উদ্যোগপতিদের চোখে নরেন্দ্র মোদি

0

নরেন্দ্র মোদী। দেশের প্রধানমন্ত্রী। রাজনীতির মানুষ। নীতি আদর্শ দর্শনের গণতান্ত্রিক কাঠামোয় নরেন্দ্র দামোদর ভাই মোদিকে বারবার নেমে আসতে হয় চায়ের ঠেক, রকের আড্ডায়। দু দুটো বছর পেরিয়ে এসেছেন তিনি। Modi(fied) দেশ ঠিক পথে চলছে কিনা তা নিয়ে দেশের মানুষই একমাত্র কষ্টিপাথর। কারণ এই দেশে মানুষই শেষ কথা। মোদির দু বছর কেমন কাটল সেটা জানতে আমরা আম জনতার কাছে পৌঁছেছিলাম। 

ক’টা দেশ ঘুরলেন তিনি, কোন কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হল, কী কী করলেন, কী কী প্রতিশ্রুতি দিলেন, কিংবা মন কি বাত বলে মানুষের হৃদয়ে কতটুকু প্রলেপ লাগালেন সেই গল্পের চর্বিত চর্বন করতে চাইনি। আমরা মানুষের কাছে দায়বদ্ধ একটি গণমাধ্যম। আপনারা জানেন নিম্নবর্গের মানুষের আশা আকাঙ্খা, লড়াই উত্তোরণের একটি দলিল তৈরি করার কাজে মনোনিবেশ করেছি আমরা। ফলে আমাদের সামগ্রিক দায়বদ্ধতা সেই সব মানুষের কাছে যারা আমাদের কাহিনির চরিত্র। তাঁদের কাহিনিই আমরা বলে চলেছি গত সাত আট বছর ধরে। এবং প্রায় একটি বছর বাংলা ভাষায় আপনাদের কাছে নিয়ে আসছি সেই সব অকথিত নায়কদের কাহিনি। তার মাঝখানে নরেন্দ্র দামোদর ভাই মোদিরও প্রাসঙ্গিকতা আছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী। দেশের মানুষের নায়ক। তার কাছেই নানান প্রত্যাশা। দেশের উন্নতির সব কৃতিত্ব তাঁর। অবনতির দায়ও। ফলে জেনে নেওয়া দরকার কী চান জনতা। কী প্রত্যাশা তাঁর কাছে। প্রশ্ন ছিল একটাই ‘কেমন লাগছে মোদির শাসন?’ উত্তর এসেছে ভুঁড়ি ভুঁড়ি।

কেউ বলছেন নিখাদ রাজনীতি। কেউ বলছেন রাজনীতির থেকেও এগিয়ে গিয়েছে ভদ্রলোকের সদিচ্ছা। কেউ স্বচ্ছভারত মিশনের প্রেমে পড়ে গেছেন। কেউ বা বলছেন জন-ধন যোজনার কথা। কিন্তু কেউই আর ‘মোদি মানে গোধরা’ এই প্রসঙ্গ টেনে আনছেন না। মানুষের স্মৃতি দুর্বল। কিন্তু তার থেকেও মোদি নিজেকে গোধরার অন্ধকার দিন থেকে বের করে আনতে পেরেছেন। এটাই তাঁর মৌলিক সাফল্য।

আমরা একশ সাতাশ জনকে প্রশ্ন করেছিলাম। তার মধ্যে ৭৫ শতাংশ মানুষই মোদির কাজকে সদিচ্ছার প্রতিফলন বলছেন। ২০ শতাংশ বলছেন রাজনৈতিক গিমিক। আর মাত্র ৫ শতাংশের বক্তব্য মোদি যা করছেন তাতে মানুষ খুশি নয়।

এই গণতান্ত্রিক সার্ভে থেকেই প্রমাণ হয় দুই তৃতীয়াংশ মানুষ রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মোদিকে নম্বর দিয়েছেন। এটা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রাপ্য।

