বছরে ৪ লক্ষ শিশুকে বাঁচাতে ইউনিসেফের ‘মিশন ইন্দ্রাধনুশ’

শৈশব মানেই রোগের হানাদারি। রোগের বাড়বাড়ন্ত রুখতে ভারত সরকারের উদ্যোগে দীর্ঘ দিন ধরে একাধিক টিকাকরণ প্রকল্প চলছে। এরপরও অনেক শিশুর টিকাকরণ হয়নি, কেউ হয়তো কয়েকটি টিকা পেয়েছে। টিকাকরণের মানচিত্রে যাতে আর কোনও ফাঁক না থেকে তার জন্য মিশন ইন্দ্রধনুশ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই মিশন সফল করতে পাশে রয়েছে ইউনিসেফ। যৌথ সাহায্যে সাতটি টিকার মাধ্যমে প্রতি বছর ৪ লক্ষ শিশুকে বাঁচানো লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে এই কর্মসূচির ‌লক্ষ্যপূরণে বদ্ধপরিকর তারা।

0

পালস পোলিওর মতো কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছে অমিতাভ বচ্চন, শচীন তেন্ডুলকরদের। পোলিওমুক্ত দেশ গড়তে আইকনদের উৎসাহ দেওয়ার ফল অনেকটাই মিলেছে। পোলিওর ক্ষেত্রে সাফল্য এলেও ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, টিটেনাস, যক্ষ্মা, হাম, হেপাটাইটিসের মতো রোগগুলোর দাপট এখনও রয়েছে। এইসমস্ত রোগকে ‘ভ্যানিশ’ করা সহজ নয়। দেশের বিভন্ন প্রান্তে রোগ নিয়ে কুসংস্কার, নানা সংশয় এর সবথেকে বড় বাধা। সেই অজ্ঞানতার প্রাচীর ভেঙে মানুষকে এই সব রোগ সম্পর্কে সচেতন করতে ইউনিসেফ ‘এক স্টার অ্যায়সা ভি’ নামে বেশ কিছু অনুপ্রেরণামূলক ভিডিও তৈরি করেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে প্রান্তিক এলাকার প্রতিনিধি কতটা চড়াই পেরিয়ে দেশে এই প্রকল্পকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। যা দুনিয়ার স্বাস্থ্য অভিযানের ক্ষেত্রে বৃহত্তম কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে।

এই কর্মসূচিকে বাস্তবায়িত করতে ইউনিসেফ বেশ কিছু প্রচারমূলক ভিডিও বানিয়েছে। যার প্রথম ভিডিওয় ১০ এপ্রিল ২০১৫ সালে সম্প্রচার হয়। যেখানে দেখানো হয় পুরানচন্দ্র নামে একজনকে। যিনি নেহাতই এক ছাপোষা অটোচালক। বাড়ি ওড়িশায়। টিকাকরণের জন্য সরকার এভিডিএসের জন্য কয়েকজনকে বেছে নিয়েছিল। যার মধ্যে পুরান ছিলেন অন্যতম। দায়িত্ব পাওয়ার পর রোজ তিনি কাকভোরে উঠে নিজের অটোয় ভ্যাকসিন ও অন্যান্য সামগ্রী তুলে নিয়ে পড়তেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। এভাবেই টিকাকরণ মিশন সফল করতে তাঁর টিকাকরণ এক্সপ্রেস ছুটে বেড়াতে থাকে প্রত্যন্ত পথে। যে এলাকা এতদিন টিকাকরণের আওতায় ছিল না, যেখানে পৌঁছানো কার্যত অসম্ভব বলে মনে হত, সেখানে পুরানচন্দ্রর মতো নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা টিকাকরণ সফল করতে পারলেন। এই অসাধ্যসাধনের পিছনে রয়েছে এভিডিসি মতো বলিষ্ঠ প্রকল্প।

https://youtu.be/0MDHcMVmMBM

পুরানচন্দ্রের মতো কঠিন পথের পথিক আশ্রিতা। ঝাড়খণ্ডে আশা প্রকল্পের এই কর্মী সত্যিকারের আশা জুগিয়েছেন।প্রত্যন্ত এলাকার প্রত্যেক শিশুকে সম্পূর্ণভাবে টিকাকরণে‌র আওতায় নিয়ে এসেছেন আশ্রিতাদের মতো কর্মনিষ্ঠ মহিলারা। আর সেই পথ পেরোতে গি‌য়ে নানা প্রতিবন্ধকতা এসেছে। সবথেকে বড় বাধা ছিল মানুষের সংশয়বাদী মনকে জয় করা। কারণ টিকা দিলে নাকি বাচ্চার ক্ষতি হবে, এমনই সব মনগড়া ধারনার মিথকে ভাঙতে হয়েছে আশ্রিতাকে।এই অসম যুদ্ধে আশ্রিতা পাশে পেয়েছেন এএনএম কর্মী ও পঞ্চায়েত সদস্যদের। প্রত্যেক শিশুই যাতে করে জীবনদায়ী টিকা পেয়ে সুস্থ এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যত তৈরি করতে পারে তার জন্য জনপ্রতিনিধিরাও সমানভাবে দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এরকম আরও দুটি ভিডিও আনতে চলেছে ইউনিসেফ।এই ভিডিওগুলো অনলাইনে দেখা যাচ্ছে ‘বেবিসনিডইউ’, এই হ্যাশট্যাগে।