ডিজিট্যাল ইন্ডিয়ায় এবার চাষবাসে ই প্রযুক্তি

কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য,আবহাওয়ার আগাম সতর্কতা, শস্যের অধিক উৎপাদন,কৃষি বিষয়ে প্রযুক্তিগত পরামর্শ। ২০২০ পর্যন্ত ৬০ মিলিয়ন ভারতীয় কৃষকদের বৎসরিক আয় গড়ে ৮৯ আমেরিকান ডলার বৃদ্ধি করবে মোবাইল পরিষেবা।


0

ভোডাফোন ফাউন্ডেসন দ্বারা স্বীকৃত অ্যাক্সেনচার স্ট্র্যাটেজির একটি গবেষনামূলক রিপোর্টে পাওয়া গেছে যে গড় কৃষক পরিবারগুলিকে প্রতিদিন ২৫০ টাকারও কম অর্থ নিয়ে তাদের দিন চালাতে হয় এবং তাদের মধ্যেও অনেকেই খাদ্য এবং শিক্ষার জন্য যুজতে হয়। কিছু সরল মোবাইল পরিষেবা আছে যেগুলি এই সব কৃষক পরিবারগুলির আয় গড়ে বাৎসরিক ৮,০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়াতে পারে, এটা সত্যিকারের একটি ইতিবাচক দিকও বটে।

এই রিপোর্ট অনুযায়ী ২০২০ সাল পর্যন্ত এই মোবাইল পরিষেবাগুলি কৃষক পরিবারগুলির দৈনন্দিন জীবনের পরিবর্তন ঘটাতে পারে এবং তাদের প্রাথমিক আয় ৫৬,০০০ কোটি টাকা পর্যন্ত নিয়ে যেতে পারে।

১. এই পরিষেবাগুলির মাধ্যমে তাঁরা কৃষি সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য যেমন আবহাওয়ার আগাম সতর্কতা, চাষের সঠিক সময়ের ব্যপারে তথ্য, শস্যের অধিক উৎপাদন বিষয়ে বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরামর্শ তারা অনায়াসে পেয়ে যাবে। পরিষেবাগুলির সুফল ২০২০ পর্যন্ত প্রায় ৬০ মিলিয়ন ভারতীয় কৃষকদের বৎসরিক আয় গড়ে ৮৯ আমেরিকান ডলার বৃদ্ধি করবে।

২. ভোডাফনের M-Pesa পরিষেবা ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে ভারতে চালু হয়েছিল। এই পরিষেবাটির বৈশিষ্ট্য হল এর মাধ্যমে গ্রাহকরা তাঁদের মোবাইল ফোনের মাধ্যমেই টাকা মেটাতে পারবেন। কৃষকরাও এই পরিষেবার মাধ্যমে তাদের কৃষি কাজে অর্থ বিনিয়োগ করতে পারবেন। এই অর্থ সাশ্রয়ী, ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক এবং স্বচ্ছ বৈদ্যুতিন পরিষেবাটি ২০২০ পর্যন্ত কৃষকদের জন্য প্রায় ৬৯০ আমেরিকান ডলার পর্যন্ত লভ্যাংশ এনে দিতে পারে। এই লাভ কৃষি আয়ে প্রায় ৩৯% বৃদ্ধিকে দর্শায়।

৩. মোবাইলের মাধ্যমে নথিভুক্ত অর্থের আদান প্রদানের ফলে উৎপাদিত পন্যদ্রব্যের দৈনিক স্বচ্ছ সরবরাহের মাধ্যমে কৃষকেরা কর্মদক্ষতার সঠিক প্রয়োগ করে নিজেদের আয় বৃদ্ধি করতে পারবেন, খরচ কমাতে পারবেন এবং জালিয়াতি থেকে দুরে থাকতে পারবেন।

