জেনে নিন Zendesk এর জেনেসিস

5

এখন গোটা বিশ্বে জেনডেস্ক একটি পরিচিত নাম। বিশেষত সফ্টঅয়্যারের দুনিয়ায় জেনডেস্কের জয়জয়কার। একাশি হাজার কাস্টমারের সমস্যা সামলায় এই সংস্থা। ৭৫ হাজারের বেশি সংস্থা এদের সার্ভিস নেয়। বিশ্বের বারোটা শহরে দেড় হাজারের বেশি মানুষ এই সংস্থায় কাজ করেন। ২০১৪ সালে বাজার আইপিও ছেড়েছে এই সফ্টঅয়্যার সংস্থা। ইওর স্টোরির টেক স্পার্কের মঞ্চে দাঁড়িয়ে সংস্থার অন্যতম সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং চিফ টেকনিকাল অফিসার মোর্টেন প্রিমডাল যখন জেনডেস্কের কাজ, কাজের পরিধি, এবং গ্রাহকের তৃপ্তির প্রসঙ্গে বলছিলেন তখন জেনডেস্কের জেনেসিসের কাহিনিটা উঁকি মারছিল। বারবার কৌতূহল তৈরি হচ্ছিল, এই সংস্থার তৈরি হওয়ার দিন গুলো কেমন ছিল সেটা জানার। জানা গেল সেই শুরুর শুরুর কাহিনি।

১৯৯৯ সালে মোর্টেন তখন বায়োটেকনোলজির ছাত্র। ডেনমার্কের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। সিদ্ধান্ত নিলেন এক বছরের একটা ছুটি নেবেন এবং অন্যরকম কিছু করার চেষ্টা করবেন। সেসব দিন গুলোয় তিনি কম্পিউটারের ব্যাপারে খুবই উৎসাহিত হয়ে পরেন। স্থির করেন কম্পিউটার নিয়েই কিছু একটা করবেন। এবং এভাবেই মিক্কেলের সঙ্গে এবং মিক্কেলের তত্বাবধানে কাজ করা শুরু করেন। আলেকজান্ডার আঘাসিপোর, মোর্টেন প্রিমডাল এবং এই মিক্কেল সোয়ানে তিনজনের কেউই তখন দুর্দান্ত কিছুই করছিলেন না। পার্ট টাইম কনসালটেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। এরকম সময়ই জেনডেস্ক নিয়ে কাজ করা শুরু করেন ওরা। প্রথম দিকে যেমন হয়, বিশেষজ্ঞরা টিকি নাড়িয়ে বলেন এসব চলবে না, কারণ প্রোডাক্টটি অতীব সরল প্রকৃতির। কিন্তু মোর্টেন, মিক্কেল এবং আলেকজান্ডার বাজারটা দেখতে পাচ্ছিলেন। সফ্টঅয়্যার পরিষেবা হিসেবে আগামী দিনের বাজারে তাদের জায়গা পাকা করার দৌড় উপলব্ধি করেছিলেন ওরা। যে সরলতার জন্যে একদল লোক নাক সিটকেছিল সেই সাবলীল সরলতাই ইউএসপি করলেন ওই তিনজন। কাস্টমারের সমস্যা সমাধানের সময় কিংবা কাস্টমারের জন্যে যে ইন্টারফেস তৈরি হয়েছে সেখানে কোথাও কোনও জটিলতার অবকাশ নেই।

তা বলে লড়াই থামল না। ২০০৫ সালেও ওদের ভাঙাচোরা অবস্থা। জেনডেস্ক নিয়ে কাজ চলছে তবুও অন্য সংস্থার হয়ে কনসাল্টেন্ট হিসেবে কাজ করছিলেন তিন কর্ণধারই। মোর্টেন তত দিনে টের পেয়েছেন প্রোডাক্টের ডিএনএ তে যদি উদ্যোগপতি না ঢুকতে পারেন তবে ঠিক ঠাক প‌্রোডাক্টটা ঠাহরই করতে পারবেন না।

এসব সাত পাঁচ ভেবে ২০০৭ এ ওরা পুরো সময়টাই জেনডেস্ককে দিতে শুরু করলেন। বাড়তে থাকল সংস্থা। সংস্থা গতির স্বাদ পেল তখনই। ধীর লয়ে হলেও ক্রমাগত একটা অগ্রগতি চোখে পড়ল। কিন্তু বাইরের ফান্ড জোগাড় করাটাই সেক্ষেত্রে ভীষণ জটিল সমস্যা হয়ে উঠল। এবং একটা সময় অসম্ভবও ভাবতে শুরু করেছিলেন অনেকেই। কারণ সেই সময়টায় ডেনমার্কে বিনিয়োগের আবহাওয়া ছিল বেশ কঠিন। ফলে বাইরের টাকা নেওয়ার আর কোনও অবকাশ থাকল না। কিন্তু সংস্থা চালানোর জন্যে টাকা তো দরকার। এবার ওরা গেলেন বন্ধুদের কাছে, আত্মীয় স্বজনের কাছে হাত পাতলেন। এভাবেই শুরু হল জেনডেস্কের ভীত।

মোর্টেন টেক স্পার্কে অংশগ্রহণকারী সমস্ত উদ্যোগপতিকে হতাশ হতে নিষেধ করছেন নিজেদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন মন খারাপ করার কিছুই নেই যদি আপনি টেক থার্টির লিস্টে নাও আসেন তবুও আপনি সাফল্য পেতে পারেন।

যেমন ওরাও শেষমেশ ফান্ড পেলেন। এমন বিনিয়োগকারীকে পেলেন যারা বিশ্বাস করলেন যে জেনডেস্ক কাজটা পারবে। ফলে প্রথম সিড রাউন্ডে পাঁচ লক্ষ ডলারের ফান্ড এলো। ২০০৯ সালে। ততদিনে সিলিকন ভ্যালিতে দফতর খুলে ফেলেছেন ওঁরা। তারপর চারটে ফান্ডিং রাউন্ড ঘুরেছেন। ইতিমধ্যে ঘরে ঢুকেছে আট কোটি পঞ্চান্ন লক্ষ মার্কিন ডলারের ফান্ড। বাজার থেকে টাকা তুলতে ২০১৪ সালে আইপিওও ছেড়েছে জেনডেস্ক। ভারতের বৃদ্ধির আসল ছবিটা দেখে দারুণ খুশি মোর্টেন এবার তাই ভারতের বাজার ধরতে শাখা দফতর খুলছেন বেঙ্গালুরুতে।

Related Stories