ক্যামাক স্ট্রিটে No চিন্তা Do আফরা তাফরি

0

‘আফরা তাফরি’ একটি উর্দু শব্দ। বাংলা মানে পাগলামি। কড়া আলো, কান ফাটানো মিউজিক, শব্দের তোড়ে হারিয়ে যাওয়া কথা—সব মিলিয়ে ঝালাপালা অবস্থা। ক্যামাক স্ট্রিটে ১০ হাজার স্কোয়ার ফিটের এই ঠিকানা যাদের জানা নেই তাদের জন্য বলে রাখি একবার ঘুরে আসুন। অন্য রকম অনুভূতি হবে। আইডিয়ার নেপথ্যে অরেঞ্জ ফুড অ্যান্ড এন্টারটেনমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেডের তিন উদ্যোক্তা সন্দীপ গোয়েঙ্কা, রাজীব নাথানি এবং শচিন সরফ। উদ্দেশ্য ছিল কলকাতাকে দিনভর এনজয় করার মতো জায়গা উপহার দেওয়া। আর আফরা তাফরি তে গেলে সেটা টের পাবেন কাকে বলে উদ্দেশ্য সফল হওয়া।

তিন বিজনেস পার্টনার ঠিক করেই নিয়েছিলেন এমন কিছু করতে হবে যা কলকাতায় নেই। ‘সব ধরনের মানুষের জন্য একটাই জায়গা হবে। হতে পারে পারিবারিক গেটটুগেদার অথবা ধুমধারাক্কা পার্টি। দিনের কোন সময় হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করছে রেস্তোরাঁ ব্যবহারের ধরন। বার এবং মেনু ঠিক করার সময় এই ব্যাপারটাই মাথায় রাখা হয়। মেনু ও অন্যরকম। খুম্ব গালুটি পহেলে আপ, দেশি সোয়াগ নাচোস, পাত্তে পে পাত্তা—এ সবই পদের নাম। তিনটি ভাগে গোটা রেস্তোরাঁকে ভাগ করা। সব শেষে বিরাট একটা রুম যাকে কনফারেন্স রুম হিসেবেও ব্যরবহার করা যেতে পারে। তারপর মূল বসার জায়গা যেখানে বার আছে। ঠিক তারপরই খোলা স্মোকিং জোন। পাবের লক্ষ্য আধুনিকতা বজায় রেখে পুরনো কলকাতার আকর্ষণকে ফিরিয়ে আনা।

আর এর পেছনে মূল হোতা কে জানেন? বিখ্যাত শেফ রণবীর ব্রার। এবার বুঝতে পারছেন তো পদের নামে এমন হেঁয়ালি কেন? ফিউশন হল ব্রা’র সিগনেচার স্টাইল। নামের মতো পদগুলোও এক্কেবারে হাটকে। যেমন ধরুন ‘আক্কাদ বাক্কাদ খুক্কদ’, ‘মাশরুম চায়’, ‘দেশি ম্যাকক অ্যাভন্ড চিজ’, ‘দ্যা নো ননসেন্স পিৎজা’, ‘সুইট নাচোস’, ‘মাসি পিসি টিফিন’। মেনু দেখে থমকে যাবেন না। ভারতীয় এবং বিদেশি পদের মিশেলে নানা পদের এমন অদ্ভুতুড়ে নাম রেখেছেন রসিক ব্রার। ‘আক্কাদ বাক্কাদ খুক্কদ’ পাওয়া যাবে দু রকমের। মালাই তন্দুরি চিকেন এবং ফায়ারি রেড তন্দুরি চিকেন টিক্কা। বেশ পরিচিত ডিশ। কিন্তু প্রিপারেশন একেবারে অন্যরকম। মোচার কাটলেট নতুন অবতারে হাজির ব্রারের হাত ধরে। মোচা-ই-উলফত আদতে শুকনো ফল এবং বাদামে মোচার কাবাব। ট্যাংরার চিনা খাবারেরর পরিচিতি সারা কলকাতা জুড়ে। ‘ট্যাংরা মে ভাঙড়া’ মুচমুচে চিলি চিকেন সঙ্গে চটপটা চাইনিজ সস, লঙ্কা আর পেঁয়াজ। আর বিরিয়ানি। সে তো আসে টিফিন কেরিয়ারে।

রণবীরকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন সাতভি বসু। ‘পানীয় যদি মুখের মধ্যে গান না গায় তবে ধরে নিতে হবে মিক্স ভালো হয়নি’, বলছিলেন সাতভি। অতএব ড্রিঙ্কসের অপশন সাতভির ওপরই ন্যস্ত হোক। আফরা তাফরির ইউএসপি তার ফ্রেশ ক্রাফট বিয়ার। সচরাচর যে বিয়ার পাওয়া যায় তার থেকে আলাদা এর স্বাদ, কলকাতায় একেবারে আনকোরা। লোকাল ফ্লেভার নিয়েও পরীক্ষা নিরীক্ষা চলছে। প্রত্যেক মাসে নতুন নতুন ফ্লেভার যোগ হচ্ছে, এসব তথ্য দিলেন মাস্টার ব্রিউয়ার গ্রোভার। আধুনিক আর মজাদার ইন্টিরিয়র। বছর দেড়েক ধরে কলকাতার মাইক্রোব্রিউরির অভিজ্ঞতা হয়েছে। কলকাতায় এই কনসেপ্ট নতুন। প্রথম দিকে লাইসেন্স দিতে আপত্তি করে রাজ্য সরকার। সেই ফাঁসেই আটকে আফরা তাফরির মাইক্রোব্রিউরির লাইসেন্সও।

সুখের কথা একটাই। কলকাতায় এই প্রথম শেফ রণবীর ব্রার, মিক্সোলজিস্ট সাতভি বসু এবং মাস্টার ব্রিউয়ার ইশান গ্রোভার একসঙ্গে এক রেস্তোরাঁয়। নিত্য নতুন জাদু দেখাতে পারেন এই থ্রি মাস্কেটিয়ার্স। স্কচে ঠান্ডাই, গন্ধরাজ লেবু এমনকী নলেনগুড়ের কলকটেলও হাজির করান সাতভি। কলকাতার মানুষ রাম ভালোবাসে। তাই আফরা তাফরিতে রাম ককটেল রাখা হয়েছে হরেক রকমের। থ্রি মাস্কেটিয়ার্সকে একসঙ্গে এক জায়গায় নিয়ে আসার পেছনে কাজ করেছে তিন উদ্যোক্তা সন্দীপ, রাজীব এবং শচিন। বলছিলেন প্ল্যান মতোই এগোচ্ছে। সব ঠিক থাকলে আরও আউলেট খোলার ভাবনাও শুরু হয়ে গিয়েছে। ফলে No চিন্তা Do ফুর্তি।