VLCC-র বন্দনা লুথরা সাফল্যেই সুন্দর

1

বন্দনা লুথরা ভারতের প্রথম যুগের সফল উদ্যোগপতিদের ভিতর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি নাম। ১৯৮৯ সালে দিল্লিতে VLCC নামে একটি ওয়েলনেস সেন্টার চালু করেন বন্দনা। সংস্থার উদ্দেশ্য ছিল স্বাস্থ্য ও সৌন্দর্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি। বন্দনার হাতে গড়া সেদিনের সেই সংস্থা এখন আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত। ২০০৫ সালে VLCC চালু হয় দুবাইতে। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার ১১টি দেশে চুটিয়ে ব্যবসা করছে। ব্যবসা করছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া জুড়েও। বন্দনা জানিয়েছেন, আমেরিকাতেও VLCC খুব শীঘ্রই ব্যবসা চালু করতে চলেছে।

ভারতে হরিদ্বারে এবং সিঙ্গাপুরে সংস্থার প্রোডাক্ট তৈরির কারখানা আছে। অথচ, একসময় নিজের উদ্যোগে ব্যাঙ্ক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালু করেছিলেন বন্দনা। পারিবারিক সদস্যদের কাছ থেকে এমনকি স্বামীর কাছ থেকেও আর্থিক সহায়তা তিনি নেননি। কেননা বন্দনা নিজেই কিছু একটা করে দেখাতে চেয়েছিলেন। বন্দনার সেই প্রয়াস এখন পুরোপুরিভাবে সফল বলা যেতে পারে।

একজন মহিলা উদ্যোগপতি হিসাবে বহু ধরনের স্বীকৃতি পে্য়েছেন বন্দনা। ২০১৩ সালে পদ্মশ্রী উপাধিতে ভূষিত করা হয় তাঁকে। ২০১৫ সালে ফরচুন ইন্ডিয়া ভারতের ক্ষমতাশালিনী ৩৩জন মহিলা উদ্যোগপতির তালিকায় বন্দনাকে ঠাঁই দিয়েছে। নরেন্দ্র মোদির সরকার তাঁকে Beauty & Wellness Sector Skill Council এর চেয়ারপার্সন হিসাবে নিয়োগ করেছে। নয়াদিল্লির Morarji Desai National Institute of Yoga এর একজন বিশিষ্ট সদস্য হিসাবেও মনোনীত হয়েছেন বন্দনা। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী কৌশল বিকাশ যোজনার সাব-কমিটির একজন সদস্য হিসাবে মনোনীত হয়েছেন। এটি কেন্দ্রীয় সরকারের Skill Development & Entrepreneurship বিভাগের অধীনস্থ। বলাবাহুল্য, স্বীকৃতির তালিকাটা বন্দনার ক্ষেত্রে বেশ দীর্ঘই।

তবে গোড়ার দিকে ব্যাপারটা খানিক কঠিনই ছিল। বন্দনা বলেছেন, হ্যাঁ, আমাকেও নানা ধরনের বিরূপ সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছে। তবে শেষপর্যন্ত আমি পেরেছি। আমার জিদই আমার সাফল্যের মূল রহস্য।

বন্দনা আরও জানিয়েছেন, প্রথম দিনটি থেকেই VLCC কাজ করে চলেছে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের সঙ্গে। এঁদের ভিতর রয়েছেন নিউট্রিশনিস্ট ও কসমেটোলজিস্টরা। বন্দনা জন্মেছিলেন মধ্যবিত্ত পরিবারে। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর পরিবারের লেখাপড়ার চল ছিল খুবই। বাবা ছিলেন পেশায় ইঞ্জিনীয়ার। একভাই সেন্ট স্টিফেন্স কলেজের অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন। মা ছিলেন আয়ুর্বেদিক চিকিত্সক। পারিবারিক এই আবহই তাঁকে বেড়ে উঠতে সহায়তা করেছে বলে মনে করেন বন্দনা লুথরা।

Related Stories