কী চাই বলুন? খোঁজ দেবে Qyk অ্যাপ

0

বিয়ের জন্য পাত্রী নয়. একটা ফটোগ্রাফার খুঁজতে গিয়ে রীতিমতো কালঘাম ছুটেছিল দীপক সিঙ্ঘালের। একে তাকে বলে রেখেও মনেরমতো ফটোগ্রাফার খুঁজে পাচ্ছিলেন না। মাথায় আসে অনলাইনের গিয়ে খোঁজার আইডিয়া। নাহ, সেখানেও তেমন কিছু হল না। শেষ পর্ষন্ত এক বন্ধুই ভালো এক ফটোগ্রাফারের সন্ধান দেন। সেবারের মতো সমস্যা মিটলেও দীপকের মন থেকে সেই ভোগান্তির কথা মুছে যায়নি। ভাবতে থাকেন কী করা যায়। আরও অনেককিছুর শুরু যেমন ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে হয়, তেমনি Qyk (কুইক) অ্যাপ-এর শুরুও হয়েছিল দীপকের ভোগান্তির অভিজ্ঞতা থেকে।

মোবাইল অ্যাপসের যুগে অনলাইনে কী না হয়। ক্যাশ ট্রান্সফার থেকে বিল পেমেন্ট, ডাক্তার খোঁজা সবই সম্ভব একটা বাটন ক্লিকে। তেমনি একটি অ্যাপ হল Qyk- যে কোনও রকম পরিষেবার একমাত্র সমাধান। Qyk-এর দাবি পরীক্ষিত পেশাদারদারদের খোঁজ দেয় তারা।

অনুভব,দীপক,সংঘর্ষ ও শোবিত
অনুভব,দীপক,সংঘর্ষ ও শোবিত

ফটোগ্রাফার, ইভেন্টের আয়োজক, ইন্টরিয়র ডিজাইনার থেকে ব্যক্তিগত যোগা প্রশিক্ষক এমন একশোর বেশি ক্ষেত্রে পরিষেবা দেয় Qyk. সিইও এবং সহ প্রতিষ্ঠাতা দীপক সিঙ্ঘালের মতে, গ্রাহকদের কয়েক মিনিটের চেষ্টা তাদের যে কোনও কাজের জন্য সেরা পেশাদারের সঙ্গে যোগাযাগ করিয়ে দেবে এই অ্যাপ।

আরও অনেক শুরুর মতোই Qyk-এর শুরুটাও ছিল ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই। নিজের বিয়ের ছবি তোলানোর জন্য ফটোগ্রাফার খুঁজছিলেন দীপক। খানিকটা খোঁজখবর করে বুঝতে পারলেন এভাবে পাওয়া সহজ নয়। বন্ধুদের কাছে যান।তাঁরাও নিশ্চয়তা দিতে পারলেন না। ‘আমি অনলাইনে ফটোগ্রাফার খোঁজার চেষ্টা করি। সুবিধে হল না। যা চাইছিলাম তেমন কিছু পাচ্ছিলাম না। খুঁজতে খুঁজতে একজন ভালো ফটোগ্রাফার পেতে তিন সপ্তাহ লেগে গেল’,বলছিলেন দীপক। এই ঘটনা দীপকের মাথায় নিয়ে এল Qyk-এর ভাবনা। Qyk হল এমন একটি অ্যাপ, বাটন টিপলেই নিমিষে সুলুক দেবে প্লাম্বার থেকে ডাক্তার, ফটোগ্রাফার থেকে যোগা ট্রেনার সবকিছুর।

দীপক এবং শোবিত সেই সময় আরবান টাচে একসঙ্গে কাজ করতেন। দুজনেই নিজেদের কিছু একটা শুরু করার সুযোগ খুঁজছিলেন। দীপক এবং শোবিতের বন্ধু সংঘর্ষ এবং অনুভব প্রায়ই একসঙ্গে আড্ডা দিতেন। নানা কিছু নিয়ে কথা বলতে বলতে, নানা ভাবনা চিন্তা আলাপ আলোচনার পর সবকিছুর সন্ধান দেবে এমন একটি অ্যাপের আইডিয়া আসে চারজনের মাথায়। সেই ভাবনা চিন্তার ফসল Qyk, ২০১৪য় তার আত্মপ্রকাশ ঘটে।

