয়েছে।

দেশ তো বটেই, দেশের বাইরে থেকেও ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে ট্রেন্ডস্পটার্স। ‘ভারত ছাড়াও আমেরিকা, আরব আমিরশাহি, সৌদিআরব, ব্রিটেন এবং কানাডা সহ উল্লেখজনকভাবে ২৬টি দেশ থেকে সাড়া পাচ্ছি আমরা’, জানান কুণাল। ট্রেন্ডস্পটার্স ইতিমধ্যে ১লক্ষ ৭৫ হাজার দর্শক পেয়েছে। তারমধ্যে ৬২ শতাংশই মোবাইল থেকে। কম্পিউটার, মোবাইল, ট্যাবলেট ছাড়াও টেলিভিশন এবং গেমিং থেকেও দর্শক পায়। অল্প সময়ের মধ্যে ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবের মাধ্যমে ৪৫ হাজারের বেশি ফলোয়ার জড়ো করেছে। ‘নতুন ব্যবসায় প্রতিদিনই নতুন কিছু শেখা হয়। আমরাও প্রতিদিন শিখছি আর সেই মতো ব্যাবসার নীতি ঠিক করছি। এখন নতুন ইউজার ইন্টারফেস নিয়ে কাজ করছি। এর মাধ্যমে সাইটটি গ্রাহকদের জন্য আরও ইন্টারঅ্যাকটিভ হয়ে উঠবে’,কুণাল যোগ করেন। মার্কেটিংয়ে আরও পুঁজি বিনিয়োগ করবে সংস্থাটি। মোবাইল অ্যাপও রিলিজ করা হবে। ‘অনলাইন ভিডিও চ্যানেলে আমরা নেটওয়ার্ক হয়ে উঠতে চাই। তার ফলে দর্শকদের সঙ্গে জুড়ে যেতে বিজ্ঞাপনদাতারাও নতুন মঞ্চ পাবেন’, শেষ করেন কুণাল।