পরিধেয় প্রযুক্তি নিয়ে ডগমগ বিশ্ব

0

প্রযুক্তির গবেষণা সমসাময়িক বাজারে লভ্য প্রযুক্তির তুলনায় অন্তত দুটো ধাপ এগিয়ে থাকে। পরিধান যোগ্য ওয়ারেবলস নিয়েও দুর্দান্ত সব গবেষণা চলছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে। আইওটি-র প্রয়োগ হচ্ছে শিল্পের বিভিন্ন প্রয়োজনেও। একথা এখন সকলেই মানবেন যে সাম্প্রতিককালের উল্লেখযোগ্য উদ্ভাবনগুলির ভিতর অন্যতম প্রধান হল ওয়্যারেবল টেকনোলজি। 

স্মার্ট ওয়্যারেবল ডিভাইসগুলির ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাত্যহিক জীবন হয়ে উঠছে আরও বেশি সুখকর। নতুন প্রযুক্তি এই সুখ মানুষের হাতের মুঠোয় এনে দিচ্ছে। স্মার্টফোনের চেয়েও উন্নত ধরনের প্রযুক্তি আমাদের পরিধানে এসে যাচ্ছে। আইওটি, ডাটা সায়েন্স, বিগ ডাটা অ্যানালিটিক্স ও ক্লাউড অ্যাডভান্সমেন্ট ওয়্যারেবল টেকনোলজির নতুন নতুন দিক খুলে দিচ্ছে প্রতি নিয়ত।স্মার্ট ওয়াচ, গুগল গ্লাস, ফিটবিটের হেল্থ মনিটরের কথা তো আমরা সকলেই জানি। আর যা জানি না এখনও তাও জেনে যাব আগামী দিনগুলোয়। 

চলুন দেখে নেওয়া যাক এখন ওয়ারেবল টেকনোলজির ব্যবহার হচ্ছে কোন কোন ক্ষেত্রে:-

হেলথ কেয়ার, ফিটনেস, ওয়েলনেস 
ডাক্তারের চেম্বারে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার দিন ফুরিয়েছে। এ ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করেই ডাক্তার ও রোগীর পারস্পরিক প্রয়োজন মিটে যাচ্ছে। বহু হেলথ কেয়ার সংস্থা ইতিমধ্যেই গ্রাহক পরিষেবাকে আরও সহজ করার জন্যে এজাতীয় ডিভাইসগুলি ব্যবহার করছে। এমন বহু সংখ্যক হেলথ কেয়ার স্টার্ট আপ রয়েছে, যারা ওয়্যারেবল হেলথ কেয়ার ও ট্র্যাকিং ডিভাইসগুলি ব্যবহার করছে।
লজিস্টিকস
ওয়্যারেবল প্রযুক্তি এক্ষেত্রেও বিশেষভাবে কার্যকরী। এক জায়গা থেকে অন্যত্র মাল চালানে – বিশেষত দামী বস্তু, যেমন ধরা যাক, পুরাতাত্ত্বিক সামগ্রীর আমদানি-রফতানিকে সুষ্ঠু করতে এই প্ৰযুক্তি অত্যন্ত উপযোগী।
ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্প
এখানে কর্মীরা এখন ব্যবহার করছেন নানা ধরনের সেন্সর। এছাড়া ব্যবহার করা হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি। ওয়্যারেবল ব্যবহার করে প্রভূত উপকার পাওয়া যাচ্ছে।
মিলিটারি ও সিকিওরিটি এজেন্সিগুলি
এক্ষেত্রেও ওয়্যারেবল প্রযুক্তি চালু হয়ে গিয়েছে। ব্যবহার করা হচ্ছে স্মার্ট ওয়াচ, স্মার্ট গ্লাস কিংবা স্মার্ট হেলমেট। নিরাপত্তা বাহিনীতে এগুলি ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
এছাড়া, পার্সোনালাইজড ট্র্যাকিংয়ের ক্ষেত্রে গ্রাহক পরিষেবাকে সহজ করতে হেলথকেয়ার কিংবা ফিটনেস সংস্থাগুলিও ব্যাপকভাবে এই প্রযুক্তি চালু করেছে। রোগীরা এক্ষেত্রে ডাক্তারবাবুদের সঙ্গে সহজেই যোগাযোগ রাখতে পারছেন। অতি সহজে নিতে পারছেন দরকারি পরামর্শ।
ফ্যাশান ও এন্টারটেইনমেন্টে ওয়ারেবল ডিভাইস প্রথম থেকেই খুবই জনপ্রিয়
এই দুটি ক্ষেত্রেও ওয়্যারেবল ডিভাইসগুলি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি ডিজাইনাররা পোশাক-পরিচ্ছদে ওয়্যারেবল ব্যবহার করা শুরু করেছেন। যেমন, স্মার্ট কানের দুল আপনাকে রিমাইন্ড করে দিচ্ছে আপনার শিডিউল। শার্টে সেন্সর এনাবেল কলার লাগানো হচ্ছে। এর ফলে শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। শরীরও থাকবে সবসময়ে আরামদায়কভাবে উষ্ণ। গলার হারের ছোট্ট  লকেটে লুকনো রয়েছে সেন্সার যা আপানাকে রীতিমত উপদেশ দেবে কী করবেন আর কী করবেন না। নিরাপত্তা হীনতায় ভুগলে স্মার্ট ডিভাইসই  পুলিশও ডেকে দিতে পারে আপনার হয়ে আপনার অজান্তেই।