শিশুমনের বিকাশে কলকাতার চার মূর্তির শুরুয়াতি ‘মাইন্ড আওয়ার’

0

টেকনোলজি স্টার্টআপে কলকাতার নাম প্রথমেই মনে আসার কথা নয়। তবে স্বপ্ন দেখতে তো বাধা নেই। কারণ, সূত্র বলছে, ইন্টারনেট ব্যবহারে এই রাজ্য তৃতীয়। প্রযুক্তি নির্ভর স্টার্টআপের যে বিস্ফোরণ ঘটেছে সেই জয়যাত্রায় সামিল কলকাতাও।

স্টার্টআপে যারা আগ্রহী তাদের একসঙ্গে করতে কিছুদিন আগে একটা সম্মেলনের আয়োজন হয় কলকাতায়। সেখানেই সুমিত মারদার সঙ্গে আলাপ। সুমিত ‘মাইন্ড আওয়ার’ নামে একটি অনলাইন এডুকেশন পোর্টালের সহ প্রতিষ্ঠাতা। স্টার্টআপ ‘মাইন্ড আওয়ার’এর কনসেপ্টই হল -খেলতে খেলতে পড়া।

টিম মাইন্ড আওয়ার
টিম মাইন্ড আওয়ার

পরদিন কফি খেতে খেতে কথা হচ্ছিল। সুমিত আলাপ করিয়ে দেন বন্ধু এবং স্টার্টআপের টেকনিক্যাল হেড বরুণ চৌধুরীর সঙ্গে। দারুণ দারুণ সব গল্প বলছিলেন দুজনে। গল্পের শুরুটা হল সুমিতকে দিয়েই। বললেন, ‘স্কুলের দিনগুলি থেকে আমরা বন্ধু। আমাদের স্ত্রীরাই ভেঞ্চারের কো ফাউন্ডার। নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়াটাই সংস্থার মূল শক্তি’। সুমিতের প্রথম স্টার্টআপ ছিল ‘মুজ’, পাল্প বেসড পানীয়। গ্রামের দিকে পাওয়া যেত। ভালই চলছিল। কিন্তু প্রযুক্তির দুনিয়ায় ঢোকার জন্য ছটফট করছিলেন। এবং সেটাই করলেন।

‘উৎপাদনের জগৎ আমাকে রোজগারের প্রয়োজনীয়তা শিখিয়েছে। কিন্তু আমার মনে তখন অন্যকিছু ঘুরপাক খাচ্ছিল। ‘মাইন্ড আওয়ার’কেই আঁকড়ে ধরলাম। সবাই মিলে চেষ্টা করছি ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার’,বলেন সুমিত। ‘মাইন্ড আওয়ার’ হল এডুটেক স্টার্টআপ। আর পড়ুয়াদের জন্য অনুশীলণ কর, খেল, এগিয়ে যাও-এই মডেলে বিশ্বাস করে ‘মাইন্ড আওয়ার’। মূলত পাঠ্যক্রমকে মাথায় রেখে একধরনের অ্যাডাপটিভ লার্নিং প্রোগ্রাম তৈরি করা হয়েছে। অংক এবং বিজ্ঞানে শিশু মনের পূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করবে তেমনভাবে পাঠ্যক্রম সাজানো হয়েছে। ‘অনেক গবেষণা করে অ্যানালিসিস রিপোর্ট তৈরি করেছি। ছাঁচে ঢালার মতো তৈরি করে দেওয়া কাঠামোর মধ্যে দিয়ে যেতে যেতে কোনও ছেলে বা মেয়ের কোথায় দূর্বলতা কোথায় তার শক্তি খুঁজে বের করি। তাদের তৈরি হতে সাহায্য করি’, বলেন বরুণ।

সৌম্য আগরওয়াল, সংস্থার সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং কনটেন্ট ডেভেলপমেন্টের প্রধান তাঁর টিমের সঙ্গে বসে সপ্তম থেকে দশম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য ২৫ হাজার প্রশ্ন তৈরি করেছেন। সাথী মাহেশ্বরী, সংস্থার চতুর্থ ফাউন্ডার, গ্রাহকদের সামলান।

চার মাস্কেটিয়ার্স মাইন্ড আওয়ার নিয়ে গত এক বছর ধরে কাজ করছেন। আনুষ্ঠানিক লঞ্চ হওয়ার মাত্র ছ মাসের মধ্যে ১০ হাজার ইউজার রেজিস্টার করেছেন। এতদিন নিখরচায় ছিল। এবার পেড-প্ল্যানও চালু করেছে মাইন্ড আওয়ার। ইউজারদের একটা ছোট্ট অংশ পেড প্ল্যানে ঢুকেও পড়েছেন। এই মডেলে পড়ুয়াদের উৎসাহ দিতে পয়েন্ট জমা করার মতো ইনসেনটিভ থাকে। কী সেই ইনসেনটিভ? পয়েন্ট জিতলে আশে পাশের দোকানের কুপন পাওয়া যায়। ‘পড়ুয়াদের উৎসাহ দিয়ে ধরে রাখতে আমরা কিছু অনলাই পোর্টাল এবং অফলাইন স্থানীয় রেস্তোরাঁর সঙ্গে চুক্তি করে নিয়েছি’, জানান সুমিত।

অনলাইন এডুকেশনের ক্ষেত্র দিন দিন প্রশস্ত হচ্ছে। ইডাসিটি এবং খান একাডেমির মতো সংস্থা রীতিমতো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। মুম্বইয়ের জিশান হায়াৎ শেষ দফায় বাজার থেক ৬৫ কোটি টাকা তুলেছে। এমবাইব-কে ৪ মিলিয়ন ডলার দিয়ে সাহায্য করেছে কালারি ক্যাপিটাল। সারা দেশে এমন অনেক ভুরি ভুরি স্টার্টআপ অনলাইন এডুকেশনের ক্ষেত্রে জায়গা বানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আর ‘মাইন্ড আওয়ার’ এর জন্য যাত্রা তো সবে শুরু। ইউসারদের সন্তুষ্টি এবং পেয়িং কাস্টমারদের ইচ্ছের দৌলতে উৎসাহ বাড়ছে চার উদ্যোক্তার। এখান থেকে ধীরে ধীরে উত্তরণের পথই চার মূর্তির লক্ষ্য।