Qyk পোর্টাল বা অ্যাপে ঢুকে গ্রাহকরা তাদের প্রয়োজনটুকু এবং পিন কোড পাঠায়। Qyk টিম গ্রাহকের চাহিদা এবং খরচের বহর অনুযায়ী ওই ক্ষেত্রের পেশাদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এরপর গ্রাহকদের তিনটি কোটেশন (খরচের হিসেব) দেওয়া হয়, যার মধ্যে থেকে গ্রাহকদেরই বোছে নিতে হবে কোনটা তাঁদের পছন্দ।

‘তিন মাসেরও কম সময়ে শূন্য থেকে শুরু করে দিনে এখন ১০০টির ওপর রিকোয়েস্ট আসে’, জানালেন দীপক। টিমের লক্ষ্য আগামী এক বছরে অন্তত ৫টি শহর থেকে প্রতিদিন ৫০০০ এর ওপর রিকোয়েস্ট। আপাতত কমিশনের ভিত্তিতে টাকা নেওয়া হয়।

দীপকের মতে Qyk-এর রহস্য হল তাদের টেকনোলজি (প্রযুক্তি)। তিনি জানান, তাঁরা এমন ধরণের পদ্ধতি ব্যবহার করছেন যাতে গ্রাহক সহজে অল্প সময়ে সঠিক পরিষেবা পান। ‘আমরা এটাকে প্রযুক্তির মাধ্যমে সমাধান হিসেবে দেখছি। আমাদের একটা দারুণ মেধাবী টিম রয়েছে এবং তাঁদের দক্ষতা Qyk-কে সম্ভব করে তুলবে’, যোগ করেন দীপক।

আপাতত Qyk-এর নজর মেট্রো(উন্নত শহর)র দিকে। দীপকের মতে, Qyk এর টার্গেট তরুণ ব্যস্ত কর্মীরা। ‘এই লোকগুলি চায় মোবাইলে কয়েকটা ট্যাপে কাজ সেরে নিতে, যেটা Qyk-এরও প্রতিশ্রুতি। সময় ও শ্রম দুটোই বাঁচাবে। পরে আমরা টু টায়ার শহরগুলির দিকেও নজর দেব’, যোগ করেন দীপক।

চ্যালেঞ্জের কথা বলতে গিয়ে দীপক বলেন, ‘বিভিন্ন ক্ষেত্রে পেশদারদের খোঁজা বেশ কঠিন। নিজেরাই মান দেখে নিই তাতে তালিকাভুক্ত পেশাদারদের দক্ষতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া সহজ হয়। এরপর, যখন বোঝা গেল গ্রাহকদের সর্বোচ্চ পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হয়েছে তখন Qyk এই পেশাদারদের প্রশিক্ষণেও সাহায্য করে’।

কোনও কিছু সারাই, পাইপলাইনের কাজ, পরিচারিকা ঠিক করা, বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি এগুলি যেন একমাত্র বাবা-মায়েদেরই কাজ। প্রতিদিনের ব্যস্ততায় বাড়ির টুকিটাকি সারাইয়ে কাজ আরও কঠিন হয়ে উঠছে। সারা বিশ্বের এই ছবি বাজারে এনে দিয়েছে নানা ব্যবস্থা যেমন, ইয়েলপ, ফাইন্ড হোম সার্ভিস, হোম ইমপ্রুভমেন্ট অ্যান্ড রিমডেলিং আরও অনেক কিছু। ভারতেও এমন অনেক অ্যাপস এবং উপায় এসে গিয়েছে যেমন, আরবান ক্ল্যাপ, ন্যানোজবস, হিয়ার নাও এবং আরবানপ্রো।

অনেক বিনিয়োগকারীদের নজর পড়েছে এতবড় এই বাজারের দিকে। যার হিসেব ডলারে ১০০ বিলিয়নের কাছাকাছি। এই বছরের এপ্রিলে এক্সেল পার্টনারস এবং সাইফ (SAIF)পার্টনারস আরবান ক্ল্যাপে ১.৬ মিলিয়ন বিনিয়োগ করেছে। মাইফিল্ড এবং ওরিওস ভেঞ্চার পার্টনারস এই দুই সংস্থা টাস্কজবে বিনিযোগ করেছে ভারতীয় টাকায় প্রায় আট কোটি। লক্ষ্যনীয় হল, বাজার ভাগ হয়ে যাওয়ার চাইতে পরিষেবা দেওয়ার এই সংস্থাগুলি দ্রুত নিজেদের মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করে নিচ্ছে।