শুধু অনলাইন নয়, সব রাস্তা খতিয়ে দেখুন: সঞ্জয় শেঠি

0

আবার হবে তো দেখা, এ দেখাই শেষ দেখা নয়তো। বাংলা গানের হৃদয়গ্রাহী এই লিরিকটি এখন ব্যবসা-বাণিজ্যে সাফল্য পেতে হলেও মনে মনে ভেজে নিতে পারেন। আবার দেখা যখন হবে – তখন যা পাবেন, সেও নতুন করে পাবেন। তখন আপনি নয়া জমানার একজন উদ্যোগপতি হিসাবে যুক্তিবুদ্ধিতে আরও সাবালক হবেন।

তবে এখানে একটা বাধা আছে। পুরনো ভুলের অভিজ্ঞতা প্রায়সই নতুন উদ্যমে এগোতে গেলে আপনাকে পিছুটানের মতো পিছু ডাকবে। বহুক্ষেত্রে মানুষ হিসাবে তখন ফের যদি একই ভুলের শিকার হই, এমত ভয়ে এক পা এগিয়ে দুই পা পিছিয়ে আসি নাকি? এতে কিন্তু বিরাট ক্ষতি। নতুন দেশের সন্ধানের রোমাঞ্চে কলম্বাসের মতো অকূলদরিয়ায় ভেসে পড়ার এই যে ভয়, কখনোই তা আপনার আইডিয়াটিকে বেড়ে উঠতে দেবে না। পিছন পানে টানবে। এভাবে স্রেফ সাহসের অভাবে কত স্বপ্নই মাঠে মারা গিয়েছে।

তাই, ভয় পাবেন না। চলার পথে বরং এগিয়ে চলুন। নতুন কিছু ভাবুন, নতুন কিছু করুন। অতীতে পাহাড়প্রমাণ যত্ত ভুলই থাকুক না কেন, আবারও মনে সাহস এনে চোখ মেলে দেখুন। কাজ করুন। আর আপ্তবাক্যের মতো করে মনে রাখুন, এ দেখাই শেষ দেখা নয়!

অতি মূল্যবান এই পরামর্শ দিয়েছেন ShopClues-এর সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জয় শেঠি। ইয়োর স্টোরির মোবাইলস্পার্কস ২০১৬-এ সঞ্জয় যে কথাগুলি বলেছেন, তা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে নয়া জমানার উদ্যোগীদের মানসিকভাবে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। মোবাইলপার্কসে সঞ্জয়ের বক্তব্যের বিষয় ছিল, ই-কমার্সের জটিলতম দিকগুলি নিয়ে। এর পাশাপাশি এ দেশের সামগ্রিক স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেমের বহুমুখী দিক সম্পর্কে আগ্রহীদের অবহত করেছেন সঞ্জয়।

ই-কমার্স বল্তুটি নিজের পায়ে ঠিকঠাকভাবে দাঁড়াতেই পারবে না যদি না ই-কমার্সকে সরকার ঘোষিত দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারণীর শহরগুলিতে ছড়িয়ে দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে এখনও প্রভূত কাজের জায়গা খালি আছে। এ কথা বলেছেন সঞ্জয়।

কিন্তু ভারতের অন্য গুরুত্বপূর্ণ সমস্যাগুলির মতো অন্যতম আর একটি সমস্যা হল মার্কিন বিজনেস মডেলগুলির প্রতি আমাদের অন্ধভক্তি। ফলে সেটি চোখকান বুজে অনুকরণ করার প্রবণতা এ দেশের ব্যবসায়িক মহলের অন্যতম প্রধান মানসিক সমস্যা। যারপরনাই মার্কিন বিজনেস মডেলগুলির ভিতরই সর্বসত্যের সন্ধান বলাবাহুল্য ক্ষতিই করছে। মোবাইলস্পার্কসে বক্তব্য এই দাবি করলেন সঞ্জয়। তিনি পেশ করেছেন মোক্ষম যুক্তি-প্রমাণও।

সঞ্জয়ের কথায়, আমরা কোনও বিষয় সম্পর্কে যখন গভীরভাবে জানতে পারি, আমরা সেইসময় এটা বুঝতে চেষ্টা করি যে, কোথাও ভুল করছি নাতো? এক্ষেত্রে অতীতে কেউ হয়তো ভুল করেছিল। এ ধরনের চিন্তাভাবনাই আমাদের জ্বালায়। অথচ, ওসব করার কোনও প্রয়োজনই নেই। কারণ তোমার চেষ্টাতে কাজটা ভুলভ্রান্তিহীনভাবে হয়ে গেল দেখলে!

সঞ্জয়ের যুক্তি সহজ। ওঁর পরামর্শ, যে কোনও বাজারই অভিনব ধরনের জায়গা। তাছাড়া, সব ব্যবসা এক ভাবে বাড়েও না। এক-একটি ব্যবসা তার চরিত্রমতো একেক রকমভাবে বেড়ে উঠবে। ফলে কোনও একটি মাত্র মডেলকে সিদ্ধ ধরে নিয়ে যদি গোটা দেশে একই মডেলে ব্যবসা চালানোর চেষ্টা চালানো হয়, তখন কিন্তু কাজটা মোটেও হল না। মনে রাখবেন, বাজারে বৈচিত্র্য আছে বলেই নতুন আইডিয়াগুলি জন্মগ্রহণ করে থাকে।

নিজেদের ব্যবসার শুরুতেই ShopClues এ দেশে দ্বিতীয় ও তৃতীয় সারণীর অন্তর্গত শহরগুলিতে সংস্থার ব্যবসা ছড়াতে শুরু করে। ইতিমধ্যে শপক্লুস কার্যক্ষেত্রে সফল। দেশব্যাপী পোক্ত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে সমর্থ হয়েছে ওঁরা।

মোবাইলস্পার্কসে অংশগ্রহণকারীদের ভিতর অনেকেই সঞ্জয়ের কাছে জানতে চেয়েছেন, নতুন ব্যবসা আরম্ভ করার মতো পুঁজি কীভাবে মিলবে? উত্তরে সঞ্জয় বলেছেন, গত কয়েক দশকে ব্যবসায়িক জগতে ধ্যানধারনায় বিরাট পরিবর্তন এসেছে। আগেকার দিনের মতো শিল্পপতিরা এখন আর একটির পর একটি ব্যবসা খুলছেন না। নয়া জ‌মানার উদ্যোগপতিরা প্রযুক্তিনির্ভর বাণিজ্যে দিকে ঝুঁকছেন। আর সেগুলির দৃষ্টান্তযোগ্য ফলের নজিরগুলিও হাতের কাছেই আছে।

প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে বর্তমানে ভারত বেশ ভালো অবস্থায় রয়েছে। ডেস্কটপ থেকে ল্যাপটপ পেরিয়ে মোবাইল প্রযুক্তি প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ক্রমে এ দেশকে সমৃদ্ধ করছে। অফলাইন, অনলাইন চ্যানেলের ব্যবসাও এখন সন্তোষজনক অবস্থায় আছে। সেইসঙ্গে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে অনলাইন পরিকাঠামো। সহায়ক ব্যবস্থা হিসাবে নতুন নতুন নীতির প্রণয়ন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে বিকল্প মাধ্যমগুলি আরও অভিনব চেহারা নিচ্ছে।

নয়া জমানার উদ্যোগপতিদের প্রতি সঞ্জয়ের আর একটি মূল্যবান পরামর্শ হল, এই জমানার প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করুন। ভবিষ্যতে লাভদায়ক ফল পাবেন। পরিণতও হবেন।