স্যোশাল মিডিয়ার কদর্য ব্যবহার থেকে রেহাই দেয় রেবলার

0

(প্রতিবেদন রেবলারের সৌজন্যে)

রেবলার হল স্যোশাল পোলিং অ্যাপ। সারা বিশ্বের জন্য মিডিয়া সমৃদ্ধ পোল তৈরি করতে পারে এই অ্যাপ। ২৫৫ ক্যারেকটারের মাইক্রো ব্লগিং লেয়ার রয়েছে এখানে। যদি অ্যাপের তত্ত্বের আরও গভীরে যাওয়া যায় তাহলে দেখা যাবে, ফাউন্ডিং টিমও তাকেই গুরুত্ব দিচ্ছে, যার সম্মুখীন হচ্ছে স্যোশাল মিডিয়াগুলি এবং একই বিষয় সমাধানের দিকে নজর দিচ্ছে।

আজকাল স্যোশাল মিডিয়াগুলিতে দুটি মূল বিষয় দেখা যায় যেগুলি রেবলারের মাধ্যমে মেটানো সম্ভব-

১. ট্রলস এবং অনলাইনে কুবচন

২. পাবলিশার এবং প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য

ট্রলস এবং অনলাইনে কুবচন

টুইটার নিয়ে বলতে গিয়ে উমর হক যেমন বলেছেন, ‘টুইটারের সমস্যা কিছু কিছু কারণে বেশ গভীর অথচ সরল। ফলে সহজে চোখে পড়ে না। এই অদৃশ্যতার মূল্য নিজেকেই চোকাতে হয়। এই প্রসঙ্গে আমার এক শব্দের ছোট্ট সংজ্ঞা, কুবচন। টুইটারকে আমরা একসময় সারা বিশ্বের টাউন স্কোয়ার ভাবতে লাগলাম যেখানে জনসমাগমে সবাই এসে মত ব্যক্ত করে। আমি কখনও টাউন স্কোয়ারের ওই সমাবেশের অংশ ছিলাম না যেখান মানুষ ঠেলা মারে, ধাক্কা মারে, বিদ্রুপ করে, চিৎকার করে, ভোগায়, হুমকি দেয়, আপনাকে চাপা দিয়ে দেয়, নিজের পুষে রাখা রাগ প্রশমনে এমন বিষয়ে কথা বলে যার অংশ নয় কেউই। এবং আপনি পুলিশে অভিযোগ করতে পারবেন না’।

রেবলার টিমের মতে ট্রল (যারা অনলাইনে ক্রমাগত আপত্তিকর বা উত্তেজন পোস্ট করে) আটকানোর কথা পরে ভাবলে চলবে না, এটা ডিজাইনিংয়ের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হতে পারে লগ ইন বেসড সিস্টেম ডিজাইন করা করা হয়েছে অথচ মোবাইল নম্বরকে ভেরিফিকেশনের মূল অংশ হিসেবে ধরা হয়েছে। এর ফলে ট্রল কমানো সহজ হবে। একবার নম্বর ব্যান করে দেওয়া হলে নতুন নম্বর নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। লগ ইন বেসড সিস্টেমে যেমন নতুন অ্যাউন্ট তৈরি করে ট্রলিং চলতেই থাকে। এখানে একবার ব্যান হলে ভালই ভোগান্তি। রেবলারের সহ প্রতিষ্ঠাতা অমল আগরওয়াল বলেন, ‘সব ট্রলদের কাছে আমরা স্পষ্ট করে দিতে চাই, ছোট হোক বা বড়, কোনও রকম গালিগালাজ চলবে না। তার উপর, ধরতে পারলে ট্রলদের শুধু বাদ দিয়েই ছেড়ে দেওয়া হয় না, এমন পরিস্থিতি তৈরি করা হয় যাতে ফের ট্রলিং না হয়’।

