মুম্বইয়ের ধরিয়া পূজারির মোজাম্বিকে ক্যাম্বা হয়ে ওঠার গল্প

0
ধরিয়া পূজারা (কালো শার্টে)
ধরিয়া পূজারা (কালো শার্টে)

আমেরিকার মোটা মাইনের চাকরি ছেড়ে অনিশ্চয়তার জীবন বেছে নিয়ে ছিলেন  মুম্বইয়ের বছর ২৫ এর যুবক ধরিয়া পূজারি। চাকরির প্রথম দিনই। হাড়হিম ঠাণ্ডা ফিলাডেলফিয়া। ততোধিক ঠাণ্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন ধরিয়া। এখন দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ মোজাম্বিকের আদিবাসীদের জীবনে পরিবর্তন আনতে ব্যস্ত মুম্বই-এর এই যুবক।

২০১২, ২ জুলাই, ফিলাডেলফিয়ার ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএস শেষ করে স্বাস্থ্য পরিষেবা সংক্রান্ত তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রথম দিন অফিস থেকে বিলাসবহুল হোটেলের ঘরে ফিরেই বুঝে গিয়েছিলেন এটা তাঁর জীবন হতে পারে না। জীবন থেকে তাঁর আকাঙ্খা খানিকটা আলাদা, চাকরি থেকে ইস্তফা দিতে দ্বিতীয়বার ভাবেননি ধরিয়া পূজারি।

মাত্র ১৯ বছর বয়েসে কলেজে পড়াকালীনই বন্ধুদের সঙ্গে প্রথম নিজের কোম্পানি শুরু করেন ধরিয়া। ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ছাত্রদের পুরনো বই বেচাকেনার ই-কমার্স সাইট। ২০০৯ সালে ইকোনমিক টাইমস এর পাওয়ার অফ আইডিয়াস-এ নির্বাচিতও হয়েছিল সেই সাইট।

“আমার এখনও মনে আছে আমরা যখন সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাই দারোয়ান বিশ্বাসই করতে চাইছিলেন না যে আমাদের নিজেদের কোম্পানি আছে, সেই অনুষ্ঠানে দুটি কথা আমি শিখেছিলাম, ‘এলিভেটর স্পিচ’ আর ‘বিজনেস প্ল্যান’,” বললেন ধরিয়া। কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই ধরিয়া সহ বাকি সকলেই আমেরিকা চলে যান উচ্চশিক্ষার জন্য, বন্ধ হয়ে যায় কোম্পানি।

প্রথম থেকেই ধরিয়া জানতেন ৯টা-৫টার চাকরি তাঁর জন্য নয়। ছোটবেলার একটি ঘটনা বলছিলেন। তাঁর যখন বছর ১৫ বয়েস তাঁর বাবা একদিন গল্প করছিলেন আইআইটি থেকে পাস করা এক ইঞ্জিনিয়ার আমেরিকার এক বড় কোম্পানিতে চাকরি পেয়েছে, বেতন ৭৫১ লাখ প্রতিবছর। ধরিয়া এটা শুনে বাবাকে বলেছিলেন, এইরকম চাকরি নয়, তিনি চান এমন একটি কোম্পানি তৈরি করতে যেখানে কর্মীদের তিনি এই বেতনের চাকরি দিতে পারবেন।

ড্রেক্সেল থেকে মোজাম্বিক

চাকরি ছেড়ে নিজের বিশ্ববিদ্যালয় ড্রেক্সেলের ডিনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ধরিয়া। জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক প্রোগ্রাম শুরুর পরিকল্পনা। এর জন্য তিনি কোনও পারিশ্রমিক আশা করছেন না বলেও জানান ধরিয়া।

