প্রত্যয়, প্রতিস্পর্ধার এক প্রদর্শনী হয়ে গেল বিড়লা গ্যালারিতে

1

লড়াইটা প্রতিদিনের। সেই ছোট্টবেলা থেকে। বাইরের আকাশটা ঠিকভাবে দেখার আগেই হিজাব চড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল গায়ে। সেই থেকে পর্দার আড়ালে। চোখের সামনে কালো নেটের আস্তরণ। কিন্তু মনটা তো দেখতে পায়। পুরুষতন্ত্রের রক্তচক্ষু থেকে সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি এবং ধর্মের গা জোয়ারি। সবই টের পায় হিজাবে বন্দি পরাধীন মন। আর তাই রংতুলিতে মনের কল্পনা পর্দার আলো-আঁধারি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে এসেছে। একেবারে অন্য জগতে। হাজারো ফতোয়া, নিষেধ, রক্তচক্ষু যেখানে ফুৎকারে উড়িয়ে দেওয়া যায়। কারও তুলির আঁচড়ে, কারও ক্যামেরার লেন্সে ধরা দিয়েছে গোটা পৃথিবীর গল্প। ফুটে উঠেছে শিকল ভাঙার বার্তা। বিড়লা আর্ট অ্যান্ড কালচারাল মিউজিয়ামে সম্প্রতি ৫দিনের আন্তর্জাতিক চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীতে ইরান, তুরস্ক, আর্জেন্তিনার সাহসী কন্যারা তুলে ধরলেন তাঁদের সৃষ্টি।

এবরু হোরেজ, জিবা ভশতেরা। একজন ইরান আরেকজন তুরস্কের বাসিন্দা। এমন একটা সমাজে বেড়ে উঠেছেন যেখানে মেয়েদের স্বাধীনতা মানে বিলাসিতা। অন্তঃপুরে থেকেও প্রতিবাদের ভাষা রপ্ত করে নিয়েছেন। হিজাবের আড়াল থেকে ক্যামেরার লেন্স ঝলসে উঠেছে। ফতোয়া উড়িয়ে মনের রেখা ভাষা হয়ে ফুটে উঠেছে ক্যানভাসে, রংতুলিতে অথবা লেন্সের নানা অ্যাঙ্গেলে। নৈসর্গিক প্রকৃতি, দুরন্ত শৈশব, প্রতিদিনের জীবন সংগ্রাম থেকে যুগলের প্রেম, নারীর মন-সব ধরা দিয়েছে শিল্পসৃষ্টিতে। নানা মাধ্যমে আপন সৃষ্টির সম্ভার নিয়ে সুদূর ইরান, তুরস্ক থেকে কলকাতার গ্যালারিতে প্রায় ১০জন চিত্রশিল্পী।

শুধু হাতে আঁকা অথবা ক্যামেরাবন্দি ছবিই নয়, ৫ দিনের এই চিত্র প্রদর্শনীতে ছিল আধুনিক প্রযুক্তির ডিজিটাল পেইন্টিংও। ‘ছবির বিষয় যাইই হোক না কেন, বার্তা একটিই। অত্যাচারিত, নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। যেভাবে নিজেরা সাহসে ভর করে তৈরি করে নিয়েছি অর্ধেক আকাশ’, প্রত্যয়ী শোনায় তুরস্কের শিল্পী এবরু হোরেজের গলা।

পশ্চিম এশিয়ার পর্দানসীন সমাজ। পরতে পরতে পায়ে বেড়ি। সেই নড়বড়ে ভিতেও নিজের পায়ের নিচের জমি শক্ত করেছেন এবরু, জিবারা। নিজেদের সৃষ্টিশীলতা দিয়ে সরিয়েছেন পুরুষের আস্ফালন, হিজাব ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন দিনের আলোয়। দেখিয়েছেন স্বাধীনতার পথ।