বাংলার মা, সন্ত ছিলেন, আছেন, থাকবেন

6
Our Lord wants me to be a free nun covered with the poverty of the cross. Today I learned a good lesson. The poverty of the poor must be so hard for them. While looking for a home I walked and walked till my arms and legs ached. I thought how much they must ache in body and soul, looking for a home, food and health. Then the comfort of Loreto [her former order] came to tempt me. 'You have only to say the word and all that will be yours again,' the Tempter kept on saying ... Of free choice, my God, and out of love for you, I desire to remain and do whatever be your Holy will in my regard. I did not let a single tear come. – Mother Teresa

মাদার টেরেজাকে নিয়ে বাঙালির গর্বের শেষ নেই। বাঙালি নন, একথা কেউ কোনও দিন বলেনি। আলবেনিয় এই নারী ভারতের দরিদ্র মানুষের সেবায় জীবনের সুমধ্যম সময় অতিবাহিত করেছেন। লোরেটো হাউসের আরামকে উপেক্ষা করে কলকাতার অবহেলিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কঠিন সংগ্রাম করেছেন। শুধু কলকাতা নয়, কিন্তু কলকাতার হৃদয়ে অধিষ্ঠিত হয়েই গোটা পৃথিবীর দরিদ্র, পীড়িত আর নিরন্ন-নগ্ন মানুষের আশ্রয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। মাদার টেরেজাকে তাই কলকাতার মানুষের কাছে নতুন করে পরিচয় করানোর কিছু নেই। সাদা সুতির শাড়ি, নীল রঙের পাড়, মাথায় বাঙালি নারীর মত ঘোমটা সরল হাসির আড়ালে লুকিয়ে রেখেছিলেন তাঁর সেন্টহুড।

ব্লেজেড টেরেজার ক্যানোনাইজেশনের প্রয়োজন ছিল না। আমরা জানতাম তিনি সেন্ট। তাঁর গগনচুম্বী শান্ত নয়ন জোড়া ইজরায়েল, প্যালেস্টাইনের গুলির মুখে কুলুপ এঁটে দিয়েছিল। তিনি তাঁর মহত্তর মানবতা দিয়ে বেইরুট অবরোধের মুখ থেকে উদ্ধার করে এনেছিলেন বিপন্ন শিশুদের।

কুষ্ঠ আর্ত মুমূর্ষু মানুষের মা হয়ে যে নারী গোটা বিশ্বের কুর্নিশ কুড়িয়েছেন তিনি যে সন্ত তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি তাঁর স্বপ্নের আকার দিতে গিয়ে ডায়েরির পাতায় লিখছেন এ হল এমন এক মিশন যা অবহেলিত মানুষের জন্যে নিবেদিত। তাঁর নিজের ভাষায়,

Its mission is to care for the hungry, the naked, the homeless, the crippled, the blind, the lepers, all those people who feel unwanted, unloved, uncared for throughout society, people that have become a burden to the society and are shunned by everyone.

মাদার এবার ঘোষিত ভাবে সন্ত হচ্ছেন। ক্রিশ্চান বিশ্বে হাজার দশেক সন্তের উল্লেখ আছে। কেউ কেউ বলেন সংখ্যাটা আড়াই হাজারের একটু বেশি। রেভারেন্ড বাটলার ১৭৫৬ সালে তাঁর Lives of Saints গ্রন্থে লিখছেন ১৪৮৬ জন সন্তের কাহিনি। ডোনাল অ্যাটওয়াটারের গ্রন্থে ২৫৬৫ জন সন্তের উল্লেখ আছে। সেই ক্লাবে ঠাঁই পেলেন আমাদের সকলের মা টেরেজা। এর থেকে বড় আনন্দের মুহূর্ত হয় না। সাইমিওনদের ক্লাবে মাদার টেরেজা মানে মাদারের ছবিতে জ্যোতির্বলয় আঁকা হবে। ঘোমটার পিছনে স্বর্গীয় বলয় থাকবে। মাদারের নামে চার্চের নামাঙ্কন হবে। সিস্টার থেকে মাদার, মাদার থেকে সেন্ট হওয়ার এই যাত্রা পথে যে কঠিন লড়াই লড়েছেন আজ যেন তাইই সম্মানিত হতে চলেছে।

এই সম্মানে গোটা বিশ্বের পীড়িত নিরন্ন মানুষের বেঁচে থাকার সংগ্রামই সম্মানিত হল। সেন্ট টেরেজার আশীর্বাদ হত দরিদ্র মানুষের ওপর বর্ষিত হোক এই প্রার্থনা রইল বাংলা ইওর স্টোরির পক্ষ থেকে। আমেন।