স্বভাবতই অবাক হন ডিন, জানতে চান টাকা বা স্বাস্থ্য-বিমা ছাড়া কী ভাবে থাকবেন তিনি। ধরিয়া জানান, সব ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তিনি জানেন অর্থকষ্টের মধ্যেই কাটাতে হবে আরও বেশ কিছুদিন, তবে নিজের স্বপ্নপূরণের জন্য এটুকু করতে তিনি রাজি। সত্যিই তাঁর হারানোর কিছু নেই। রাজি হয়ে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন। আন্তর্জাতিক প্রোগ্রাম তৈরির কাজ শুরু করেন ধরিয়া।

সেই সময় প্রোগ্রামের বিনিয়োগ সংগ্রহের জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জের নানা সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। নিউইয়র্কের এমনই এক লগ্নিকারীর প্রশ্নের মুখে দাঁড়ান ধরিয়া। প্রশ্ন হল, “আপনি একটি বড় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে আন্তর্জাতিক প্রোগ্রাম চালাচ্ছেন, তাঁর জন্য বিনিয়োগ চাইছেন, ছেলে মেয়েদের আফ্রিকায় পাঠানোর কথা বলছেন। কিন্তু আপনি নিজে কোনওদিন আফ্রিকা যাননি। আমি কী করে আপনাকে ভরসা করব , আপনি তো নিজেই সে জায়গা সম্পর্কে কিছু জানেন না”।

উত্তর ছিল না ধরিয়ার কাছে। বুঝলেন এই প্রোগ্রাম চালাতে হলে তাঁকে আফ্রিকা পৌঁছতেই হবে। মানচিত্র খুলে দেখতে হল দেশটির অবস্থান, রওনা দিলেন আফ্রিকার মোজাম্বিকের উদ্দেশে, আর শুরু হল জীবনের নতুন এক অধ্যায়।

ধরিয়া থেকে ক্যম্বা হয়ে ওঠা

প্রথমেই বাধ সাধল ভাষার সমস্যা। আঞ্চলিক ভাষা না জানায় সমস্যায় পড়তে হল ধরিয়াকে, শুরু করলেন পর্তুগীজ শেখা। প্রথম পাঁচ মাস বায়ো-মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করলেন এক গ্রামীণ হাসপাতালে। আঞ্চলিক মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠার কাজটা সহজ ছিল না।

মোজাম্বিকে ধরিয়া
মোজাম্বিকে ধরিয়া

মোজাম্বিকের মানুষের একটা বড় সমস্যা ছিল চিকিৎসার নানা যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে না জানা, বহু দামি যন্ত্রপাতিও তাই অব্যবহৃতই পড়ে থাকত। ধরিয়া স্থানীয় মানুষদের যন্ত্রপাতি ব্যবহার শেখানো শুরু করলেন। শুরু করলেন যন্ত্রপাতি সারানোর কাজ। ছোট্ট গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল, আমেরিকা থেকে আসা এক ভারতীয় যন্ত্রপাতি সারাচ্ছে।

“ওদের কাছে আমি সারাই মিস্ত্রী হয়ে উঠলাম, যখনই কারোও বাড়িতে কোনও ইলেকট্রনিক জিনিস খারাপ হত আমাকে ডেকে নিয়ে যেত, সে এক অদ্ভুত অভিজ্ঞতা, ভাবতে পারবেন না, আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা ইত্যাদি নিয়ে কেউ চিন্তিতই নয়, ওদের কাছে আমি ওদের গ্রামে থাকা অন্য যেকোনো একজন ছেলে,” হাসতে হাসতে বললেন ধরিয়া। এইভাবে ওদেরই একজন হয়ে উঠলেন ধরিয়া, জুটে গেল আফ্রিকান নামও, ক্যম্বা।

