এক তুড়িতে অনলাইন পেমেন্ট জ্যাকপের সঙ্গে

0

ভারতে অনলাইন পেমেন্ট আরও সহজ করে দিচ্ছে এনসিআর (National Capital Region)সংস্থা জ্যাকপে( Zaakpay)। ২০১২র এপ্রিলে মাত্র ৫ জন গ্রাহক নিয়ে জ্যাকপের সঙ্গে যাত্রা শুরু করেন প্রতিষ্ঠাতা উপাসনা টাকু। বর্তমানে গ্রাহক সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়েছে। আর্থিক সাহায্য পেয়েছেন সেকুয়া ক্যাপিটেলের কাছ থেকে।

জ্যাকপের প্রথম প্রডাক্ট ছিল ওয়েবপে। ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড এবং অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে ওয়েবপে হল ব্যবসার জন্য উন্নত পেমেন্ট প্রসেসিং সলিউশন। তাদের দ্বিতীয় প্রডাক্ট হল এমপে (Mpay), লঞ্চ হয় ২০১৩র এপ্রিলে। এমপে হল ভারতে মোবাইল ফার্স্ট বিজনেসের কমপ্লিট পেমেন্ট সলিউশন। এমপের সুবিধা হল অ্যাপ্লিকেশন পেমেন্ট, যেখানে আর্থিক লেনদেনের জন্য অ্যাপই যথেষ্ট, ব্রাউজারের দরকার পড়ে না। উপাসনা টাকুর সঙ্গে কথা বলে জানা গেল জ্যাকপের উত্থানের কাহিনি।

ইয়োরস্টোরিঃ আপনার বড় ক্লায়েন্ট কারা? এমপে নিয়ে কিছু বলুন

উপাসনা টাকুঃ ২০১২য় ৫ জন গ্রাহক দিয়ে শুরু করে জ্যাকপের এখন পাঁচশোর বেশি গ্রাহক। গ্রাহকদের মধ্যে রয়েছে JabongWorld, HomeShop18, Hungama, Yepme, Shopnineteen, Exotel, IIMjobs, E2ENetworks, MtsiAdvertising, AmericanSwan এবং Ansals। এমপে হল, ভারতের প্রথম কোনও অ্যাপ পেমেন্ট সলিউশন। যেকোনও এনরয়েড বা আইফোনে এই অ্যাপ পাওয়া যায়। এমপে-তে মোবাইল ওয়েব (ব্রাউসারের মাধ্যমে) পেমেন্ট সলিউশনও আছে। চালু সমস্ত মোবাইল ব্রাউজারে এমপে কাজ করে। লঞ্চের পর থেকে এমপে অন্তত ৭০ কোটি টাকার লেনদেন প্রসেস করেছে। এমপের কয়েকটি বৈশিষ্ট হল, মার্চেন্ট ওয়েবসাইটে কার্ড ডাটা সংগ্রহ করা, ইমেল ইনভয়েসিং, আন্তর্জতিক নানা মুদ্রায় পেমেন্ট এবং রেকারিং বিলিং পেমেন্ট।

ইয়োরস্টোরিঃ অনেকদিন ধরে লেনদেনের ব্যবসা সামলাচ্ছেন। অভিজ্ঞতা কেমন?

উপাসনা টাকুঃ সারা বিশ্বে লেনদেনের ব্যবসা বেশ কঠিন। বিশেষ করে ভারতে তো আরোই জটিল। পদে পদে লড়াই করতে হয়। নানা দিকে খেয়াল রাখা জরুরি যেমন, গ্রাহকদের লেনদেনের অভিজ্ঞতা, আমারদের প্ল্যাটফর্ম নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা, আমাদের অপারেশন টিম থেকে ব্যাঙ্কের চাহিদা, নিয়ম কী বলছে (কীভাবে আমাদের প্রডাক্ট কাজ করে)-এই সমস্ত। কাজ করতে করতে আমরা যেটা শিখেছি সেটা হল- সুবিধা, অসুবিধা বুঝতে হবে, প্রডাক্ট নিয়ে নতুন নতুন ভাবনা আনতে হবে এবং গ্রাহকদের সর্বোচ্চ পরিষেবা দিতে হবে।

ইয়োরস্টোরিঃ মূল্যায়নের বিবর্তন কীভাবে হয়?

