কলকাতায় RAYMINISCENCE-এ রূপোলী নস্টালজিয়া

0

বাঙালির সিনেমাপ্রেমে সত্যজিত চির অম্লান। সত্যজিৎ রায়ের সময়ে তো বটেই, তখনকার সেই মানুষটার কাজ আজও উঠতি পরিচালকদের প্রেরণা। আগামিদিনেও তিনিই যে প্রেরণা হয়ে থাকবেন সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এই সত্যজিৎ রায়কে বিষয় করে অভিনব এক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে কলকাতা মুভি ডেটাবেস (KMDB), সাত সিনেমা অন্তপ্রাণ তরুণ-তরুণীর একটি সংস্থা। কেমন সেই প্রতিযোগিতা, চলুন জানা যাক সংস্থার এডিটর ইন চিফ অভিরূপ সেনের সঙ্গে কথা বলে।

‘RAYMINISCENCE। কলকাতা মুভি ডাটাবেসের গোটা উদ্যোগের এটাই নামকরণ হয়েছে। সত্যজিৎ রায়ের ৯৫তম জন্মদিনে আমাদের এই শ্রদ্ধার্ঘ্য’, বলছিলেন তরুণ পরিচালক অভিরূপ সেন। RAYMINISCENCE আসলে একটা প্রতিযোগিতা। যারা সিনেমা ভালোবাসেন, আড়ালে আবডালে শর্ট ফিল্ম বানাচ্ছেন অথবা মনে মনে স্বপ্ন বুনছেন তাঁদের জন্য এই প্রতিযোগিতা একটা মঞ্চ বলা যেতে পারে। ‘গোটা ইভেন্টকে আমরা দুটো ভাবে ভাগ করেছি। প্রথম পর্ব পুরওটাই অনলাইন। দ্বিতীয় এবং মূল পর্ব অন স্টেজ’, বোঝাচ্ছিলেন অভিরূপ। অনলাইন পর্বের প্রথম অংশ শুরু রিভিউ লেখা দিয়ে। সত্যজিৎ রায়ের যে কোনও সিনেমার রিভিউ লিখতে হবে বাংলা অথবা ইংরেজিতে। সেই রিভিউ মেল করতে হবে kolkatamoviedatabase@gmail.com এ। এরই পাশাপাশি চলতে থাকবে দ্বিতীয় অংশ, অর্থাৎ গল্প অথবা স্ক্রিপ্ট লেখা পর্ব। এই পর্বটি বেশ মজার। সত্যজিৎ রাযের যেকোনও সিনেমা বা গল্পের চরিত্রগুলিকে মিলিয়ে দিয়ে অন্য একটা গল্প বা স্ক্রিপ্ট লেখা। ধরা যাক কোনও একটা রহস্যের সমাধানে ফেলুদা প্রফেসর শঙ্কুর কাছে গেলেন পরামর্শ নিতে। প্রথম পর্ব অর্থাৎ রিভিউ, গল্প, স্ক্রিপ্ট অনলাইনে পাঠানোর শেষ দিন ২০ এপ্রিল।

এবার দ্বিতীয় পর্বের কথায় আসি। দ্বিতীয় পর্বটি আরও মজার। যেমন ১৪০ শব্দের মধ্যে টুইট লিখতে হয়, এখানেও তেমন। সত্যজিতের জীবন বা তাঁর তৈরি কোনও চরিত্র নিয়ে ছোট্ট একটা গল্প লিখতে হবে ১৪০ শব্দের মধ্যে। বাকি আগের নিয়ম সব এক। গল্প টুইট, ফেসবুক অথবা গুগুল প্লাসে পোস্ট করা যেতে পারে। এখানেই শেষ নয়। এই পর্বে আরও দুটি ভাগ রয়েছে। প্রথম ভাগে ডায়ালগ কনটেস্ট এবং দ্বিতীয় ভাগে সত্যজিতের সিনেমা বা পোস্টারের ধরনে পোস্টার বা স্কেচ করতে হবে। তবে দ্বিতীয় পর্বের জন্য রাখা হয়েছে মাত্র তিন সপ্তাহ। প্রতিযোগিতার মূল অংশ শেষ হচ্ছে এখানেই।

‘সফল প্রতিযোগীদের জন্য খুলে যাবে RAYMINISCENCE এর মঞ্চের দরজা। মেগা ইভেন্টের সেই সন্ধ্যায় বিতর্ক হবে, আলোচনা হবে। যার বিষয় থাকবে- “Were the adapted screenplays of Ray better than the original ones?”। অনুষ্ঠান শেষে অনলাইন প্রতিযোগীতায় বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী। রিভিউ লেখায় ২ জন এবং স্ক্রিপ্ট লেখায় ১ জনকে পুরস্কার দেওয়া হবে। একই প্রতিযোগী দুটি ক্ষেত্রেই পুরস্কৃত হতে পারেন। এখানেই শেষ নয়। থাকবে আরও চমক। ঠিক যেমন থাকে সত্যজিতের গল্পের শেষে, শেষ হইয়াও হইলো না শেষ গোছের। চমকটা চমকই থাক, তাই এখন খোলসা করছি না ’,বলছিলেন অভিরূপ।

কলকাতা মুভি ডেটাবেস (KMDB)এর সাত কান্ডারির লক্ষ্য একটাই। লুকিয়ে থাকা প্রতিভাকে সবার সামনে নিয়ে আসা। সিনেমাকে আরও মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। আর তার জন্যই RAYMINISCENCE এর মতো ইভেন্টের আয়োজন। আর এই সদর্থক উদ্যোগের পাশে থাকতে এগিয়ে আসছে স্পন্সররাও।