৪. অর্থনৈতিক পরিষেবার দিকটি ছাড়াও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল মোবাইল ফোন এবং ট্যাবলেট কম্পিউটারগুলি মাধ্যমে কৃষকেরা একসাথে বিভিন্ন দিকে নজর রাখতে পারবেন। যেমন হিসাবরক্ষরা উৎপাদিত ফসলের মানের উপর নজর রাখতে পারবেন এবং কাগুজে জটিলতাকে সরিয়ে আরও সহজতর করতে পারবেন এছাড়াও বিভিন্ন তথ্যগুলিকে তাঁরা সহজেই সংরক্ষন করতে পারবেন এবং প্রয়োজনে সেগুলি নিয়ে পর্যালোচনা করতে পারবেন।

৫. এইসব পরিষেবার মাধ্যমে স্থানীয়ভাবে ক্ষুদ্র উৎপাদনকারীরাও স্থানীয় সমবায়ে সরল ও কার্যকারী রূপে অর্থনৈতিক লেনদেন করতে পারবেন। এভাবে ২০২০ পর্যন্ত কৃষকেরা বার্ষিক আয় ২৭১ আমেরিকান ডলার পর্যন্ত বাড়াতে পারবেন যা বর্তমানের আয়ের চেয়ে ৫০% বেশি।

৬. এ বিষয়ে স্মার্টফোনের ব্যবহার আরও যুগান্তকারী। এর পরিষেবা আরও সমৃদ্ধ এবং তথ্য যোগানের দিক থেকেও সাধারণ এস এম এস এবং ভইসমেল পরিষেবার থেকেও আরও উন্নত। কিন্তু এই ক্রমবর্ধমান বাজার অর্থনীতির যুগেও যেখানে স্মার্টফোনের দাম বছর বছর হ্রাস পাচ্ছে সেখানে এখনও গ্রাম্য সংস্কৃতিতে স্মার্টফোনের আগমন সে ভাবে হয়নি। পরিসংখ্যান বলছে ২০২০ সালের মধ্যে উন্নততর এবং সস্তার মোবাইল পরিষেবার মাধ্যমে ৪ মিলিয়ন কৃষকের বাৎসরিক গড় কৃষি আয় ৬৭৫ আমেরিকান ডলার ছাড়াবে।

জনসাধারণকে সম্বোধন করে একটি বিশেষ বার্তায় কেন্দ্রীর রাজ্য কৃষি মন্ত্রী মোহনভাই কল্যানজীভাই কুন্দরিয়া বলেন, “আমাদের দেশের ৫৮% জনসাধারণের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎসই হল কৃষিকাজ। ফলে ভারতের সমৃদ্ধির জন্য এটি খুবই গুরুত্বপূর্ন যে এই সমৃদ্ধ করা এবং এর লাভ ছোট ও প্রান্তিক চাষীদের কাছে পৌঁছানো। সরকার কৃষক ভাইদের এই বিশাল তথ্য জগতে সংযোগ করতে এবং সরাসরি তাদের কৃষি হাতে ও জমিতে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি তুলে দিতে বদ্ধপরিকর। আমি আনন্দিত ভোডাফোন এই দেশে তাদের বিস্তারের জন্য কাজ করছে এবং ভারতীয় কৃষিক্ষেত্রের গুরুত্বকে ক্রমবর্ধমান বাজার অর্থনীতিতে তুলে ধরেছে। আমি ASSOCHAM কে ধন্যবাদ জানাই এই ক্ষেত্র প্রস্তুতের জন্য এবং ভোডাফোনকে জানাই এই বিশেষ রিপোর্টির জন্য যেখানে ভারতীয় কৃষির গুরুত্বের এবং সম্ভাবনার দিকটিকে তুলে ধরার জন্য।”

ASSOCHAM আয়োজিত ই-ক্রান্তি সূচনার জন্য কৃষির উপর মোবাইল প্রযুক্তির প্রভাব নিয়ে একটি আলোচনা সভায় কৃষি মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব রাঘব চন্দ্র Connected Farming in India শীর্ষক রিপোর্টটি প্রকাশ করেন। রিপোর্টটি প্রকাশ করে রাঘব চন্দ্র বলেন, “কৃষকদের জন্য প্রযুক্তি ই-ক্রান্তির একটি অন্যতম লক্ষ্য এবং ডিজিটাল ইন্ডিয়া ভিসন ধারনার এটি স্তম্ভ। কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির সমাবেশেই কৃষির ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে, কারন কৃষি আরও জ্ঞান সাপেক্ষ হয়ে উঠছে। Connected Farming in India রিপোর্টে এ বিষয়ে ভালোভাবে বর্ণনা করা আছে। কৃষির মতো একটি গুরুত্বপূর্ন বিষয়ে এটা নিঃসন্দেহে ASSOCHAM এবং ভোডাফোনের একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ।

