বাংলাদেশি যুবকের প্রাণ বাঁচাতে ঝাঁপিয়ে পড়ল ভারত

0

ভারত এবং বাংলাদেশ কাজি নজরুল ইসলামের ভাষায় "একই বৃন্তে দুটি কুসুম" এই দুই দেশের মন প্রাণ যেন এক সুতোয় বাঁধা। তবু কি সম্পর্কের কোনও শীতলতা নেই! হয়ত আছে। ক্ষোভ বিক্ষোভ, পাওয়া না পাওয়া, সবই আছে। কিন্তু সম্প্রতি একটি দুর্ঘটনায় এই দুই দেশের মানুষের আন্তরিক সম্পর্কের উষ্ণতা স্পষ্টতই একটি উজ্জ্বল উদাহরণ তৈরি করল। মনে করিয়ে দিল মানুষের প্রতি মানুষের প্রেমই সবার উপর সত্য।

মহম্মদ কামরুজ্জামান বাংলাদেশের মানুষ। সম্প্রতি এক দুর্ঘটনায় তিনি ভীষণ আহত হন। ভেঙ্গে যায় শরীরের অনেকগুলো হাড়। ঢাকায় গত ১৯ জুন তাঁর অপারেশন হয়। মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে বোম্বে ব্লাড গ্রুপের দুর্লভ রক্ত প্রয়োজন ছিল। এগিয়ে আসেন চারজন মুম্বাইবাসী। তাঁদের চার ইউনিট রক্ত বইছে এখন কামরুজ্জামানের ধমনীতে।

পঁচিশ বছরের ছেলেটি গত ২১ মে ঢাকায় দুর্ঘটনার শিকার হন। ভর্তি করা হয় স্থানীয় অ্যাপোলো হাসপাতালে। ডাক্তাররা লক্ষ্য করেন অধিকাংশ পরিচিত ব্লাড গ্রুপের সাথেই মিলছে না তাঁর রক্ত। আরও খোঁজ খবরে জানা যায় বোম্বে ব্লাড গ্রুপের রক্ত চাই। বাংলাদেশের বড় বড় নামজাদা ব্লাডব্যাঙ্কও এই রক্তের বিষয়ে সঠিক অবগত নয়। তাঁরা ঢাকা শহর তোলপাড় করেছেন। ফোন করেছেন অসংখ্য ব্লাডব্যাঙ্ক আর হাসপাতালে। অনেকে এই গ্রুপের রক্তের নামই শোনেননি। হাসপাতাল তাঁর পরিবারের সবার রক্ত পরীক্ষা করে জানতে পারেন মহম্মদের বোনের একই গ্রুপ। কিন্তু সে রক্তদানে সমর্থ নয়। Arinoba Plastic Industry-তে কাজ করেন তিনি। কোম্পানি জানতে পারে কামরুজ্জামান পরিবারের মুখ্য রোজগেরে। তাঁর অসুস্থ মার চিকিৎসার দায়িত্বও তাঁরই কাঁধে। ভারতের মতো দেশেও যেখানে বিরাট আকারে রক্তদান প্রথা প্রচলিত, সেখানেও মাত্র চারশো জন মানুষের এই গ্রুপের রক্ত আছে। তাঁদের ভিতর অ্যাকটিভ ডোনার খুঁজে পাওয়া অসম্ভব ব্যাপার। অনলাইনে এবং অফলাইনে পাগলের মতো খোঁজ চালানো হয়।  খুঁজতে খুঁজতে Think Foundation নামের NGO-র বিনয় শেঠ্ঠির কাছে পৌঁছে যায় বার্তা। শোনা মাত্রই ব্যবস্থা নেন বিনয়। দুই দেশের ভিতর সমন্বয়কে ত্বরান্বিত করে কোম্পানি।

রক্তদান করেছেন স্বপ্না সাওয়ান্ত, কৃষ্ণনাদ কোরি, মেহুল ভেলেকার আর প্রভিন সিন্ডে। কামরুজ্জামানের এক সহকর্মী এস কে তুহিনুর আলম মুম্বই আসেন ওই দুর্লভ রক্ত সংগ্রহ করতে। তুহিনুর বলেন, তাঁরা আশা রাখেন মহম্মদ সেরে উঠবেন। কারণ তাঁর বাঁ পায়ের আর হাতের হাড় টুকরো টুকরো। পেলভিস ভাঙ্গা। ডাক্তার জানিয়েছেন শুধু সার্জারিই ভরসা। তুহিনুরের মতে ভারত একটি মানুষের নয়, একটি পরিবারের প্রাণ রক্ষা করছে। 

NGO-র কাছেও কাজটা খুবই কঠিন ছিল। রক্ত বিদেশে পাঠানোর জন্য বহুরকম কর্তৃপক্ষের অনুমতি আদায়ের প্রয়োজন। বিশেষ পরিস্থিতিতেই এমন অনুমতি পাওয়া যায়। বিনয় জানালেন এইপ্রকার রপ্তানির ক্ষেত্রে লাইসেন্স লাগে। তাঁদের আর্জি স্বীকার করেছে State Blood Transfusion Council, Central Drugs Standard Control Organization, Directorate of Health Services এবং Central Industrial Security Force। এয়ারপোর্ট সিকিউরিটির দায়িত্বে বিশেষ ধরণের প্লাস্টিক বক্সে বরফ থলি সহ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে রক্ত পাঠানোর ব্যবস্থা হয়। সঠিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে রক্তের আয়ু ছয় সপ্তাহ অবধি হয়, জানালেন বিনয়। ঈশ্বর এবং আল্লার কাছে একটাই প্রার্থনা সেরে উঠুন কামরুজ্জামান।

(Think Change India)