Goibibo + MakeMyTrip মিলনের গোপণ রহস্য

0

গত মাসে এ দেশের স্টার্ট আপ ইকোসিস্টেমে একটা নজির কাড়া ঘটনা ঘটেছে। দুটি প্রথম সারির দুটি ট্র্যাভেল সংক্রান্ত অনলাইন স্টার্ট আপ গাঁটছড়া বেঁধেছে। এটা একটা আশাপ্রদ ঘটনা। MakeMyTrip এবং goibibo-এর এই মিলন কাহিনি এখন দেশীয় স্টার্ট আপ-এর বৃত্তে অন্যতম আলোচ্য বিষয়বস্তু। কে্ননা ঠিক এরকম এর আগে কখনো ঘটেনি।

MakeMyTrip-এর চেয়ারপার্সন তথা সিইও দীপ কালরা বিশদে জানালেন, কেন তাঁরা গাঁটছড়া বাঁধার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীপ বললেন, গত কয়েক বছরে প্রতিযোগিতার চাপ অনেকটাই বেড়েছে।২০১২-২০১৩ সাল থেকে আমাদের সামলাতে হচ্ছিল Expedia-এর মতো বিশ্ববাজারের মাঠে দাপিয়ে বেড়ানো খেলোয়ারকে। যদিও ২০১৩-২০১৪ সাল নাগাদ goibibo-ও ভাল ফল করতে শুরু করে। প্রযুক্তিগত দিক দিয়ে ওরা ছিল দারুণ আধুনিক। তাছাড়া, আ্মাদের চেয়ে goibibo-এর প্রযুক্তি ‌ছিল সব দিক থেকেই উন্নত মানের।

এইসব প্রতিযোগিতার মুখে পড়়েই MakeMyTrip গাঁটছড়া বাঁধার ব্যাপারে শেষপর্য়ন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে বলে জানিয়েছেন দীপ। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত হতে কাগজপত্রের ক্ষেত্রে কিছু অনুমোদনের প্রয়োজন। যেমন দরকার শেযার হোল্ডারদের ভোটাভুটি আর সেইসঙ্গে দরকার হবে ভারত সরকারের কম্পিটিশন কমিশনের প্রযোজনীয় অনুমোদন।

মোবাইলস্পার্ক ২০১৬-এর ফায়ারসাইড চ্যাটে দীপ অকপটে জানালেন MakeMyTrip-এর ওঠাপড়ার কাহিনি। শোনালেন কঠিন দিনগুলিতে সংস্থার তীব্র লড়াইয়ের কিসসা।

দীপের কথায়, টাকার গন্ধ তো আমরা সকলেই চিনি। সেইসঙ্গে জানি সংশ্লিষ্ট অসুবিধাগুলিও। প্রসঙ্গত, বর্তমানে ভারতের অনলাইন ট্র্যাভেল এজেন্সির ব্যবসা করছে যে সমস্ত সংস্থা - তারা গ্রাহকদের ডিসকাউন্ট বা ছাড় দিয়ে থাকে। এ ব্যাপারে আলোকপাত করে দীপ বলেছেন, আমরা এই ছাড় দেওয়ার বিরোধী। আর সে কারণে অনেকেই এখন আমাদের বিরোধিতায় নেমে পড়েছেন। তবে যতই বিরোধিতা থাকুক না কেন – ওটা আমরা পাত্তা দিচ্ছি না। এখন goibibo-কে আমরা পাশে পেয়েছি। ফলে ব্যবসায় এখন টাকা ঢুকছে।

জানা গেল, দু বছর আগেই ছাড় দেওয়া বন্ধ করেছেন ওরা। ফলে ভবিষ্যতের দিনগুলিতে আরও বেশি টাকার ব্যবসা করা সম্ভব হবে বলে জানালেন দীপ। দীপ বললেন, ২০১২ সালের পর থেকেই আমরা বেশ ভাল করছি।

দীপ আরও বলেছেন, অনলাইনে বিমানের টিকিট বিক্রি করে্ও আমরা ভাল ফল পাচ্ছি। বিমানের টিকিটের যথেষ্ট ক্রেতা আছে। এ কাজ়টা MakeMyTrip-কে একরকম বাধ্য হয়ে করতে হয়েছে। কেননা অনলাইন ট্র্যাভেল ব্যবসায় একসময় নতুনভাবে এগোনোর পথ ছিল না। পরিস্থিতির সঙ্গে পাল্লা দিতে সেইসময় হোটেল ও অন্যান্য ব্যবসাও খুলতে হয়। আসলে উদ্যোগপতিদের জীবনে নিয়মিতভাবেই চ্যালেঞ্জ জিনিসটির মুখোমুখি হতে হয়। তখনই উদ্যোগপতি বুঝে নেন তার পক্ষে বিশেষ কী করণীয়। যা করলে তিনি আর পাঁচটা ব্যবসার থেকে নিজের ব্যবসাটিকে আলাদা বিশেষত্ত্ব দিতে পারবেন।

দীপকেও এমত পরিস্থিতির মোকাবিলা করে এগোতে হয়েছে। দীপ বলছেন, সেইসময় তিনি ABN Amro বা GE Capital-এর মতো সংস্থার সঙ্গে কাজ করেছেন। দীপের পরামর্শ, যে কোনও সমস্যার মোকাবিলায় মাথা ঠাণ্ডা রাখাটাও কিন্তু ভীষণ রকমের কাজের কাজ। শান্তভাবে মোকাবিলা না করলে দুনিয়ার কোনও সমস্যারই সঠিক পথে সমাধান করা নয়।

কিন্তু দীপ নিজেও কি বরাবরই ঠাণ্ডা মাথায় মানুষ? তিনি জানালেন, সাধারণত মেজাজ হারান না। তবে মাঝেমাঝে নিজেকে সামলাতে পারেন না। তবে একই ভুল জীবনে কখনও দুবার করেননি বলে জানিয়েছেন দীপ। দীপ বলেন, অথচ বহু মানুষকে দেখেছি য়াঁরা একই ভুল বারেবারে করছেন। এরকম দেখলে খারাপ লাগে আর কী।

মোবাইলস্পার্ক ২০১৬-তে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোকপাত করেছেন দীপ। সেটি হল ভ্যালুয়েশন। দীপ জানিয়েছেন, গত কয়েক বছর বেশ কিছু কম্পানি ভ্যালুয়েশনে গিয়েও কখনও ১ বিলিয়ন বা তার বেশির ভ্যালুয়েশন করিয়েছে। এ ব্যাপারে দীপের মন্তব্য, এতে কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। প্রকৃতপক্ষে একটি সংস্থার দাম চাহিদা ও জোগানের অঙ্কের বি্চারে স্থির করা হয়।

উদ্যোগপতিদের প্রতি দীপের মূল্যবান পরামর্শ, ভ্যালুয়েশন মাথায় রাখার দরকার নেই – বরং ভ্যালু তৈরি করুন। ভ্যালুয়েশন তো নিছক একটি কাগজকলমের প্রক্রিয়া। ওটা প্রকৃত সত্য নয়।

সব শেষে দীপের‌ আর একটি পরামর্শ, প্রতিযোগিতার বাজারে নিজের সামর্থ্য বাড়িয়ে তোলাটাই ভবিষ্যত উন্নতির পক্ষে আসল কাজের কাজ।