সঙ্গীত আর Wasabee দুইয়ে দারুণ যুগলবন্দি পণ্ডিতজির

0

সঙ্গীতের পথ ধরে অনেকটা রাস্তা পেরিয়ে এসেছেন পণ্ডিত তন্ময় বোস। কিন্তু রাঁধুনি তন্ময় বোসকে ক'জন চেনেন? অনেকেই জানেন না সারা বিশ্ব জুড়ে দলবল নিয়ে যখন অনুষ্ঠান করে বেড়ান শখ করে কখনও কখনও নিজেই রেঁধে-বেড়ে খাওয়াতে ভালোবাসেন এই সদা প্রসন্ন মানুষটা। আর এই রহস্যই ফাঁস করেছিলেন অনুষ্কা শঙ্কর। আজ্ঞে হ্যাঁ! পণ্ডিত রবি শঙ্কর কন্যা। তন্ময়ের রান্নাপ্রীতি থেকেই কি রেস্তোরাঁ ‘ওয়াসাবি’র জন্ম? সেই গল্পই আমাদের শোনালেন শিল্পী নিজেই।

ওয়াসাবি। জাপানি বাদ্যযন্ত্র। আবার সেদেশের খাবারের পদও। সাতপাঁচ ভেবেই রেস্তোরাঁর খাসা নাম রেখেছেন পণ্ডিতজি। শিল্পীরা একত্রে সময় কাটাবেন, খাবেন আড্ডা দেবেন এমন একটা জায়গা তৈরি করতে সবসময় চেয়েছিলেন। বেশ কয়েক বছর আগে বাড়িতেই ‘কেয়া বাত ক্লাব’ করেন। শিল্পী বন্ধুরা প্রায় প্রতি সন্ধ্যায় আসতেন, জমিয়ে আড্ডা হত। বাড়ির ছোট্ট রেস্তোরাঁ সবাইকে এক ছাদের তলায় নিয়ে আসত কিছুক্ষণের জন্য’, রেস্তোরাঁর আইডিয়াটা যে কীভাবে এলো সেসব বলতে গিয়ে কেয়া বাতের কথাটা বেরিয়ে পড়ল। তন্ময় বলছিলেন ‘ওয়াসাবিতে সবাই আসবেন যারা সুর ভালোবাসেন, সঙ্গে উদরপূর্তিও। তাই বেছে বেছে এমন নাম যাতে সুখাদ্য এবং সুর দুটোর মধ্যে ভারসাম্য থাকে’, কালিকাপুরে প্রথম ‘ওয়াসাবি’ খুলে রেস্তোরাঁ ব্যবসায় পা রাখেন শিল্পী। কো পার্টনার দেবরাজ চৌধুরী। কদিন আগে অবশ্য গরফা রোডে সরিয়ে আনা হয়েছে রেস্তোরাঁটি। ৪৫ সিটের রেস্তোরাঁ যেমন ছিল তেনই আছে। শুধু জায়গা বদল হয়েছে। এবং মেনুতে আরও কিছু নতুন সংযোজনও হয়েছে।

রাগ, রসুই, পাগড়ী অর্থাৎ সঙ্গীত, রান্না আর খাদ্য রসিক হাত ধরাধরি করে চলে। তাই পণ্ডিত তন্ময়ের রেস্তোরাঁয় ক্লাসিক্যাল মিউজিকের ফিউশন এবং তার সঙ্গে তাল রাখার মতো সুখাদ্য, সঙ্গে মানানসই চারদিকের ইন্টেরিয়র আপনার চোখে পড়বেই।

জাপানিদের জন্য তন্ময়ের যে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা আছে’, সে কথা হাসিমুখে স্বীকার করে নিয়েছেন পণ্ডিতজি। রেস্তোরাঁর থিম মিউজিক। মেনুর দিকে চোখ দিলেও সেটা টের পাবেন। যেমন ধরুন চিকেন ফিউশন ভেটকি, জাজ জাম্বো প্রন, তালতন্ত্র ক্র্যাশ এসব হল তাঁর এক্সক্লুসিভ পদের নাম। আর ইন্টেরিয়রেও সুরের ছোঁয়া। 

২০০০ স্কোয়ারফুটে ছড়ানো ওয়াসাবিতে জিভে জল আনা দেশি রান্না থেকে জাপানি, থাই, চাইনিজের বাছা বাছা পদ পাবেন।

তন্ময় চেয়েছিলেন তাঁর রেস্তোরাঁয় হবে একটু ধ্রুপদী খাদ্যরসিকদের জন্য। আয়োজনে সেটা হয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি মন কাড়বে বার কাউন্টার। বঙ্গো, কাশী, কাঠের খোল, ড্রাম, প্রাচ্যের তার, ব্রাজিলের ট্যামবুর, দেশীয় গঞ্জিরা দিয়ে সাজানো। এই বাদ্যযন্ত্রগুলির সঙ্গে সবার পরিচয় করিয়ে দিতে চান। প্রথিত যশা এই শিল্পী। প্রতি মাসে কিছু না কিছু নতুন বাদ্যযন্ত্র সংগ্রহ করে এর সঙ্গে জুড়ে দিতে চান তিনি। অ্যাক্টিভিটি কর্নার করার পরিকল্পনাও রয়েছে। কেমন হবে সেটি? ‘নানা বাদ্যযন্ত্র আর মাইক রাখা থাকবে। সেলেব্রিটি শেফদের ওয়ার্কশপ করার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে’, নানা পরিকল্পনা কিলবিল করছে শিল্পী মনে। দেশ বিদেশে হাজারো কনসার্ট। তার সঙ্গে ব্যবসা—তাল মেলাতে অবশ্য সিদ্ধহস্ত পণ্ডিতজি। অল্প দিনেই ওয়াসাবির জনপ্রিয়তা বুঝিয়ে দিয়েছে তন্ময় বোস তবলাও বাজান ব্যবসাটায় ঠেকনো দেন না যুগলবন্দি দারুণ সামলান।