ভারত পৃথিবীতে একটি অন্যতম খাদ্য উৎপাদক দেশ যেখানে ২০ কোটিরও কৃষক এর সাথে যুক্ত এবং প্রার ১০ কোটি কৃষক এর সাথে যুক্ত। প্রায় ৬২% কৃষকের কাছে এক হেক্টরের কম জমি আছে এবং বিভিন্ন সমস্যাও আছে যেমন কোন কারনে শস্যের উৎপাদনে ঘটতি, ফসলের বিভিন্ন রোগ এবং অস্থির বাজার দর।

টেলিকম কোম্পানিটি ঘোষণা করেছে তারা ছয়টি দেশে Farmers’ Club ধারনাটির বিস্তার করবে। এই দেশগুলি হল – ঘানা, কেনিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং তানজানিয়া। ২০০৯ থেকে তুর্কিতে এই উদ্যোগটি বর্তমানে কার্যকর এবং এতে প্রায় ১.২ মিলিয়ন কৃষক উপকৃত। ভোডাফোনের Farmers’ Club এর মাধ্যমে কৃষিতে উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে কৃষকদের বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে। নির্দিষ্ট মোবাইল পরিষেবাগুলি প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন রকম পরিষেবা প্রদান করছে।

ভোডাফোন গ্রুপের আফ্রিকা, মধ্য প্রাচ্য এবং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের আঞ্চলিক চিফ এগজিকিউটিভ সেরপিল তিমুরাই জানাচ্ছেন, “এক তৃতীয়াংশ মানুষ খাদ্যের জন্য ৫০০ মিলিয়ন ক্ষুদ্র চাষীর উপর নির্ভরশীল যাদের দুই হেক্টরেরও কম জমি আছে। মোবাইল ফোন কৃষিজাত পন্যের উৎপাদনে এবং এই বিশ্বে দরিদ্র মানুষের জীবনের মানোন্নয়নে সহায়ক হয়েছে। তুর্কিতে আমাদের বর্ণনা করছে কেমনভাবে মোবাইল পরিষেবাগুলি সেখানে কৃষকের শস্যের উৎপাদনে বৃদ্ধি ঘটিয়েছে এবং তাদের আয়ও বাড়িয়েছে। বিশ্বের জনসংখ্যা বাড়ার সাথে সাথে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্যের উৎপাদন বৃদ্ধিরও প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।”

ভারতে ভোডাফোনের কিষাণমিত্র পরিষেবা সম্পর্কে বলতে গিয়ে ভোডাফোন ইন্ডিয়ার এম ডি এবং সি ই ও সুনীল সুদ জানান, “ভারতে পরবর্তী সবুজ বিপ্লব হবে জ্ঞান বিপ্লব এবং প্রযুক্তির বিপ্লব, বিশেষত মোবাইলের। বর্তমানে ৪৬% গ্রামের মানুষের কাছে মোবাইল ফোন আছে এবং যারা এখনও এই পরিষেবাগুলি ব্যবহার করেননি তারাও দ্রুততার সাথে এগুলি ব্যবহার করছে। এভাবেই কৃষি পরিষেবাগুলি কৃষি কাজে যুক্ত গ্রাম্য এলাকার মানুষের কাছে নতুন রাস্তা খুলে দিচ্ছে। কিষাণমিত্র ভারতে আমাদের প্রথম পদক্ষেপ যেখনে সময়মতো তথ্য পাওয়ার সুযোগ, বাজার এবং অর্থনৈতিক বিষয়গুলিকে যোগ করা হয়েছে।”