বিপণনের সমস্যা, সমাধান দিচ্ছেন রাজেশ

0

কলকাতায় পণ্যের প্রচার চালাবেন। অথচ ছুটতে হচ্ছে দিল্লিতে। হিল্লি-দিল্লি করতে গিয়ে কালঘাম ছুটছে আপনার। সমস্যাটা আজকের নয়, বহুদিনের। দিল্লি-মুম্বইয়ে বেশিরভাগ কোম্পানির হেড অফিস। তারা সবুজ সংকেত দিলে তবেই কলকাতায় আপনার পণ্যের প্রচার শুরু হবে। যা করবে তাদেরই কোনও শাখা সংস্থা। কলকাতা ছাড়াও শহরতলিতে এই সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছে একটি সংস্থা। নাম ‘আইডিয়াজ ফা‌র্স্ট’। রাজেশ কিষাণপুরিয়ার হাত ধরে কলকাতায় বসে বিজ্ঞাপন, বিপণনের ধরণ বদলাচ্ছে এই কোম্পানি।

উচ্চ মাধ্যমিকের সময় থেকেই উদ্যোগপতি হওয়ার চিন্তা মাথায় ছিল রাজেশের। সে কারণে ভর্তি হয়েছিলেন বিজনেস স্কুলে। ম্যানেজমেন্টের পাঠ শেষ হতে হতেই সোজা নেমে পড়েন উদ্যোগপতি হওয়ার দৌড়ে। খুলে ফেলেন ‘ইন্ডিয়ান এমবিএস.কম’। উৎসাহের ঘাটতি না থাকলেও জমল না উদ্যোগ। শুরুতেই রাজেশ বুঝতে পারলেন, ‘পুঁথিগত বিদ্যা’ আর ‘ঠেকে শেখা’র মধ্যে পার্থক্য আছে। তাই তাঁকে ঠেকে শিখতে হবে।


সময়টা ছিল ২০০০ সাল। নিজের কোম্পানি ছেড়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের রাস্তায় নামলেন রাজেশ। যোগ দিলেন ‘ইমামি লিমিটেড’-এ। এরপর একে একে ‘লিঙ্ক পেন অ্যান্ড প্লাস্টিক’ ছাড়াও ‘টাটা ইন্টারঅ্যাক্টিভ সিস্টেম’-এ কাজ করেন তিনি। তবে ইমামিতে কাজ করতে গিয়ে প্রথম উপলব্ধি করেন, কলকাতার বুকে বিপণন কোম্পানির ‌বড় অভাব। এক সময় শহর কলকাতায় ‘ইমামি ফাস্ট রিলিফ’ এর প্রচারে কোনও মাঝারি বিপণন সংস্থা খুঁজে পাচ্ছিল না ইমামি। সেই থেকে ‘ঘরে ফেরার’ পালা শুরু। কলকাতায় বিপণন সংস্থার আকাল কাটাতে জন্ম নিল ‘আইডিয়াজ ফার্স্ট’।

২০০৩ সালে একার উদ্যোগে এই বিপণন সংস্থার প্রতিষ্ঠা করেন রাজেশ। কাজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সংস্থার কর্মী সংখ্যা। এক থেকে ‘আইডিয়াজ ফার্স্ট’-এ এখন কর্মী সংখ্যা আট। মূলত, এটাই তাঁর কোর টিম। তবে রাস্তাঘাটে বিজ্ঞাপন বা প্রচারের জন্য তাঁর বহু অস্থায়ী কর্মীর প্রয়োজন পড়ে। বর্তমানে পণ্যের বিজ্ঞাপন ছাড়াও ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট, মিডিয়া প্ল্যানিং, সেলিব্রিটি ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল হোর্ডিং-এর মতো কাজগুলি করে থাকে রাকেশের কোম্পানি। ‘গিনি সিস্টেমস লিমিটেড’-এর মতো কোম্পানির প্রচার দিয়ে শুরু হয় তাঁর সংস্থার পথ চলা। আজ ‘আইডিয়াজ ফার্স্ট’ এর গ্রাহক পরিষেবার তালিকায় রয়েছে স্টার টিভির মতো নাম। ইতিমধ্যেই স্টার জলসার ‘ইস্টি কুটুম’-এর প্রচারে ট্যাক্সিতে বিজ্ঞাপন করেছে এই সংস্থা। কোম্পানির কর্ণধার জানিয়েছেন, শহরে ১০০টি ট্যাক্সির গায়ে স্টারের জন‌প্রিয় ধারাবাহিকের বিজ্ঞাপন ছাপেন তাঁরা। ইতিমধ্যেই ‌ওই ধারাবাহিকের নাম ছড়িয়ে পড়েছে বাংলার ঘরে ঘরে।

 

এখানেই সাফল্যের শেষ নয়। ২০০৬ সালে সবথেকে কঠিন চ্যালেঞ্জটিও সহজে উতরে দিয়েছেন রাজেশ। ‘হিন্দুস্থান লিভার’-এর ‘লাক্স বডি ওয়াশ’-এর প্রচারের দায়িত্ব বর্তেছিল তাঁর ওপর। মুম্বইয়ের ‘মিডাস ইভেন্ট’-এর হাত ধরে কাজটা পেয়েছিলেন তিনি। যা করতে গিয়ে শহরের দুশোটি দোকানে মহিলা প্রতিনিধি নিয়োগ করেছিল ‘আইডিয়াজ ফার্স্ট’। মাত্র এক মাসের এই প্রচারেই শহর থেকে শহরতলির ঘরে জায়গা পেয়েছিল ‘লাক্স বডি ওয়াশ’। পরবর্তীকালে সুনাম ছড়িয়ে পড়তে, একে একে বহু কোম্পানির বিজ্ঞাপনের দায়িত্ব পেয়েছে এই সংস্থা।

তবে কলকাতার বুকে বিপণন সংস্থা খুলতে গিয়ে বেশ কিছু সমস্যায় পড়েন রাজেশ। বিশেষ করে অডি-ভিস্যুয়ালের মাধ্যমে কোনও কিছু উপস্থাপন করতে গিয়ে ভুগতে হয়েছে তাঁকে। অনেক ক্ষেত্রে লেজার লাইট বা এলইডি দেওয়াল তৈরি করতে গিয়ে অসুবিধায় পড়তে হয়েছে। সেক্ষেত্রে বাইরের শহর থেকে যন্ত্রপাতি আনতে হয়েছে। সংস্থায় কর্মী পাওয়ার ক্ষেত্রেও বেগ পেতে হয়েছে। অনেক সময়ই দেখা গেছে, বিপণন সংস্থায় কাজের বিষয়টা হাত খরচের উপায় হিসাবে দেখেন বেশিরভাগ চাকরিপ্রার্থী। সে কারণে কিছুদিন পরপরই কর্মী নি‌য়োগ করতে হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায় এইসব সমস্যা কাটিয়ে উঠেছে ‘আইডিয়াজ ফার্স্ট’। আইআইটি খড়গপুরের কারিগরি সহায়তায় কলকাতা ছাড়িয়ে এবার দেশের বড় শহরগুলিতে শাখা খুলতে চাইছে এই সংস্থা। দিল্লি, মুম্বই ছাড়াও বেঙ্গালুরু তাদের লক্ষ্য। তবে ভিন শহরে পা রাখতে গিয়ে কলকাতা থেকে হেড অফিস সরাচ্ছেন না রাজেশ। কারণ ইতিমধ্যেই তিনি বুঝেছেন ‘‘ঘর ঠিক থাকলে তবেই চোখ বাহির পানে।’’

Related Stories