বহুতলের ছাদে ফসলের চাষে উৎসাহ দিচ্ছে NKDA

1

বহুতল জুড়ে অভিজাত বাজার। আর ছাদটা একটু ঠাওর করলে দেখা যাবে লাউ, ঝিঙে ঝুলছে। নীরেট কংক্রিটের ভাঁজে এও কীভাবে সম্ভব? সবই সম্ভব, যেমন হয়েছে কিউবা, চিন, মস্কো, অস্ট্রেলিয়ায়। এবার এই শহরেও শুরু হল রুফটফ ফার্মিং । নিউটাউনের ওয়ান সি মার্কেটের ছাদে কংক্রিটের ঢালাইয়ের ওপর তৈরি করা হয়েছে এই রকমই চাষযোগ্য জমি। সেখানে বিজ্ঞানসন্মত উপায়ে বেগুন, কুমড়ো, ফুলকপি সহ পঁয়ত্রিশ ধরনের ফসল চাষ করা হচ্ছে । সেই চাষের ফসল বিক্রি করে অর্থনৈতিক লাভ দেখার পরিকল্পনা নিউটাউন কলকাতা ডেভলপমেন্ট অথরিটির।

নীচে বাজার আর ওপরে চলছে মহাযজ্ঞ। নীচ থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই ছাদ জুড়ে সাজানো খেত। নিউটাউনের এই ওয়ান সি মার্কেটের ছাদেই তৈরি হয়েছে রাজ্যের প্রথম রুফটপ ফার্মিং হাউস। জৈব পদ্ধতিতে চাষ। সেই ফার্মিং হাউসেই চাষ হচ্ছে বেগুন, কুমড়ো, ফুলকপি, লালশাক, পালংশাক সহ পঁয়ত্রিশ ধরনের ফসল।

গত কয়েকমাস ধরে এই ছাদের ওপর একটু একটু করে তৈরি করা হয়েছে পরিকাঠামো। জল দেওয়ার জন্য রাখা হয়েছে ফগ সিস্টেম। তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রনের জন্য রাখা হয়েছে যন্ত্র। সোলার সিস্টেমের সাহায্যে চালানো হচ্ছে পাম্প। এই প্রোজেক্টটি নিউটাউন কলকাতা ডেভলপমেন্ট অথরিটির সাহায্যে তৈরি হয়েছে। এখানে উৎপাদিত ফসল বিক্রি করা হবে নীচের বাজারে। ‘এটা আমাদের রূপ(রুফ) কথা। শহরাঞ্চলে বাড়ির ছাদগুলিতো পড়েই থাকে ফাঁকা। জঞ্জাল জমিয়ে মসার আঁতুড়ঘর তৈরি হয়। সবজিচাষ হলে সেই সমস্যা থাকবে না।নিয়মিত পরিচর্যায় গাছ বাড়বে, ছাদেরও যত্ন হবে। আবার জৈব পদ্ধতিতে চাষ করা সবজির কদর সবসময়। দাম বেশির কারণে অনেকের পক্ষে কেনা সম্ভব হয় না। শহরের প্রত্যেক ছাদে যদি এভাবে চাষ হয়,তাহলে সেই অভাবই মিটবে’, ছাদের চাষের সাফল্যে উচ্ছ্বসিত নিউটাউন কলকাতা ডেভলপমেন্ট অথরিটির চেয়ারম্যান দেবাশিস সেন

তবে সুবিধের জন্য সরাসরি মাটিতে ফলন না ফলিয়ে ঝুড়িতে মাটি এবং জৈব সার মিশিয়ে সবজি এবং ফলের চাষ হচ্ছে। বানিজ্যিকভাবে এই প্রজেক্ট সফল হলে রাজ্যে আরও এমন রুফটফ ফার্মিং দেখা যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।