স্টার্টআপদের আর্থিক লেনদেনে পরামর্শদাতা ReturnWale

0

অন্যের গোলামী নয়, নিজের কিছু করাই হয়ে উঠছে বর্তমান প্রজন্মের মূলমন্ত্র। জেনারেশন ওয়াই ক্রমেই মজছে স্টার্টআপ ম্যাজিকে। ধীর গতিতে হলেও আমাদের শহর আজ সামিল এই কর্মযজ্ঞে। আর কিছু হল না তাই ব্যবসা, সেই ধারণাও বদলাচ্ছে। স্মার্ট ঝকঝকে মেধাবী ছাত্ররা চাকরির চেষ্টা না করেই শুরু করছেন নিজেদের ব্যবসা। এদের বেশিরভাগই প্রথম প্রজন্মের ব্যবসায়ী, তাই ব্যবসার আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত নিয়ম কানুন জানা না থাকায় প্রায়শই সমস্যায় পড়তে দেখা যায় তাঁদের। ট্যাক্স, অ্যাকাউন্টিং ইত্যাদি সামলাতে গিয়ে হিমসিম খান উদ্যোগপতিরা। এদিকে আর্থিক সঙ্গতি না থাকায় বড় চার্টাড অ্যাকাউনটেন্সি ফার্মের থেকে সাহায্য নেওয়া সম্ভব হয় না, সম্ভব হয় না এই বিষয়গুলি দেখার জন্য নিজেদের কর্মী রাখা।

নিখুঁত বিজনেস প্ল্যান, অসাধারণ উদ্ভাবন থাকা সত্ত্বেও অনেক সময়ই শুধুমাত্র নিয়ম না জানার কারণে ক্ষতির মুখে পড়তে হয় স্টার্টআপগুলিকে, এমন কি অনেক সময়ই চাটিবাটি গুটিয়ে ফেলতে বাধ্য হন ব্যবসায়ীরা।

স্টার্টআপদের এই সমস্যার সমাধানে তৈরি হচ্ছে নতুন স্টার্টআপ, যারা নতুন ব্যবসায়ীদের নিয়ম কানুন বোঝাতে সাহায্য করবে, বাতলে দেবে সমাধান। এমনই এক কোম্পানি ReturnWale, প্রতিষ্ঠাতা কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজের দুই প্রাক্তনী রোহিত চোরারিয়া ও অঙ্কুর পোদ্দার।

কলেজে পড়ার সময় থেকেই ওঁরা স্থির করেন নিজেদের কিছু করবেন। গত কয়েক বছরে দেশ জুড়ে স্টার্টআপ সংস্কৃতির যে প্রসার ঘটেছে, তা থেকেই অনুপ্রাণিত হন ওঁরা। রোহিত বলছিলেন, "নানা ধরণের বিষয় নিয়ে ভাবছিলাম। আমি আর অঙ্কুর দুজনই সিএ, তাই এমন একটা ক্ষেত্রকে বেছে নিলাম যে বিষয়টা আমরা জানি।"

ব্যক্তি ও কোম্পানিদের আয়কর রিটার্ন ফাইল করা, বিভিন্ন কমপ্লায়েন্স ফর্ম ভরা, ফিন্যান্সিয়াল স্টেটমেন্ট তৈরি করা, সার্ভিস ট্যাক্স, ভ্যাট ইত্যাদি সম্পর্কিত পরামর্শ দেওয়া এবং ট্যাক্স পরিকল্পনায় সাহায্য করা ইত্যাদি সব পরিষেবাই মিলবে ReturnWale তে, এবং পুরোটাই হবে অনলাইনে।

রোহিত বললেন, সঠিক ভাবে ফিন্যান্সিয়াল প্ল্যান করতে না পারলে স্টার্টআপগুলির পক্ষে বিনিয়োগ পাওয়া সম্ভব নয়, বিনিয়োগ পাওয়ার জন্য প্রয়োজন নিখুঁত পরিকল্পনা যা তৈরি করতে দরকার পেশাদারি দক্ষতা। ReturnWale তাদের এই পরিকল্পনা করতে সাহায্য করবে। এই স্টার্টআপ

যেহেতু তাদের প্রাথমিক লক্ষ্য শুরুয়াতি ব্যবসাদের পরিষেবা দেওয়া তাই অভিনব এক লাভের মডেল ভেবেছেন রোহিতরা। “স্টার্টআপরা যেহেতু বেশিরভাগই আর্থিকভাবে দুর্বল হয়, তারা হয়তো অনেক ক্ষেত্রেই টাকা দিয়ে এই পরিষেবা কিনতে পারবেন না, তাই আমাদের পরিষেবার বিনিময় তাদের কোম্পানির একটা ছোট অংশের স্বত্ত্ব আমরা নেব, আর এভাবেই আমরা আমাদের রেভেন্যু মডেল তৈরি করব”, বললেন রোহিত।

প্রাথমিকভাবে কলকাতাতেই কাজ শুরু করেছে এই সংস্থা, আগামী দেড় বছরের মধ্যে মুম্বই, বেঙ্গালুরু ও দিল্লিতেও কাজ শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।

চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্সি ফার্ম নতুন নয়, এমন কী তাদের অনেকেই ইতিমধ্যেই অনলাইন পরিষেবাও শুরু করেছে। এছাড়াও অসংগঠিতভাবেও রয়েছেন অনেক পেশাদার যারা খুবই সামান্য মূল্যে এই পরিষেবা দিয়ে থাকেন। ট্যাক্স রিটার্ন অনলাইন হওয়ায় তা অনেকটাই সহজ হয়ে গেছে সাধারণ মানুষের কাছে, এই অবস্থায় দাঁড়িয়ে সাফল্য আনতে হলে অভিনবত্বর ওপরই জোর দিতে হবে ReturnWaleকে। রোহিত বললেন, “আমরা জানি এই ক্ষেত্রটিতে কাজ করাটা বড় চ্যালেঞ্জ। ইতিমধ্যেই নানা স্তরের পেশাদার এখানে কাজ করছেন। তাই প্রাথমিকভাবে নিজেদের জায়গা করে নেওয়াটা সহজ নয়, তবে আমাদের বিশ্বাস উচ্চমানের কাজ দিয়ে ও অভিনবত্বের জোরে আমরা খুব তাড়াতাড়িই জায়গা করে নিতে পারব। শুরুতেই আমরা এর থেকে খুব বেশি লাভের আশা করছি না, আগে প্রয়োজন মানুষের সঙ্গে সংযোগ ও তাদের আস্থা অর্জন। আপাতত সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি আমরা”।

সংস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কিছু অভিজ্ঞ ও দক্ষ কর্মী নিয়োগের কথা ভাবছে ReturnWale, আর তার জন্য বিনিয়োগ সংগ্রহের চেষ্টা করছে। রোহিত বললেন, “স্টার্টআপের শুরুর বছরগুলি ধৈর্য্যের পরীক্ষা, অনেক সময়ই মনে হবে কিছুই ঠিক চলছে না, কিন্তু বিশ্বাস করুন তখনই সব কিছু ঠিক হতে চলেছে। কাজ চালিয়ে যেতে হবে, কখনই ময়দান ছেড়ে যাওয়া যাবে না।