উপাসনা টাকুঃ বাজারে এমন কিছু সংস্থা রয়েছে যারা গ্রাহকের সাধ্যের ওপর চার্জ ঠিক করে। এটা একরকম কুয়োর মধ্যে প্রতিযোগিতার মতো। এই ব্যবসা আমাদের দ্বারা হবে না। আমরা বিশ্বাস করি, ভালো মানের পরিষেবা কম দামে হয় না। যেসব ওয়েবসাইট ব্যবসায়ীক লক্ষ্য পূরণে কম খরচে পেমেন্ট প্রসেস চালু করে, তাদের দৌড় বেশিদিনের নয়। শেষ পর্যন্ত এই ব্যবসাগুলি বুঝতে পারে, খারাপ পেমেন্ট প্রডাক্টের জন্য রেভিনিউ হারাচ্ছে। শেষ পর্যন্ত একটা মান স্থির করার চেষ্টায় নেমে পড়ে। যারা বুঝতে পারেন ভালো জিনিস কমদামে হয় না, আমরা তাদের পরিষেবা দিয়ে আনন্দ পাই। আমাদের প্রাইসিং মডেলে কোনও লুকোছাপা নেই। প্রত্যেক লেনদেনের জন্য এক শতাংশ চার্জ নিই। ওয়েবসাইটের প্রোডাক্টের শ্রেণি, ঝুঁকি এবং লেনদেনের মান অনুযায়ী চার্জ ঠিক হয়।

ইয়োরস্টোরিঃ ভারতে অনলাইন পেমেন্টের সমস্যা মেটাতে অনেক সংস্থা রয়েছে। এই প্রতিযোগিতা নিয়ে আপনার কী মত?

উপাসনা টাকুঃ দেশে ব্যাঙের ছাতার মতো ই-কমার্স লেনদেনের অপশনও প্রচুর গড়ে উঠেছে। ২০১২ পর্যন্ত ব্যাঙ্কের পাশাপাশি হাতে গোনা কয়েকটা মাত্র তৃতীয় পক্ষের সংস্থা ছিল যারা ট্রানজাকশন প্রসেস চালাত। প্রায় সবারই হয় চড়া সাইন-আপ চার্জ অথবা সময় সাপেক্ষ প্রসেস অথবা অনুন্নত প্রযুক্তিতে জেরবার হতে হত গ্রাহককে। আমাদের মতো আধুনিক সংস্থাগুলি চার্জ নিয়ে রীতিমতো মারামারি করে। এতে পরিষ্কার, কেউ গ্রাহকের সুবিধা বাড়ানো বা পেমেন্ট টেকনোলজি নিয়ে মাথা ঘামায় না।। আমরা সবসময় গ্রাহকদের পেমন্ট প্রসেসের উন্নতি ঘটানোর দিকে নজর রাখি। গত দশ মাস ধরে আমদের প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট এবং ব্যবসা বাড়নোর জন্য অ্যানরয়েড এবং iOS এ মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন পেমেন্টে জোর দিয়েছি। আমাদের বিশ্বাস, ভারতে মোবাইল পেমেন্ট প্রসেসিং এ আমরাই সেরা গেটওয়ে।

ইয়োরস্টোরিঃ টিমে কজন রয়েছে? কীভাবে গড়লেন?

উপাসনা টাকুঃ মার্চেন্ট অ্যাকুইজিশন, প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট, মার্চেন্ট অপারেশ- এই তিন টিমে ১৯ জন রয়েছি আমরা। টিমের গড় বয়স ২৫। দারুণ উৎসাহী কর্মীরাই আমাদের শক্তি। সবার সবার দায়িত্ব বোঝে, সবসময় শিখছে, নতুন কিছু ভাবছে। ২০১২তে লোক নেওয়ার সময় খুব কঠিন সময় গিয়েছে। এখন ডিএনএ বুঝে গিয়েছি, চাকরিপ্রার্থীদের সেভাবেই ইন্টারভিউ করি। বড় বড় ডিগ্রির চাইতে আচরণ, স্মার্টনেস এবং গ্রহণ করার ক্ষমতার ওপর বেশি জোর দিই।

ইয়োরস্টোরিঃ ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কী?

উপাসনা টাকুঃ ভারতে মোবাইল কমার্সকে বাস্তবে পরিণত করতে চাই আমরা। আগামী বছরগুলিতে মানুষ কম্পিউটারের বদলে মোবাইলেই লেনদেন সারবে। মোবাইল ইন্টারনেটই শেষ কথা হতে চলেছে। সস্তায় স্মার্টফোন বিশেষ করে এনরয়েড ফোন পাওয়া যাওয়ার ফলে লক্ষ লক্ষ ভারতীয় হাতে ক্ষমতা চলে এসেছে। টুজি, থ্রিজি ডাটা নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে দ্রুত লেনদেন সারা সহজ হয়েছে। মোবাইল ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মোবাইল পেমেন্ট আরও সহজ করার চেষ্টা চালাচ্ছি আমরা।

লেখক-জুবিন মেহতা

অনুবাদ-তিয়াসা বিশ্বাস