চোর পালানোর আগেই বরং বুদ্ধি বাড়ুক

0

২৬ এপ্রিল। কী বলুন তো! আপনার বান্ধবীর জন্মদিন! বন্ধুর বা আত্মীয়র ম্যারেজ অ্যানিভার্সারি না না অন্য কোনও উল্লেখযোগ্য ঘটনা! ক্যালেন্ডারে মার্ক করে রেখেছেন নাকি! রাখেন নি! তাহলে এবার থেকে মার্ক করে রাখুন।

কারণ ২০০০ সাল থেকে এই দিনটি আপনার মত সৃজনশীল মানুষের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দিনটিতে ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি অর্গানিজেশন (WIPO) ওয়ার্ল্ড IP ডে হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তারপর থেকে এই সেই দিন, গোটা দুনিয়া জুড়ে সৃজনশীল মানুষ এক সঙ্গে উদ্‌যাপন করেন। কেন? কারণ একটাই, আপনার ভাবনার মূল্য আছে। এবং সেটা চুরি গেলে অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। আর তাই সেই ভাবনার পাহাড়াদার চাই। আপনার সৃজনশীল চিন্তা কেবল আপনারই সম্পত্তি। মুখ ফস্কে বেরিয়ে গেলেই তা অন্যের কবলে চলে যাবে না তো! কিন্তু আপনার ভাবনা চুরি হলে ঠিক কী করবেন তা অনেকেরই জানা নেই। আর যারা স্টার্টআপ সংস্থা চালাচ্ছেন তাঁদের তো এটা আগে জানতে হবে। যদি না চান, চোর পালালে আপনার বুদ্ধি বাড়ুক তাহলে আগে ভাগে ব্যবস্থা নিন। গড়ে তুলুন সচেতনতা! 

আর সেই ভাবনা থেকেই পৃথিবীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চলছে কলকাতাও। এই তো সেদিন কলকাতারই IP MALL আর TAXMANTRA এই দুই প্রতিষ্ঠানের যৌথ পরিচলনায় একটি বিশেষ ওয়ার্কশপ হয়ে গেল। এই ওয়ার্কশপের উদ্দেশ্য ছিল শুরুয়াতি ব্যবসায়ীদের ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি বা মেধাস্বত্ব সম্মন্ধে সম্যক ধারণা দেওয়া। আরও কী করে সৃজনশীল ভাবে নতুন উদ্ভাবন করা সম্ভব তারই মানচিত্র একে দেওয়া! আইনের মারফত, নিজেদের সৃজনশীলতা কীভাবে রক্ষা করা সম্ভব তা নিয়ে উপযুক্ত পরামর্শ দেওয়া!

বিকেল ৪টে, TAXMANTRA র কনফারেন্স রুমে তখন রীতিমত চাঁদের হাট। স্টার্টআপ উদ্যোক্তা আর ক্রিয়েটিভ আন্ত্রেপ্রেনিওরদের ভিড়ে ঠাসা কনফারেন্স হল। ট্যাক্স ফিলিং, বিজনেস কনসাল্ট্যান্সি, ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টির নানা সমস্যার অগ্রিম আটঘাট বাঁধার কাজে TAXMANTRA ইতিমধ্যেই বেশ নামডাক করেছে। আর IPMALL একটি নতুন শুরুয়াতি সংস্থা। যারা ক্রিয়েটিভ লাইসেন্সের একটি অনলাইন মার্কেটপ্লেস হিসেবে কাজ করছে। এই দুই সংস্থার যুগলবন্দিতে শুরু হলো কলকাতার প্রথম IP ওয়ার্কশপ। ইন্টেলেক্চুয়াল প্রপার্টি বা মেধাস্বত্ব নিয়ে এই প্রথম যেন নড়ে চড়ে বসল কলকাতা।

এতদিন সৃজনশীল লেখক সাহিত্যিক শিল্পী থেকে শুরু করে নতুন উদ্যোগপতির মুখে বারংবার ঘুরে ফিরে এসেছে ভাবনা চুরির প্রসঙ্গ। এবার ট্যাক্সমন্ত্রা এবং আইপি মলের যৌথ উদ্যোগে যেন বেড়ালের গলায় ঘন্টি বাঁধা গেল। আপনার যদি কোনও আইডিয়া বা অসাধারণ সৃজনশীল কোনও কাজ থেকে থাকে তবে আপনি সেই কাজের নিরিখে নিয়ম মাফিক কপিরাইটের জন্যে আবেদন করতে পারেন। সরকারি দফতর এই কপিরাইট দেয়। তবে আবেদন করার জলবত তরলং ব্যবস্থা করে দেয় ট্যাক্সমন্ত্রার মত সংস্থা। আপনার কাজ রেজিস্টার্ড হলে আপনি যোগাযোগ করতে পারেন আইপি মলের সঙ্গে। তাঁরা আপনার কাজ নাম মাত্র মূল্যে তাঁদের মার্কেট প্লেসে তুলে দেবেন। ধরুণ আপনি একজন লেখক, চাইছেন আপনার লেখা নিয়ে ছবি হোক, আর আপনি পেয়ে যান আপনার যোগ্য সম্মান এবং মূল্য। এরকম ক্ষেত্রে আইপি মল আপনাকে সাহায্য করতে তৈরি। ওই মার্কেট প্লেসে মৌলিকতা খুঁজতে খুঁজতে আপনার ক্রেতারাও ঘুরে ফিরে আসেন। আপনার কাজ সেখানে কারও পছন্দ হলে তো আপনার কেল্লা ফতে। পাশাপাশি, আপনার কাজের সরকারি স্বীকৃতি থাকায় চুরি যাওয়ার ভয়ও থাকছে না। ফলে নির্ভয়ে এবার আপনার মৌলিক আইডিয়াটা শেয়ার করে ফেলতে পারছেন।

কিন্তু তার জন্যে দরকার সচেতনতা। আর সেটা করতেই ওয়ার্কশপের আয়োজন। ছিলেন ট্যাক্সমন্ত্রার ফাউন্ডার অলোক পাত্নিয়া। এক এক করে সকলের কাজের খোঁজ নিলেন তিনি। যে সব স্টার্টআপ এসেছিল তার মধ্যে অন্যতম প্ৰধান ছিল ক্রাফ্টলুম। সংস্থার ফাউন্ডার অংশুমান গুপ্তা বুঝিয়ে বললেন তাদের কাজের সঙ্গে বাংলার সৃজনশীল স্বত্তা কীরকম অঙ্গাঙ্গি ভাবে জড়িয়ে আছে। বাংলার হস্তশিল্পীদের কাজের যোগ্য মর্যাদা দিতে রীতিমত কোমর বেঁধে নেমেছে ক্রাফ্টলুম। আর এই ওয়ার্কশপে বাকি যে যে বিষয়গুলি আলোচনায় উঠে এসেছে তার মধ্যে ছিল শুরুয়াতি সংস্থার সাফল্যের মৌলিক চাবি কাঠি হিসেবে ইন্টেলেক্চুয়াল প্রপার্টি রাইট কিভাবে সহযোগিতা করতে পারে। পাশাপাশি DESIGN THINKING Process, Creative Commons এবং Brand Valuation এর খুঁটিনাটি নিয়েও আলোচনা হয়!

তবে পাত্নিয়া সাহেবের সাফ কথা শুরুয়াতি ব্যবসার ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড তৈরি করাটা বেশি জরুরি। ব্র্যান্ড একবার তৈরি হলে তবেই তার দাম পাওয়া যায়, নইলে সবই ফক্কা।