কথা হচ্ছিল বাংলার বেশ কয়েকজন উদ্যোগপতির সঙ্গে। সবাই বলছিলেন উদ্যোগপতিদের অনেক কিছুই মোদি সাহেবের কাছ থেকে শেখা উচিত। কেউ কেউ নিজেদের নাম প্রাকাশে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন। অনুরোধ করেছেন নাম প্রকাশ না করতে কিন্তু বেশ কিছু মানুষ বলেছেন নাম প্রকাশে কোনও অসুবিধে নেই। সাংবাদিক কস্তুরি চট্টোপাধ্যায় তাঁদের একজন। তিনি বলছিলেন, মোদির বাচনভঙ্গিই তাঁকে মুগ্ধ করে। যে গভীর প্রত্যয় নিয়ে নরেন্দ্র মোদি কথা বলেন সেটা যেকোনও উদ্যোগপতির শেখা উচিত। মোদি সাহেব ঝিমিয়ে পরা হতোদ্যম ভারতকে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন। তাঁর আবেগই তাঁকে অন্য নেতাদের থেকে এগিয়ে রাখে। তিনি নিজে ঘুরে দাঁড়িয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন কিভাবে ঘুরে দাঁড়াতে হয়। একটা সমালোচনা, নিন্দার বলয়ে থাকা মানুষ, গোটা দেশ, গোটা পৃথিবী যার দিকে ভ্রূ কুঁচকে তাকাতো। যার নামের সঙ্গে লেগেছিল জাতি দাঙ্গার কালো দাগ সেই নরেন্দ্র মোদি জনগণ মন অধিনায়ক হয়ে উঠলেন। লালকেল্লা থেকে ঐতিহাসিক ভাষণে ভারতকে দাঁড়ানোর মন্ত্র দিলেন। স্টার্টআপ ইন্ডিয়ার পর উচ্চারণ করলেন স্ট্যান্ডআপ ইন্ডিয়া। আজ এই শব্দবন্ধ অগণিত স্টার্টআপ উদ্যোগপতিকে প্রাণিত করে।

এই পশ্চিমবঙ্গেরই আরও এক উদ্যোগপতি কল্যাণ কর বলছিলেন, তিনি আমাদের ভিতর আত্মমর্যাদার বোধ জাগিয়েছেন। একজন উদ্যোগপতির নিজের প্রতি সম্মান থাকা দরকার। নরেন্দ্র মোদি গোটা দেশের মানুষকে সেই গর্ববোধ দিয়েছেন যে সে ভারতীয়। একজন গর্বিত ভারতীয়ই ভারতের মর্যাদার প্রশ্নে মাথা তুলতে পারে। এগিয়ে যেতে পারে সাফল্যের লক্ষ্যে। অনাবাসী ভারতীয়দের কাছে ছুটে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁর কথা শুনতে গোটা ইউরোপ আমেরিকার অনাবাসী ভারতীয়রা ভিড় জমিয়েছেন। তাঁদের হৃদয়ে গর্বিত ভারতীয়ত্বের বোধ জাগিয়েছেন তিনি। ফলে গোটা পৃথিবী জুড়ে তাঁর নেতৃত্বের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ভারতীয় সমাজ। কল্যাণের সাফ কথা নরেন্দ্র মোদিই দেখিয়েছেন, একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে বিশ্বের সব থেকে বড় গণতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী হওয়া সম্ভব। এটা খুবই জরুরি ছিল। একজন ‘চাওয়ালা’ যদি পারে তাহলে তুমি পারবে না কেন। এই আত্মবিশ্বাসের প্রয়োজনীয়তা ছিল। এর ফলে যে কেউ আকাশের ছাদ ছুঁয়ে দেখার স্বপ্ন দেখতে পারে। সব উদ্যোগপতির ভিতরই নরেন্দ্র মোদি সাহস সঞ্চার করেছেন। কল্যাণ বলছিলেন, এক-দুই-তিন করে বলতে গেলে নরেন্দ্র মোদি প্রথমত গোটা জাতির ভিতর রাজসিক অহঙ্কারের সঞ্চার করেছেন। দুই, স্বপ্ন দেখার সাহস দিয়েছেন। তিন, সাধারণ মানুষের জন্যে প্রযুক্তির পরিধিকে বিস্তৃত করেছেন, যার সরাসরি উপকার পেয়েছে সাধারণ মানুষই। পরোক্ষে উপকৃত হয়েছেন উদ্যোগপতিরা। বাজার মুক্ত হয়েছে। অর্থনীতির বিকাশ হয়েছে। এবং চার, নরেন্দ্র মোদি গত দু বছরে যেভাবে দেশ চালিয়েছেন তাতে অনেক চড়াই উৎরাই এসেছে। সেই পরিস্থিতিকে যেভাবে সামলেছেন। তা দেখে শেখা উচিত যেকোনও উদ্যোগপতিরই। মাথা ঠাণ্ডা করে কাজ করে যাওয়ার শিক্ষাই দেন মোদি।

