সাফল্যের 'স্বাদ' পেয়েছেন মালদহের বাদরুল

0

আমরা শান্তিময়ের হলুদ চাষের গল্প পড়েছি। আজ পড়ব এক উদ্যোগপতির গল্প। ইনি বাঁকুড়ার নন। পুরুলিয়ারও নন। ইনি মালদহের। নাম বাদরুল ইসলাম। বাদরুলও শুরু করেছিলেন হলুদ দিয়ে। তার ৭ বিঘা জমিতে হলুদ চাষ করতেন। সেই হলুদ শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করতেন। ২০০৫ সালে নতুন এক ভাবনা আসে বাদরুলের মাথায়। সমবায় থেকে ৩ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে কিনে ফেলেন গুড়ো মশলা তৈরির মেশিন। প্রথম দিকে নিজের জমির হলুদ শুকিয়ে তা মেশিনে গুড়ো করে প্যাকেটজাত করে বিক্রি করতেন বাজারে। কিন্তু তাতে বাজারে চাহিদা সেরকম হচ্ছিলনা। তখনই নিজস্ব ব্রান্ড তৈরির ভাবনা আসে। 

মেসার্স আই. টি. পি. প্রোডাক্টস নামে নতুন কোম্পানি খোলেন। শুরু হল নতুন পথ চলা। কৃষকের উদ্যোগপতি হওয়ার কাহিনি। হলুদ ছাড়াও ধনে, জিরা, লঙ্কার গুড়ো সহ বিভিন্ন মশলা নিজস্ব ব্রান্ডের প্যাকেজিং করে বিক্রি শুরু করলেন বাদরুল। প্রথমে নিজেই মার্কেটিং করতেন। চাহিদা বাড়তে থাকায় প্রচুর সেলসম্যান নিয়োগ করেন। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা, কলকাতায় মার্কেটিং শুরু হয়। তাঁর ব্র্যান্ড স্বাদ এখন বেশ পরিচিত নাম। উত্তর থেকে দক্ষিণবঙ্গে তার ব্যবসা ছড়িয়ে দিতে রয়েছে জেলায় জেলায় ডিষ্টিবিউটর।

প্রোডাক্টের গুণগত মান ঠিক রাখার দিকে বরাবর নজর দিয়েছেন বাদরুল। ভারত সরকারের ‘FSSAI’ ( ফুড সেফটি স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি অফ ইন্ডিয়া ) র সার্টিফিকেট পেয়েছে তার প্রোডাক্ট। এরপর বাজারে কাচ্চি ঘানির সরষের তেল আনতে চলেছেন। ব্যবসা শুরুর সময় মাত্র তিন লক্ষ টাকা ঋণ পেতে কালঘাম ছুটেছিল। কিন্তু আজ ছবিটা আমূল বদলে গেছে। অনেক ব্যাঙ্কই ব্যবসার জন্য তাকে ঋণ দেওয়ার প্রস্তাব দিচ্ছে। তবে এই বদল সম্ভব হয়েছে বাদরুল বাবুর এগিয়ে চলার মানসিকতায়। তার অসম্ভব মনের জোর তাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

একাই শুরু করেছিলেন বাদরুল ইসলাম। ব্যবসা বড় হওয়ায় স্ত্রী মুসাম্মত ফরিদা ইসলাম তার কাজে সাহায্য করেন। এর সাথে বেশ কয়েকজন কর্মী বাদরুল ইসলামের কারখানায় কাজ করছেন। একার প্রচেষ্টায় অনেকেই জীবিকার পথ পেয়েছেন। আরও এগিয়ে যেতে চান বাদরুল। সব ঘরে ঘরে তার প্রোডাক্ট পৌঁছে যাক এটাই তার আগামীর স্বপ্ন।


আরও পড়ুন

  1. শান্তিময়ের হলুদচাষে পুরুলিয়ায়ও সবুজ সিগন্যাল
  2. "সাধের লাউ বানাইলো..." উদ্যোগপতি
  3. ‘সোনার’ ফসলে নতুন পথের হদিশ