বাজারের দিকে চলো, পরামর্শ VMAX –এর দীপক খুরানার

0

ভারত বিরাট দেশ। বিপুল এ দেশের জনসংখ্যা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, মোবাইল বিপ্লব ঘটাতে দেশের গরিষ্ঠ সংখ্যক মানুষকে অগ্রাহ্য করে তুলনায় স্বল্প সংখ্যক মানুষকে মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহারকারীর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ কাজটা যে বাস্তবসম্মতভাবে মোটেও কাজের কাজ হতে পারে না, সেটাই চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে চাইলেন দীপক খুরানা। তরুণ উদ্যোগপতি দীপকের পরিচয় হল তিনি VMAX-এর কো-ফাউন্ডার তথা চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার। ইয়োর স্টোরি আয়োজিত মোবাইলস্পার্ক ২০১৬-তে চলতি এই প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে দীপক পেশ করলেন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি ও প্রমাণ। ভারত যে এক্ষেত্রে কীভাবে উল্টো পথের পথিক দীপকের বক্তব্য থেকে পরিষ্কার হয়েছে সেটাও।

ব্যাপারটি নিয়ে বলতে উঠে দীপক বললেন, আমি নিজেও একজন উদ্যোগপতি। পেশাদারি কারণে বিভিন্ন ধরনের মানুষের সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। যোগাযোগ হয় উদ্যোগপতিদের সঙ্গে কিংবা স্টার্ট আপগুলির সঙ্গে। সেইসূত্রে গত ৬ মাস ধরে ক্রমাগত একটি ব্যাপার লক্ষ্য করে আসছি। সেটা হল আমরা এখন একটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছি। আর ওই চ্যালেঞ্জটা মোকাবিলা করাও দরকার। এ জন্য বুঝতে হবে ভারতের ক্রেতা মহলটিকে।

মোবাইল প্রযুক্তির ক্ষেত্রে নিরন্তর বিপ্লব হয়ে চলেছে। এর ফলে খুব দ্রুতভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে প্রযুক্তি সংক্রান্ত ধ্যানধারণা। নতুন প্রযুক্তির এত দ্রুত প্রয়োগ ঘটছে যে আজকের প্রযুক্তির আয়ু কমছে। মোবাইল পরিষেবা ক্ষেত্রে দুবছর আগে যেটা ছিল বাজারের নতুন বিস্ময় – ঘটনা হল মোটে দুবছরের মধ্যেই সেটা পুরনো হয়ে যাচ্ছে। ক্রেতাদের চাহিদার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এটা ঘটছে ভারতেও। সেই কারণেই দীপক ক্রেতাদের মন ও মানসিকতা আপাদমস্তক বোঝবার ওপর যাবতীয় গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন।

ভারতকে তিনটি ভাগে ভাগ করে দেখিয়েছেন দীপক। মাসে ১৫০০ টাকা রোজগার এমন দেশবাসীর সংখ্যা ৫৫ শতাংশ। এ দেশের ৬৫০ মিলিয়ন মানুষ এঁরাই। এরপরে রয়েছেন মাসিক ৮ হাজার টাকা রোজগারের ভারতবাসীরা। তাঁরা মোট জনসংখ্যা ৩০ শতাংশ। ৪৫০ মিলিয়ন মানুষ এই বৃত্তের বাসিন্দা। এর বাইরে আছেন সারা দেশের মাত্র ১৫ শতাংশ মানুষ। যাঁদের আর্থিক ও সামাজিক অবস্থা সব দিক দিয়ে বেশ ভাল।

এআরপিইউ-এর (অ্যাভারেজ রেভিনিউ পার ইউজার) ক্ষেত্রে ভারতের গ্রাফটির অবস্থা খুবই করুণ। এঁদের ভিতর পড়ছেন দেশের বেশিরভাগ জনসাধারণ। এদিকে দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ ডিজিট্যাল সংস্থা ভারতের ১৫ শতাংশ মানুষকে নিয়ে ভাবনাচিন্তা করে চলেছে। বাকিরা যে অবহেলায় ছিলেন সেই অবহেলাতেই থেকে গিয়েছেন। এ কারণে দীপক এআরপিইউ-এএর ক্ষেত্রে সমতা আনার দাবি জানিয়েছেন।

মোবাইলস্পার্ক ২০১৬ তে আর একটি প্রসঙ্গ নজরে এনেছেন VMAX-এর কো-ফাউন্ডার তথা সিইও দীপক। দীপক বললেন, এফএমসিজি সেক্টরের দিকে লক্ষ্য রাখুন। সেক্ষেত্রে দেখবেন শ্যাম্পুর প্যাকেট বিক্রি করার ক্ষেত্রে এফএমসিজি সংস্থাগুলি এ দেশের বৃহত্তর বাজারের দিকে মনোনিবেশ করে ব্যবসার কৌশল সাজাচ্ছে।

অন্যদিকে মোবাইল সংস্থাগুলির ব্যবসার ধরন পর্যবেক্ষণ করলে দেখবেন মোবাইলে স্বল্প টাকা রিচার্জ করাটাই আমআদমির অভ্যাস। দীপক বলেছেন, এই বিপুল সংখ্যক মানুষের দিকে মনোযোগ না দিয়ে ডিজিট্যাল কম্পানি ও অ্যাপ ডেভেলপাররা এ দেশের ওপর মহলের বাসিন্দা মোটে ১৫ শতাংশ মানুষের চাহিদা নিয়ে কাজ করছেন। যেন ওঁরাই সব।

দী‌পকের কাছ থেকে জানা গেল ভারতের দরিদ্র ৫৫ শতাংশ মানুষের কাছে পছন্দের স্মার্ট ফিচারের ফোনগুলি। ভারতের ৩০ শতাংশ বাসিন্দা ব্যবহার করেন যে ধরনের মোবাইল, সেগুলির দাম ১৫ হাজার টাকার চেয়ে নীচে। মোটে ১৫ শতাংশ ক্রেতার ১৫ হাজার টাকার বেশি দামের মোবাইল কেনার সামর্থ্য রয়েছে। এঁদের কথা মাথায় রেখে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে অ্যাপগুলি বাজারে আনা হচ্ছে।

দীপক মনে করেন, এখন সময় এসেছে চিন্তাভাবনার পরিবর্তন ঘটানোর। ডিজিট্যাল ইন্ডিয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করার জন্যেই এ দেশের বৃহত্তর বাজারের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। অথচ বিরাট মানুষের এই বাজার সম্পর্কে এখনও উদ্যোগপতিরা যেন অনেকটাই নিরাসক্ত। মোবাইলস্পার্ক ২০১৬-তে দীপক এই মানসিকতা কাটানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

Related Stories