টেড টকের আয়োজন

মোজাম্বিকের প্রথম টেডএক্স কনফারেন্স আয়োজনের কাজে হাত দিলেন ধরিয়া। উদ্দেশ্য, মোজাম্বিকের গবেষক যারা বাইরে জগতের কাছে একেবারেই অজানা তাঁদের সামনে নিয়ে আসা। “এই স্থানীয় গবেষকরা অসাধারণ জ্ঞান ও বুদ্ধির অধিকারী, পশ্চিমী দুনিয়ার থেকে এদের শেখার কিছু ছিলনা, প্রয়োজন ছিল এদের নিজেদের কথা সকলকে জানানো,” বললেন ধরিয়া।

মোজাম্বিকে ধরিয়া
মোজাম্বিকে ধরিয়া

নিউইয়র্কের টেড-এর লোকজনের সঙ্গে কথা বলেন ধরিয়া, তাঁরা ৩০০০ ইউএস ডলার মূল্যের যন্ত্রপাতি পাঠান, কিন্তু কাস্টমে কোথাও হারিয়ে যায় সেই বাক্স। সেই সব ছাড়াই চলে কনফারেন্স। “কলাপাতা ও নারকেল পাতা দিয়ে ‘টেড’ এই শব্দটি লিখেছিলাম আমরা, অংশগ্রহণকারীদের দেওয়া হয়েছিল জলের বোতল ও পার্লে-জি বিস্কুট। ছবি তোলার জন্য স্থানীয় একটি স্টুডিও থেকে ক্যামেরা ধার করে আনা হয়েছিল। সবকিছুই জোগাড় করা হয়েছিল স্থানীয় মানুষের থেকে,” জানালেন ধরিয়া।

ড্রেক্সেলে ফিরে আসা ও Ycenter তৈরি

ধরিয়া যখন মোজাম্বিকের তৃণমূল স্তরের সমস্যা বুঝতে চেষ্টা করছিলেন, সমস্যা চলছিল তাঁর আন্তর্জাতিক প্রোগ্রামে, তিনি ফিলাডেলফিয়ায় ফেরার সময় বন্ধ হয়ে যায় প্রোগ্রামটি। ধরিয়া মনে করেন দায়বদ্ধতার অভাবই ছিল এর মূল কারণ। প্রোগ্রামের প্রভাব পরিমাপই করা হয়নি, আর এখান থেকেই শুরু ধরিয়া পূজারার নিজের কোম্পানি Ycenter এর। এই ধরণের প্রোগ্রামের দায়বদ্ধতা তৈরি করাই মূল লক্ষ্য।

Ycenter ছাত্রছাত্রীদের বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় কাজ করারজন্য পাঠায়। “আপনি যখন এই প্রোগ্রামে অংশ নেবেন, আপনার থেকে সর্বাধিক দায়বদ্ধতা আশা করা হবে। প্রতিটা কাজের ব্যাপারে দায়বদ্ধতা দেখাতে হবে আপনাকে, এবং প্রতিটা কাজের ডকুমেন্টেশন করতে হবে। কাজটি সমাজসেবার জন্য হতে পারে, কিন্তু দায়বদ্ধতাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ Ycenter এ,” বললেন ধরিয়া।

মাসের পর মাস পরিকল্পনা করে, একটি ছোট টিম বানিয়ে ২০১৪ এর গোড়ার দিকে ফিলাডেলফিয়ায় Ycenter রেজিস্টার্ড করেন ধরিয়া। আমেরিকায় তখন তাঁর নিজের একটি কোম্পানি, কিন্তু সেখানেই সমস্যা। ছাত্র-ভিসার মেয়াদ ফুরচ্ছিল, আর আমেরিকায় সরাসরি ব্যবসা শুরু করার জন্য ভিসা মেলেনা ভারতীয়দের। তাই গেস্ট লেকচারার হিসেবে কাজ শুরু করলেন ধরিয়া। প্রথম ডাক পেলেন হোয়ার্টন স্কুলের পক্ষ থেকে, বক্তব্য রাখলেন, “আমেরিকার পুনর্নির্মাণ-উদ্যোগের পথে”- এই বিষয়ের ওপর।

