সিমলে পাড়ার 'মুক্তাকাশ'-এ আলো ঠিকরোচ্ছে

2
ঠিকানা– উত্তর কলকাতার সিমলেপাড়া। স্বামীজীর বাড়ি লাগোয়া চাতাল। এখানেই এলাকার পথশিশুদের স্কুল চলে। পড়াশোনা তো বটেই, ছবি আঁকা, নাচগান শেখাও চলে এখানে। পড়ুয়া সংখ্যা ২৫। শিক্ষার আলো ওদের চোখে মুখে ঝিলমিল করছে।

সম্প্রতি তৈরি হয়েছে মুক্তাকাশ। একটি ছোট্ট পাঠশালা। সিমলেপাড়ায় স্বামী বিবেকানন্দের বাড়ির সামনে সিমেন্ট বাঁধানো চাতালে একরাশ ফুলের মতো কচিকাঁচা। আর কয়েকজন দাদা দিদি। ওঁরা পড়ান, এরা পড়ে। খেলে। আনন্দ করে। এভাবেই ভবঘুরে বাচ্চাদের জন্য ঘিঞ্জি উত্তর কলকাতার একটি প্রান্তে একদল কলেজ পড়ুয়া তৈরি করে ফেলেছেন – মুক্তাকাশ নামের এই ব্রত। সঙ্গে মস্তিও। মস্তির পাঠশালা তাই বলতে পারেন।

সুনির্মল বসুর ছড়া থেকে বৈদিক সভ্যতার ইতিহাস, কিম্বা ABCD শেখা থেকে এক এক্কে এক দূরবিন দিয়ে দেখ। আর আছে পেট পুরে সবাই মিলে খাওয়াদাওয়া, এমনকি দাদাদের কোলে ঘুমিয়েও পড়া। ঘণ্টা দেড়েকের একটা পাঠশালায় কী না হয়?

মুক্তাকাশ তৈরি অনেকটা স্বপ্নেরই মতো। কলেজের ক্লাস শেষ করে আনমনেই একদিন স্বামীজির বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন সোহম,যেমন যান প্রতিদিন।সম্বিত ফিরল দাদা ডাকে। বড়জোর তিন কি চার বছর বয়েস। সোহমের কাছে হাত পেতে ভিক্ষে চাইছে। এই ছবি অবশ্য তাঁর কাছে নতুন নয়। তবু নতুন করে ভাবতে ইচ্ছে হল কলেজ ফেরতা সোহমের। মাত্র কয়েক দিনেই এলাকায় ভিক্ষে চেয়ে ঘুরে বেড়ানো শিশুদের একত্রিত করে পথ চলা শুরু করলেন সোহম। সঙ্গে পেয়েছিলেন অর্পিতা, মৌসুমী দিদি, বিপাশা দিদি, সোমা, রুমা, অনির্বাণ, প্রীতি, সায়ন্তনী, দীপাঞ্জন, প্রীতম, দীপক, রমা, রাহুলকে। সবাই মিলেই চালাচ্ছেন স্কুল। বিকেলে ক্লাসের ফাঁকেই সেই গল্প শোনালেন সোহম পাল। বলেন, ‘একেবারে নিজেদের হাত খরচ বাঁচিয়ে এখানে এক ছোটখাটো স্কুল। নিজেদের তাগিদেই। কোথাও কোনও আর্থিক সাহায্যে ছাড়াই আমরা এগিয়ে চলেছি এক বড় লক্ষ্যে’।

মনীষা, সমীরদের মত ভবঘুরে শিশুদের আজ অনেক কিছুই আছে। সোহমদের মতো দাদা আছে, পড়ানোর দিদিমণি আছেন। নাচগান, ছবি আঁকা–এসবই এখন ওদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গী। ওরাও এখন স্বপ্ন দেখতে শিখছে, লোকের কাছে হাত পাতা আর গরম ভাতে সরষের তেল, পেঁয়াজ কুচির স্বপ্ন নয়। সত্যিকারের মানুষ হওয়ার। মুক্ত মনে আকাশে ওড়ার। আর তাই ওরা সানন্দে আসে মুক্তাকাশের আশ্রয়ে।