বিশ্বাসে মেলায় ‘সাফল্য’, তর্কে বহুদূর...

0

স্টার্টআপ শব্দটার মধ্যেই রয়েছে শুরুর ইঙ্গিত। আর কোনও কিছু শুরু করতে গিয়ে প্রায়ই একটা প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। অনেককেই বলতে শোনা যায়, ‘এটা নিয়ে তো ইতিমধ্যে অনেকে কাজ করছে, তাহলে এর পেছনে কেন ছোটা’? তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে স্টার্টআপের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। পৃথিবীটা যেন ছোট্ট খেলার মাঠ। ফলে যে ক্ষেত্রে আপনি কাজ করতে শুরু করলেন সেটা নিয়ে ইতিমধ্যে কেউ কাজ করছে এমনটা হতেই পারে।

এই প্রশ্ন প্রথমেই আসবে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে, এবং আরও গভীরে গিয়ে প্রশ্ন থাকবে, উদ্যোক্তারা কীভাবে এই ঝুঁকি সামলাবেন। প্রথমেই প্রতিযোগিতার কথা ধরা যাক। টনি স্টাবেলবাইন সবরকম প্রতিযোগিতার সারসংক্ষেপ করে লিখেছিলেন, ‘কাজ করে যাও, প্রতিযোগিতার কথা ভেবো না’। একটু এদিক ওদিক তাকালেই বোঝা যাবে স্টার্টআপ আইডিয়া চুরি হয়ে যাবে এই ভয়ে কারও সঙ্গে শেয়ার পর্যন্ত করতে সংশয়ে থাকে। যদি এভাবে ভেবে থাকেন,তাহলে আপনি মূর্খের স্বার্গে বাস করছেন। কারণ কারও মনে মনে তৈরি করা ধারণা, কীভাবে স্টার্টআপ নিয়ে এগোবে-এগুলি শুধু শুনে চুরি করা যায় না। বিদ্বজ্জনেরা বলেন, ‘আইডিয়াটাই সব নয়, কাজে দেখাতে হবে’।

এবার একটু গভীরে যাই। আপনার স্টার্টআপ নিয়ে যদি কেউ বলে, অনেকেই তো আজকাল এই আইডিয়া নিয়ে কাজ করছে, আপনি কী বলবেন? কী বা ভাবববেন? উদ্যোক্তা হিসেবে আপনি চেষ্টা করবেন বাইরের এতসব প্রশ্ন থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখতে। চাইবেন নিজের কাজটুকুতে মন দিতে। কিন্তু একসময় মনের ওপর ঝড় বয়ে যেতে বাধ্য। সাই গাদ্দাম, মনোবিজ্ঞানী, মনোবিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, যিনি নিজেও একজন উদ্যোক্তা, তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের জন্য ঝুঁকি ছদ্ম একটা বিষয়। সব স্টার্টআপে প্রতিযোগিতা আছে। সব সংস্থা একই সঙ্গে প্রায় একই রকম সমস্যা মেটানোর চেষ্টা করছে। কেউ উপায় খুঁজে পাচ্ছে নয়তো কেউ পালিয়ে যাচ্ছে, অথবা কেউ সফল হচ্ছে। ঝুঁকি থাকবেই, নতুন উদ্যোগের মর্মে মর্মে রয়েছে ঝুঁকি। আর তাই সাফল্যের হারও কম।

উদ্যোক্তা হিসেবে ঝুঁকি জয়করবেন কীভাবে? সাইয়ের পরামর্শ, ‘যদি অনেকে বলে আপনার প্রোডাক্ট ঠিক নয় কিন্তু আপনার রুমমেট সেই একই প্রোডাক্টকে ফুল মার্কস দিলেন, তাহলে রুমেটের কথাই শুনবেন। অভিনন্দন, সবসময় এটাই মাথায় রাখতে হবে’।

নিন্দুকেরা কে কতটা যেতে পারে সেটাও দেখতে হবে উদ্যোক্তাকে। অনেক প্রাপ্তবয়স্করদের ওয়েবসাইটের আইডিয়া পছন্দ নয়, যেখানে অনেকে নিজের অনেকটাই উজাড় করে দেন। জুকেরবার্গ জানতেন, এই অংশটা তাঁর গ্রাহক নয়। ভসে সিঁটিয়ে থাকাটাকেও জয় করতে হবে। বস্তুনিষ্ঠতা স্বাভাবিকভাবে আসে না। নিজের ওপর বিশ্বাস থাকতে হবে।

তাই অস্বস্তিকর প্রশ্নগুলির উত্তর দিন একই সঙ্গে ইতিবাচক এবং ভাগ্যের ওপর আস্থাশীল মানসিকতা নিয়ে। সঠিক উত্তর তার মাঝামাঝিই থাকবে। সোজাকথায়, প্রতিযোগিতা থাকবেই, অনেক প্রতিযোগীও থাকবে এবং আপনার দিকে আঙুল তোলার লোকও থাকবে। কিন্তু নিজের কাজের ওপর যদি বিশ্বাস থাকে, যদি বিশ্বাস থাকে অন্যের আস্থা অর্জনের, তাহলে ভয়ের কোনও কারণ নেই। মনের খেয়ালে এগিয়ে যান।

(লেখক-জুবিন মেহতা, অনুবাদ-তিয়াসা বিশ্বাস)