সমস্যা আরও ছিল। Ycenter শুরুর পর ধরিয়াকে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আবেদন জানাতে হচ্ছিল যাতে তারা তাদের ছাত্রছাত্রীদের এই প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করায়। “প্রথমেই তাঁরা যা করতেন, আমাকে তাঁদের অফিস থেকে বের করে দিতেন”, হাসতে হাসতে বললেন ধরিয়া। “আসলে এই বিষয় কোনও তাত্ত্বিক জ্ঞান বা পিএইচডি ছিল না আমার”। ধরিয়ার এমন লোক দরকার ছিল যা Ycenter কে গ্রহণযোগ্যতা দেয়।

রাষ্ট্রপুঞ্জের OCHA-এর মানবিক ফিন্যান্সিং এর উচ্চস্তরীয় প্যানেল থেকে উপদেষ্টা হিসেবে যোগ দেন তেনসাই আসফা। ধরিয়ার মেন্টর অধ্যাপক মাইকেল গ্লাসর, যোগ দেন প্রতিষ্ঠাতা কর্ণধার হিসেবে। মুম্বইএর আদিত্য ব্রহ্মভট পূর্ণ সময়ের জন্য প্রোগ্রাম ডিরেক্টর হিসেবে যোগ দেন।

এর কিছুদিনের মধ্যেই পেনসালভিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও ড্রেক্সেল বিশ্ববিদ্যালয় যোগ দেয় এই প্রোগ্রামে। সামাজিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘ফিলিডুগুডার’ পুরষ্কারও পান, ৩০,০০০ ইউএস ডলারের মার্কেটিং প্যাকেজ মেলে।

ইতিমধ্যেই আমার প্রথমদিনেই চাকরি ছাড়া ও আমেরিকায় ভিসা সমস্যার কথা ফিলাডেলফিয়ার একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ফিলডেলফিয়া বেশ কিছু বড় মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সেই লেখা। এরপরই ফিলাডেলফিয়াতে একটি অফিসের একটি অংশ কাজ করার জন্য পাই আমরা,” বললেন ধরিয়া।

ম্যালেরিয়া ও গর্ভকালীন সুরক্ষা সংক্রান্ত এসএমএস অ্যাপ তৈরি

Ycenter চালু হয়ে যাওয়ার পর মোজাম্বিকে ফিরে যান ধরিয়া। ম্যালেরিয়ার প্রকোপ থেকে স্থানীয় মানুষকে সুরক্ষা প্রদানই প্রাথমিক কাজ বলে মনে করেন ধরিয়া। তৈরি করে ফেলেন ম্যালেরিয়া রোগীদের জন্য এসএমএস অ্যাপ। ধরিয়া বলেন, যেহেতু বিদেশী সাহায্য আসত তাই চিকিৎসা ও ডাক্তরি পরীক্ষা নিরীক্ষা বিনামূল্যেই হত। কিন্তু সচেতনতার অভাব ও হাসপাতালের দূরত্বের কারণে রোগীরা হাসপাতাল যেত না।


“ওরা নানা ঘরোয়া টোটকা ব্যবহার করত, ম্যালেরিয়া সম্পর্কে কোনও ধারণাই ছিলনা। স্বাভাবিকভাবেই মৃত্যুর হার ছিল খুব বেশি. ওদের কাছে যা আছে তা ব্যবহার করেই একটা উপায় খুঁজছিলাম আমি, তখনই একজন আমাকে বলে মোজাম্বিকে তিনটি জিনিস সবসময় রয়েছে, মোবাইল ফোন, কোকাকোলা আর ভগবানের ওপর বিশ্বাস। জল না পেলেও কোকাকোলা পাওয়া যাবেই,” বললেন ধরিয়া।

