তিন বন্ধুর Fat Monk থেকে নেপালি খানার Thakali

1

তিন বন্ধু। সাচিকো, অম্বিকা আর গৌতম। বয়স কুড়ির কোঠায়। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বেড়ে ওঠা। সাচিকোর মা ডোমা ওয়াং কলকাতার বুকে ব্লু পপি নামে একটি রেস্তোরাঁ চালান। দিনভর খদ্দেরর ভিড় লেগেই থাকে। সে-ই ওদের অনুপ্রেরণা। তিন বন্ধু পকেট মানি, বাড়ির সাপোর্ট আর ছোটোখাটো কাজ করে জমানো পয়সা দিয়ে সল্টলেক সিটিন্টারের উল্টো ফুটে ছোট্ট কিয়স্ক বানায়। নানারকম খাবারের পশরা নিয়ে বসে পড়ে। সেটা গতবছরের কথা। দ্য ফ্যাট মঙ্ক নামের ওই ফুটের ছোট্ট কিয়স্কের আয়োজনও ছিল অল্পই। ভাত, মোমো, নুডলস এবং সাইড ডিশে চিকেন ও পর্ক। তাতেই এলাকায় বেশ নাম কুড়িয়ে নেয় ফ্যাট মঙ্ক। একটাই অসুবিধে, বসার কোনও ব্যবস্থা ছিল না। যারা খেতে আসতেন, বসার জায়গা খুঁজতেন।

‘একেবারেই রাস্তার ধারে ফুটপাথের কিয়স্ক। তাই তখন থেকেই জায়গা খোঁজা শুরু। রেস্তোরাঁ খোলার ভাবনাটা আরও চেপে বসে’, পুরনো দিনের কথা মনে করেন সচিকো। সেই জায়গা খুঁজে পাওয়া গেল সল্টলেক চার নম্বর ট্যাঙ্কে বি ই ব্লকে। ‘ঠিক করলাম একেবারে খাঁটি নেপালি খাবারের রেস্তোরাঁ হবে। নাম রাখলাম থাকালি। নেপালি উপজাতির নামে রাখা হল। ফ্যাট মঙ্কের মেনুও অবশ্য এখানে পাওয়া যাবে’,জানান বিজনেস পার্টনার গৌতম।

এপ্রিলের শুরু থেকে থাকালির পথ চলা শুরু। মেনুও বেশ লোভনীয়। নেপালি থালি বা থাকালিতে পাওয়া যাবে ভাত, করলা ভাজা, কালি ডাল, পাঁপড়, গোর্খে আচার, পেঁয়াজ, রসুন শর্ষের তেলে মাখা এক ধরনের আচার যার নাম সাদেখো গান্ডরাক আচার, আলু কা আচার, মরশুমের সবজি এবং পর্ক কারি। কেউ চাইলে চিকেন কারিও আছে। আর এই সবকিছু নিয়ে যে থালি তার দাম মাত্র আড়াইশো, ভেজ থালি ১৮০ টাকা। পরিবেশন কাঁসার থালায়। থাকালি উপজাতির নাকি এটাই বৈশিষ্ট্য। অম্বিকা বলছিলেন, একশো শতাংশ নেপালি স্বাদ আনার চেষ্টা করেছেন ওরা। যারা নেপালি খাবার ভালোবাসেন বা স্বাদ বদল করতে চান তাদের সবাইকে স্বাগত, চেখে দেখতে পারেন থাকালির রন্ধন শৈলী। স্বপ্ন পূরণের আনন্দে চকচক করছে অম্বিকার চোখ। তিন বন্ধু নিজেদের মধ্যে কাজও ভাগ করে নিয়েছেন। এক মেনুতেই আটকে থাকতে চান না ওরা। যত দিন যাবে নতুন নতুন পদ মেনুতে আসবে বলে জানিয়ে রাখলেন থাকালির তিন উদ্যোগপতি।

Related Stories