কলকাতার অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টমেন্ট নেটওয়ার্ক সংস্থা CAN এর চিফ অপারেটিং অফিসার সৌম্যজিত গুহ, উদ্যোগপতিদের নিয়েই কাজ করেন। ছোট মাঝারি স্টার্টআপদের সঙ্গে রাতদিন ওঠাবসা। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বলছিলেন, মোদি সাহেবের কাছ থেকে অনেক কিছুই নাকি শেখার আছে উদ্যোগপতিদের। বলছেন,
১. পরিশ্রমের যে বিকল্প হয় না সেই প্রবাদ বাক্যের প্রতিমূর্তি খোদ নরেন্দ্র মোদি।
২. বিনয়ের সঙ্গে মাটির কাছাকাছি, মানুষের কাছাকাছি থাকার শিক্ষাও মোদির কাছ থেকে শেখা উচিত। যত বেশি মানুষের কাছাকাছি থাকা যাবে তত বেশি সাফল্যের কাছাকাছি পৌঁছন যাবে।
৩. দেশের নেতাই বলুন কিংবা সংস্থার মালিক। কিভাবে অধিকারবোধ দায়িত্ববোধের জন্ম দেয় সেটা প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছ থেকে শেখা উচিত। সংস্থার কর্ণধারদের উচিত প্রধানমন্ত্রীর মতই সংস্থার হাল ধরা।

কর্ণাটকের এক ব্যবসায়ী প্রশান্ত সাগর বলছেন, স্টার্টআপ ইন্ডিয়ার আইডিয়াটাই দেশের ফান্ডিং এবং বিনিয়োগের পরিবেশকে চাঙ্গা করে দিয়েছে। ভারত খুব শিগগিরই বিজনেস নেশন হয়ে যাবে। এখন বেঙ্গালুরুতে যাকে জিজ্ঞেস করবেন সেই বলবে সে ব্যবসা শুরু করতে চায়। কারণ ওরা মনে করছে সরকারের সহযোগিতা ওরা পাবেন। এই বিশ্বাসটাই আগে ছিল না। আরেক উদ্যোগপতি Agrico র প্রতিষ্ঠাতা এবং CEO জয়প্রকাশ মনে করেন মোদির দেখানো পথে চললে, মার্কিন মুলুক কিংবা পশ্চিমি দুনিয়ার থেকেও সুন্দর হবে ভারত। ঝাঁ চকচকে, পরিচ্ছন্ন। ব্যবসা বাণিজ্যে অগ্রণী। নতুন নতুন যেসব বিজনেস প্ল্যান আসছে এবং উৎসাহ উদ্দীপনার যে জোয়ার তিনি দেখতে পাচ্ছেন তাতে জয়প্রকাশ বিশ্বাস করেন ফলও আসবে খুব শিগগিরই। CavinKare এর প্রতিষ্ঠাতা কর্ণধার সি কে রঙ্গনাথন বলছেন, “If you do Anything with Passion you will create Magic” এই ম্যাজিকটাই করে দেখিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।