GST নিয়ে স্টার্টআপদের চওড়া হাসি

0

গোটা দেশে একটাই কর। সোজা সাপটা হিসেব। গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স বিল লোকসভায় সর্বসম্মতিক্রমে পাস হওয়ার পর অধিকাংশ মহল খুশি। কেন্দ্রীয় সরকারের এই জয়ে সামিল বিরোধীরাও। ইউপিএর আমলে কংগ্রেস প্ৰথম জি এস টি চালু করতে চেয়েছিল। গত দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাজনৈতিক মল্লভূমিতে তুমুল হট্টগোল হয়েছে। কিন্তু গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স চালু করা সম্ভব হয়নি। এবার নরেন্দ্র মোদি বাঘে গরুতে এক ঘাটের জল খেতে বাধ্য করলেন। রাজনৈতিক জয় পরাজয়ের পাশাপাশি গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্সের আরও একটা দিক আছে যাকে বলে আম আদমির সেন্টিমেন্ট। সেটা নিয়ে খেলা এখনও শুরু হয়নি। তবে ট্যাক্সের রেট কত রাখা ঠিক হবে সেই বিষয়ে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে। মোদ্দা কথা ওই রেট দেখেই আম আদমির প্রতিক্রিয়া জানাবে বলে মনে করা হচ্ছে। কিন্তু সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল গুডস অ্যান্ড সার্ভিস ট্যাক্স চালু হওয়া মানেই কোনও সামগ্রীর ওপর করের যে ইন্দ্রজাল বিছানো ছিল এতদিন এবার তা থেকে নিস্তার পাওয়া। পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা আছে। এটা ভেবেই ক্রেতা সাধারণ খুশি। রাজ্যের আয় বাড়বে তা ভেবে রাজ্য সরকারও খুশি। কেন্দ্র সিজিএসটি, আইজিএসটি থেকে আয় করবে, এবং তার হিসেবও সরলীকৃত হল। ফলে তারও খুশির অন্ত নেই। কিন্তু স্টার্টআপ সংস্থাগুলোর কী লাভ হবে এই জিএসটি চালু হলে? সেটাই একবার ঝালিয়ে নেওয়া দরকার।

ব্যবসা সোজা হল!

স্বাভাবিকভাবেই কর কাঠামো সরল হলে অন্য আর পাঁচটা জিনিসে মাথা দেওয়া যায়। বিজনেস মডেল নিয়ে আরও অনেক রকম পরীক্ষা নিরীক্ষা করার অবকাশ পাবেন স্টার্টআপ উদ্যোগপতিরা। ই-কমার্স সংস্থাগুলির ক্ষেত্রে বিশেষ করে দেখা গেছে এতদিন বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্ন রকম করের গেড়োয় পড়তে হত। জিএসটি চালু হওয়ায় গোটাটাই একটি নির্দিষ্ট নিয়মে চলবে। যেখানে রেজিস্ট্রেশনটা এক জায়গা থেকে হবে আর ব্যবসা বাড়ানো মাথা ব্যথার কারণ থাকবে না।

পণ্য এবং পরিষেবা পরিবহনে সুবিধে

করের ঝঞ্ঝাটে আপনার পণ্য আন্তঃরাজ্য বর্ডার চেক পয়েন্টে দিনের পর দিন আটকে থাকবে না। ফলে দ্রুত গ্রাহকের হাতে পৌঁছে দেওয়া যাবে পণ্য। আন্তঃরাজ্য পণ্য পরিবহণের খরচও কমবে কম করে ২০ শতাংশ। কাসকেডিং এফেক্ট না থাকায় পণ্যের দামে তার প্ৰভাব পড়বে।

দেশের বাণিজ্যিক প্রগতি এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধিতে জিএসটি বড় ভূমিকা পালন করবে

জিএসটি দেশের জিডিপিকে চাঙ্গা করবে

কেন্দ্র এবং রাজ্যের আলাদা আলাদা করে কর আদায় করার যে কাসকেডিং প্রথা এতদিন চলে আসছিল এখন সেই প্রথা উঠে যাওয়ার সম্পূর্ণ ফায়দা পাবেন ব্যবসায়ীরা। মূলত ব্যবসায়ীদের ব্যবসা করার খরচ কমাবে জিএসটি। ফলে ব্যবসায়ীদের মুনাফা বাড়বে। তার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে জিডিপি গ্রোথে।

মনে রাখবেন গ্রাহক বা ক্রেতা সাধারণই জিএসটির টাকা চোকাবে। এবং সেটা এই সাপ্লাই চেনের অন্তিম ডিলার চার্জ করবে। ফলে ধাপে ধাপে কর সংগ্রহ করা হবে না। এর সুফল পাবেন ব্যবসায়ীরা। সরকারের দিক থেকে দেখতে গেলে অনেক পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে রাজস্ব সংগ্রহ করা যাবে। তার ফলে কোষাগারের যে ঘাটতি নিয়ে এত জল্পনা সেই ঘাটতির পরিমাণও কমবে।

স্টার্টআপদের চওড়া হাসি

এখন কি হয়, পাঁচ লাখ টাকার ওপরে ব্যবসা করলে ভ্যাটের আওতায় পড়েন। জিএসটি এলে ১০ লাখের ওপর ব্যবসা উঠলে তবে কর দিতে হবে। এবং ৫০ লাখের ওপর ব্যবসা হলে আরও কম করের স্ল্যাবে চলে যাবে ব্যবসা। ফলে আরও বেশি টাকা সঞ্চয় হবে। তার অর্থ হল একটাই আরও বেশি করে ব্যবসা বাড়ানোর সুযোগ পাবেন আপনি। আর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ হল ট্যাক্স কেলকুলেট করতে এতদিন মাথার ঘাম পায়ে পড়ত স্টার্টআপদের। কাউকে কাউকে পেশাদার ট্যাক্স এক্সপার্ট রাখতে হত। উদ্ভাবনী ভাবনায় মাথা লাগাবেন নাকি করের গণনা নিয়ে পাগল পাগল দশা হবে ! কর কাঠামো সরল হওয়ায় এবার সেই দুশ্চিন্তা দূর হয়ে গেল।