যেহেতু সকলের কাছেই মোবাইল ফোন রয়েছে তাই ধরিয়া একটি অ্যাপ তৈরি করেন, যেটি আগে থেকেই ফোনে দেওয়া থাকবে। পুরনো নোকিয়া ফোনে সাপ খেলার মত. এই অ্যাপের মাধ্যমে রোগী একটি মেসেজের মাধ্যমে জানাতে পারেন তিনি অসুস্থ, সেই মেসেজ ক্লাউড সার্ভিসের মাধ্যমে হাসপাতালের নম্বরে পাঠিয়ে দেওয়া যাবে। তারপর এই বার্তা বিভিন্ন স্বাস্থ্য কর্মীর কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হবে ও তাঁরা রোগীর কাছে পৌঁছবেন।

“আমি একটা দায়বদ্ধতা ও পারস্পারিক বিশ্বাসের পারিবেশ তৈরি করতে চাইছিলাম। আফ্রিকার মানুষ উন্নত দেশ থেকে আসা মানুষকে সহজে বিশ্বাস করেন না। তাঁরা মনে করেন আমরা কিছু টিক মারা কাজ করতে ওখানে যাই। কিন্তু এই এসএমএস সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন ডাক্তারদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়, কী ঘটছে এবং রোগীর কাছে সাহায্য পৌঁছল কি না সেদিকে নজর রাখা হয়,” জানালেন ধরিয়া।

মাতৃগর্ভ থেকে শিশুর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপুঞ্জের উদ্যোগেও সাহায্য করছে এই অ্যাপ। “মোজাম্বিকে এইচআইভি সংক্রামিত গর্ভবতী মায়েরা লোকলজ্জার ভয় এইচআইভির কথা কাউকে জানান না, এদের মধ্যে আবার অধিকাংশই কিশোরী, তারা যে গর্ভবতী সেকথাই লুকিয়ে রাখে তারা, আর যখন তা প্রকাশ্যে আসে তখন আর কিছু করার থাকেনা,” বললেন ধরিয়া।

গর্ভধারণের প্রথম কয়েকদিনের মধ্যেই ব্যবস্থা নিলে শিশুর মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ রোধ করা সম্ভব। এই অ্যাপের মাধ্যমে গর্ভবতী তাঁর অবস্থার বিবরণ দিয়ে গোপনে স্বাস্থ্য কর্মীর কাছে মেসেজ পাঠাতে পারেন। এই পরিষেবার নাম ‘উবের ফর ম্যালেরিয়া এন্ড প্রেগন্যান্সি টেস্টিং’।

আগামী পরিকল্পনা

Ycenter বর্তমানে মোজাম্বিকের স্বাস্থ্য মন্ত্রক এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করছে। কাজ করছে আমেরিকার চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যারা তাদের ছাত্রছাত্রীদের আফ্রিকায় কাজ শিখতে ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করতে পাঠাবে। বর্তমানে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম, ফিলাডেলফিয়া অধ্যায়ের সদস্য ধরিয়া। ২০১৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত সোশ্যাল এন্টারপ্রাইস ওয়ার্ল্ড ফোরামে বক্তব্য রাখতে আমন্ত্রিত হন তিনি। এছাড়াও ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্কের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ টি আলোচনায় বক্তব্য রাখেন ধরিয়া, পৌঁছন ৮০০ এরও বেশি ছাত্রছাত্রীর কাছে। মাইক্রোসফট-এর সঙ্গে আয়োজন করেন শহরব্যাপী হ্যাকাথন। রাষ্ট্রপুঞ্জ ও ইউএসএ-এর বিভিন্ন উচ্চস্তরীয় সংগঠনের সদস্যকে নিয়ে তৈরি করেছেন একটি উপদেষ্টা মণ্ডলী। ফিলাডেলফিয়া বিজনেস জার্নালের প্রচ্ছদে স্থান পেয়েছেন ধরিয়া, ক্রাউড ফান্ডিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সংগ্রহ করেছেন টাকা। ২০১৫ তে পেয়েছেন O1A visa, অসাধারণ ক্ষমতার অধিকারীদের জন্যই বরাদ্দ এই ভিসা।

Related Stories