রাস্তায় ছুটবে Hoppr, দৌড়ে সামিল কলকাতাও

0

এগোচ্ছে কলকাতাও। স্টার্টআপ দুনিয়ায় ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে কলকাতার মুখ। আর পরিবর্তন আনতে উঠে পড়ে লেগেছে এই শহরের তরুণ প্রজন্ম। স্টার্টআপ উইকেন্ডে সাফল্যের পর সিড রাউন্ডে শুরুয়াতি মূলধন সংগ্রহ করে নিল কলকাতার শাটল পরিষেবা Hoppr।

ন্যাসকম (NASSCOM) সেন্টার তৈরি, ওয়াও মোমোর বিনিয়োগ পাওয়া, আইআইএম-সি এর স্টার্টআপ উইকেন্ড, সব মিলিয়ে আপাতত ঠিক পথেই চলছে কলকাতা। তবে এই সব কিছুর সাফল্যই নির্ভর করে মানুষের উদ্যোগের ওপর। দেখা গেছে এই ধরণের অনুষ্ঠানে আসা দলগুলির মধ্যে মাত্র ৭ শতাংশ তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করে। এরকমই একটি টিম Hoppr।

পাবলিক ট্রান্সপোর্টে এক অভিনব পরিবর্তন আনতে চলেছে এই সংস্থা। বাতানুকুল শাটল, কোম্পানির ভাষায় ‘Hoppies’ চলবে শহরে রাস্তায়, থাকবে নির্দিষ্ট যাত্রাপথ, ২০ টাকা থেকে শুরু টিকিটও তা মিলবে অনলাইন এবং অফলাইনে। অ্যাপের মাধ্যমেও বুক করা যাবে সিট। দুধরণের Hoppies থাকবে, HoppyMINI ও HoppyMAXI। প্রতিটি গাড়িতেই থাকবে ওয়াই-ফাই।

স্টার্টআপ উইকেন্ডে এসেছিল Hoppr টিম। কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা হর্ষিত গোহিল তাঁদের এই পরিকল্পনার কথা জানান। তিনি বলেন, “এই শহরে ট্যাক্সি বুক করা আজ খুবই সোজা কিন্তু শাটল বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট পাওয়া এক কঠিন কাজ”, আর সেখান থেকেই শুরু তাঁদের এই ভাবনা। উপস্থিত ছিলেন Hoppr এর অপারেশন ও প্রযুক্তির দায়িত্বে থাকা সঞ্জিত রায় ও অভিরূপ করও। হর্ষিতের পড়াশোনা সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজে। পাশাপাশি উডাসিটি কোর্সে কম্প্যুটার সায়েন্সে প্রশিক্ষণ রয়েছে তাঁর।

স্টার্টআপ উইকেন্ডে তাঁদের মেন্টরদের কাছে গিয়েছিল টিম Hoppr, এবং তাঁদের প্রথম চেষ্টাই সফল। তাঁদের মেন্টর রোডস এন্ড কলেজিফাইয়ের প্রতিষ্ঠাতা রোহন গানেরিওয়াল. সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা আদর্শ খান্ডেলওয়াল ও ব্যবসাসূত্রে বন্ধু রাঘব পোদ্দারের এর সঙ্গে যুক্ত করে নেন রোহন। জাতীয় স্তরের ব্র্যান্ডে উন্নীত হওয়ার জন্য সিড ক্যাপিটাল, ইনকিউবেশনের স্থান ও বিশেষজ্ঞদের সহয়তা পায় Hoppr।

বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা

বর্তমানে কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা সেক্টর ফাইভ থেকে দুটি রুটে চলছে Hoppr। পাইলট পর্যায় গ্রাহকদের কাছে সমাদৃত হয়েছে এই অ্যাপ। হর্ষিত জানালেন, আগামী ১০০ দিনের মধ্যে শহরের ৬ টা গুরুত্বপূর্ণ রুটে ৬০টি গাড়ি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। সামনে এক বছরে আরও পাঁচটি শহরে এই পরিষেবা চালু করবে Hoppr, লক্ষ্য থাকবে দ্বিতীয় স্তরের শহরগুলির দিকে। ভারতে যে অন ডিম্যান্ড যানবাহনের নতুন বাজার তৈরি হয়েছে সেখানে Hoppr এর এই কৌশল যথেষ্টই কার্যকরী হবে।

বাজারের পরিমাপ ও প্রবণতা

ওলার এক পূর্ববর্তী বিনিয়োগকারীর হিসেব অনুযায়ী ভারতের বাস পরিষেবার বাজার ১০ বিলিয়ন ইউএস ডলার। উবের, ওলা, ব্লা ব্লা কারের মতো পরিষেবাগুলির সঙ্গে সঙ্গেই অন-ডিম্যান্ড যানের চাহিদা বাড়ছে। শেয়ারের গাড়ি ও কারপুল খুবই আকর্ষণীয় ক্ষেত্র, উবের ও ওলা দুই কোম্পানিই এই ধরণের পরিষেবার কথা ভাবছে। Hoppr মানুষকে তাদের Hoppiesএ সিট বুক করতে সাহায্য করে নিজেদের স্বতন্ত্র্য করতে চাইছে। তবে Hopprই প্রথম নয়, দিল্লি-এনসিআর এলাকায় Shuttl এই পরিষেবা দিচ্ছে ও সম্প্রতি তারা ৩ মিলিয়ন ইউএস ডলার বিনিয়োগ সংগ্রহ করেছে। মুম্বইয়ের rBus ও Cityflo এবং বেঙ্গালুরুর ZipGo এই একই কাজ করছে। পাবলিক যানবাহনের ক্ষেত্রটি ভারতবর্ষে খুবই সম্ভাবনাময়। একদিকে প্রয়োজনের তুলনায় সংখ্যা কম হওয়ায় অসম্ভব ভীড় অন্যদিকে সুসংবদ্ধ বুকিংয়ের সুবিধা না থাকায় বিকল্প ব্যবস্থার ব্যবসার প্রচুর সুযোগ রয়েছে। নিরাপত্তা ও সাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হলে একটা বড় অংশের মানুষ ব্যক্তিগত যানের বদলে সেটিকে বেছে নেবেন।

ইওরস্টোরির মতামত

এটা বেশ উতসাহজনক যে কলকাতার স্টার্টআপগুলি জনসাধারণের সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে কাজের অগ্রগতিতে কিছুটা সময় নিয়েছে এই শহর। এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ সাধারণ মানুষ কীভাবে এই প্রযুক্তিকে গ্রহণ করেন। বিজনেস মডেলকে অ্যাসেট লাইট রেখে Hoppr যদি মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে পারে তবে পাবলিক ট্রান্সপোর্টের ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে তারা।

(লেখা-নমন শাহ্, অনুবাদ-সানন্দা দাশগুপ্ত)