কোনটা অ্যাবিউজ তার কোনও মাপকাঠি রেবলার অ্যাপের নেই। কারণ নিয়মের অনেক ফাঁক থাকে। বিচারের জন্য প্রাচীন ইস্টার্ন ইনস্টিটিউশনাল সিস্টেম মেনে চলা হয়। অ্যাবিউজের কোনও সংজ্ঞা হয় না, অথচ আপনি বুঝতে পারবেন কোনটা অ্যাবিউজ আর কোনটা নয়। অমল বলেন, ‘যুবসমাজের আইকন চেতন ভগতকে আমি অন্ধাভাবে অনুসরণ করি। নানা সময় নানা ইস্যু তুলে ধরেন। চেতনের সব মত যে মেনে নিই তা নয়। অথচ একজন কাউকে দেখলাম না ওর সঙ্গে স্যোশাল মিডিয়ায় বিতর্কে যেতে’।

‘যারা টুইট করেন তারা অরাজনৈতিক ইস্যুতেও লড়াইয়ে জড়িয়ে পরেন। অনেকে আছেন রাজনৈতিক ইস্যু নিয়েও টুইটে হল্লা করেন। টুইটে গণধোলাই থেকে এখন ঘুরে দাঁড়াতে হবে। সাহসের দরকার, আর তার জন্য চেতন ভগতকে সেলাম!’ আরও সচেতনভাবে অমল বলেন, ‘যদি ওর সঙ্গে দেখা হত,তাহলে রেবলারদের গুলি করে মারতে বলতাম। যদিও সংস্থা হিসেবে এখনও আমরা ছোট, তবে এখনকার স্যোশাল মিডিয়াগুলি যা দিচ্ছে তার থেকে অনেক বেশি অর্থবহ পরিষেবা দিতে পারব’।

বিচার করতে গেলে রেবলারের মূল সুবিধা হল, আলোচনার শেষে সাধারণ মানুষের মতামত জানা যায়। কেনও একটা ইস্যুতে মানুষের মত কোনদিকে বোঝা যায়। বিবেক সিং, সিটিও এবং সহ প্রতিষ্ঠাতা, এর সঙ্গে যোগ করেন, ‘ভেরিফিকেশনের জন্য মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে আমাদের পোলিং প্ল্যাটফর্মের শুদ্ধতাই প্রমাণ করে। এমন কাউকে চাই না যাদের হাজারো লগইন রয়েছে’।

স্যোশাল মিডিয়া যেগুলি রয়েছে পাবলিশারের ছেড়ে কথা বলে না। তাদের কনটেন্ট বেশ ভালো। তাদের ধারণা গ্রাহক স্যোশাল মিডিয়ায় লিঙ্ক এ ক্লিক করে তাদের পেজে ফিরে যাবে। অ্যাডের মাধ্যমে আরও বেশি দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তারা চায় গ্রাহক সারাক্ষণ তাদের প্ল্যাটফর্মেই থাকে, এক মুহূর্তের জন্য ছেড়ে না যায়। রেবলার এই সবকিছুর সমাধান দেয় বলে দাবি করে।

‘রেবলারে আমরা সবসময় একধাপ এগিয়ে থাকি’, বলেন আমোদ আগরওয়াল, সহ প্রতিষ্ঠাতাদের তৃতীয় ব্যক্তি। কেন পাবলিশাররা স্যোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি রোজগারের উৎস করতে পারছেন না? যদি কারও ৫০ লক্ষ ফলোয়ার থাকে তাহলে নিজের ওয়েবসাইট করার দরকার নেই। ওই স্যোশাল মিডিয়া পেজটাই অর্থকরি হয়ে ওঠে। ঠিক এটাই বলতে চায় রেবলার।

খবরের দিক থেকে দেখতে গেলে, রেবলার ফেমিনা মিস ইন্ডিয়া ২০১৬র ভোটাভুটির দিকটার দেখভাল করবে। এই ভোটাভুটিই হল আসল ব্যাপার। ফ্যাশন ব্লগ এবং মিডিয়া আউটলেট নিজেদের পোর্টালে এই পোল বা ভোটাভুটি গ্রহণ করে লাভবান হবে। এবং প্রথমবারের মতো মিস ইন্ডিয়াকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা গেল এক ‘আম-আদমীর’ কাছে।

অনুবাদ-তিয়াসা বিশ্বাস