দুটো পা হারিয়েও ভলিবল তারকা ফেলিসিয়া

0

৩৬ বছরের ফেলিসিয়া সাফিগ। জন্মেছিলেন ফিজিতে। মা ছিলেন পরিচারিকা। পরে চাকরির খোঁজে সাফিগ পরিবার আমেরিকায় পাড়ি দেয়। ফেলিসিয়ার বয়স তখন মোটে ১২। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়ার পরে সেদেশে ফেলিসিয়ার মা গাড়ির ডিলারশিপ সংস্থায় মনোমতো কাজ পান। মায়ের সান্নিধ্যে ফেলিসিয়া লেখাপড়া করতে করতে বড় হয়ে উঠেছেন। চাকরি করেছেন আমেরিকার নামী কয়েকটি সংস্থায়।

সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। কিন্ত বিধি বাম। আচমকা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন প্রাণবন্ত মেয়ে ফেলিসিয়া। অসুস্থ হওয়ার আগে প্রিয় শখ বলতে ছিল ভলিবল খেলা। কিন্তু রক্তের অসুখে আক্রান্ত হয়ে ফেলিসিয়ার শারীরিক অবস্থার এতই অবনতি হয় যে মার্কিন মুলুকের চিকিৎসকেরাও তাঁকে বাঁচানোর আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন। ফেলিসিয়া জানিয়েছেন, রোগশষ্যায় তাঁকে দিনের পর দিন তীব্র যন্ত্রণা সইতে দেখে একসময়ে মাও চাইলেন, যন্ত্রণা থেকে মেয়ে মুক্তি পাক।

কিন্ত ভালোবাসার টান বোধহয় মৃত্যুকেও হার মানায়। ফেলিসিয়া ছোটবেলা থেকে দেখেছেন তাঁর মায়ের সংগ্রামী মূর্তি। প্রিয় মাকে ছেড়ে পৃথিবী থেকে বিদায় নিতে চাননি তিনি। ফেলিসিয়ার কথায়, বিছানাতে শুয়ে শুয়েই ভগবানের কাছে প্রার্থনা করতাম, আমার মায়ের কাছ থেকে এখনই আমায় কেড়ে নিও না ঈশ্বর।

ঈশ্বর ওঁর ওই প্রার্থনা শুনেছেন। কিন্তু রোগশয্যা থেকে ফেলিসিয়া শেষপর্যন্ত রেহাই পেলেও তিনি চলচ্ছক্তিহীন হয়ে পড়েন। যে সংস্থায় চাকরি করতেন তাঁদের পক্ষ থেকে সেইসময়ে ফেলিসিয়াকে ভরসা দেওয়া হয়, চাকরি-বাকরি নিয়ে ফেলিসিয়া যেন কোনও দুশ্চিন্তা না করেন। কম্পানি তাঁকে বাতিল করবে না।

জীবনের দুর্বিপাকের এ ধরনের ঘটনাগুলি যখন ঘটেছে, সেইসময়ে ফেলিসিয়ার বয়স ২৫। বর্তমানে ৩০ বছর বয়সী ফেলিসিয়া মনে করেন, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আদতে কিছুই কেড়ে নিতে পারেনি। এমনকি তিনি ফিরে পেয়েছেন প্রিয় ভলিবল কোর্টও। দিনে আট ঘন্টা কাজের স্বাভাবিক রুটিনেও ফিরে গিয়েছেন তিনি।

ভলিবল কোর্টে ফিরতে ফেলিসিয়া অবশ্য পাশে পেয়েছেন তাঁর বন্ধুবান্ধব ও ভারপ্রাপ্ত সাইকোথেরাপিস্টকে। সকলেই মিলিতভাবে ফেলিসিয়াকে প্রেরণা জুগিয়েছেন।

সম্প্রতি ফেলিসিয়া দলের সঙ্গে খেললেন এলেন পারা প্যান আমেরিকান গেমসে। এই প্রতিযোগিতায় ব্রোঞ্জ বিজয়ী হয়েছেন। খেলতে গিয়েছেন জার্মানি, ব্রিটেন, চিনে। এবার ভলিবল খেলতে পাড়ি দিচ্ছেন ব্রাজিলে।

নিজের বেঁচে থাকাটাকে চ্যালেঞ্জ বলেই ভাবেন সংগ্রামী ফেলিসিয়া। বর্তমানে প্রতিবন্ধী ছেলেমেয়েদের ভলিবল খেলা শেখানোর জন্যে প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ করছেন। সেইসঙ্গে তিনি এও দেখিয়ে দিয়েছেন, স্রেফ মনের জোর থাকলে পঙ্গুর পক্ষেও গিরিলঙ্ঘন করাটা তেমন কোনও ব্যাপারই নয়!