আবর্জনা থেকে বিদ্যুৎ-গ্যাস-পরিশ্রুত পানীয় জল বীরভূমের আদিবাসী গ্রামে

0


গ্যাস, বিদ্যুৎ আর পরিশ্রুত পানীয় জল। একই প্রকল্প থেকে মিলবে এতকিছু। কীভাবে?ময়লা, আবর্জনা আর সৌরশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এক অভিনব উদ্যোগ ভারত এবং ইউ কের ৬ টি বিশ্বিবিদ্যালয়ের। ভারতের তরফে বিশ্বভারতী এই উদ্যোগের অন্যতম দাবিদার। প্রায় পাঁচ কোটি টাকা খরচ করে শান্তি নিকেতনে তৈরি হয়েছে একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। এখান থেকে বিনামূল্যে স্থানীয় আদিবাসী পরিবারগুলিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা শুরু হয়েছে।

কেন্দ্রের বিজ্ঞান ও কারিগরি মন্ত্রকের উদ্যোগে ইন্দো-ইউকে প্রজেক্টের সহায়তায় শান্তিনিকেতনে একটি বায়োগ্যাস ও সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হয়েছে। এই প্রকল্পকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে ভারতের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয় এবং আইআইটি মাদ্রাজ, আইআইটি বম্বে, ইউ কের এক্সজিটার বিশ্ববিদ্যালয়, নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়, সব মিলিয়ে মোট ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়। পিয়ারসন পল্লি ও কালিগঞ্জের আদিবাসী গ্রামের পাশে বিশ্বভারতীর কয়েক শতক জায়গার উপর এই বিদ্যুৎকেন্দ্র গড়ে উঠেছে। পরীক্ষামূলক ভাবে সাত কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।পচনশীল প্রাকৃতিক উপাদান যেমন কচুরিপানা, শাক-পাতা, নষ্ট হয়ে যাওয়া খাবার একটা জায়গায় জমা করা হয়। তার জন্য আদিবাসী গ্রামগুলি ছাড়াও বোলপুর পুরসভা ও স্থানীয় পঞ্চায়েতগুলির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

এখানে দু ধরনের বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। একটি বায়োমাস পদ্ধতিতে। অর্থাৎ গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ হবে। আবার রান্নার গ্যাসও মিলবে। মূলত সৌরশক্তিকে ব্যবহার করে অত্যাধুনিক কনসেনট্রেট ফটো ভোলটাইট সেলের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। ‘প্রথমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যাটারিতে ধরে রাখা হবে। বিকেল পাঁচটার পর কালিগঞ্জ ও পিয়ারসন পল্লির অতিদরিদ্র পরিবারগুলিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। প্রাথমিকভাবে ১০টি পরিবারকে এই পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। এই বিদ্যুতের মাধ্যমে বাড়িতে একটি এলইডি লাইট ও ফ্যান চলছে। পরে অন্য বাড়িগুলিতেও বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে’, জানান প্রকল্পের অন্যতম কর্তা অমিত হাজরা।

একইসঙ্গে বিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে উৎপাদিত গ্যাস ৫ কেজির সিনিল্ডারে ভরে পরিবারগুলিকে দেওয়া হবে। এরফলে গাছ কেটে জ্বালানি সংগ্রহের প্রবণতা কমবে বলে মনে করছেন প্রকল্পের উদ্যোক্তারা। বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদনের সময় পরিশ্রুত পানীয় জলও উৎপাদিত হয়। সেই জলও আদিবাসী পরিবারগুলিকে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সম্প্রতি গোটা প্রকল্পটি উদ্বোধন করে চালু হয়েছে।

অধ্যাপক অমিত হাজরা জানান, ‘দশটি বাড়ি ছাড়াও উৎপাদিত বিদ্যুৎ দেওয়া হচ্ছে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়েও। উদ্যোক্তাদের দাবি, বিভিন্ন ভাবে পরিবেশে বাড়তে থাকা গ্রিন হাউস গ্যাস এবং শক্তির সংকট কমানোর উদ্দেশ্যে, রিসার্চ কাউন্সিল অফ ইউ কে এবং ভারত সরকারের বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে পরীক্ষা মূলক ভাবে চালু হয়েছে এই প্রকল্প’। এলাকার আদিবাসী মহাদলের হাতে পরিচালনার ভার তুলে দেন উদ্যোক্তারা। বিনা খরচে বাড়ির অন্ধকার ঘোচায় খুশি ওই সমস্ত আদিবাসী পরিবার।