ব্রেইল নয় দৃষ্টিহীনরাও পড়ে ফেলবেন ছাপা অক্ষর

1

চোখে কম দেখেন! অথবা দেখতে পান না। কুচ পরোয়া নেই। আপনার হয়ে পড়ে দেবে MyEye 2.0 নামের একটি ডিভাইস। কিছু পড়া বা কাউকে চেনার জন্য ক্ষীণদৃষ্টি ও দৃষ্টিশক্তিহীনদের কারেকটিভ লেন্স ছাড়া এতদিন উপায় ছিল না। তাতেও যে খুব একটা সুবিধে হত তা কিন্তু নয়। এবার সেই সমস্যার খানিকটা হাল হতে চলেছে। ২০১৩ সালে প্রথম বাজারে আনে ইজরায়েলের স্টার্টআপ অরক্যাম। অগমেন্টেড রিয়্যালিটিকে কাজে লাগিয়ে তৈরি হয়েছে এই ক্যামেরা। এখন বাজারে দুটি ভার্সন পাওয়া যায়। একটির দাম সাড়ে তিন হাজার মার্কিন ডলার। আর শুধু রিডারের দাম মাত্র আড়াই হাজার মার্কিন ডলার। অনলাইনে অর্ডার করলে আপনি কিনতে পারবেন। OrCam MyEye 2.0। চোখে পড়া চশমার সঙ্গে এক আউন্সের এই যন্ত্রটি লাগিয়ে নিলেই জীবন সহজ লাগবে। সংস্থার অন্যতম কর্ণধার জিভ অভিরাম জানালেন, প্রথম ভার্সনের তুলনায় আরও স্মার্ট আর আরও নিখুঁত হয়েছে মাই আই 2.0। 

MyEye 2.0 আসলে অত্যন্ত শক্তিশালী ক্যামেরা যেটা ইউজারের সামনে থেকে তথ্য সংগ্রহ করে HD মিনি স্পিকারের মাধ্যমে তথ্য দিতে থাকে। ক্ষীণদৃষ্টি ও দৃষ্টিশক্তিহীনদের জন্য এই ডিভাইস দারুণ কার্যকর। যন্ত্রটির প্রাথমিক ফিচার হল টেক্সট টু স্পিচ ফাঙ্কশন। যার ফলে ইউজার দ্রুত টেক্সট পড়ে নিতে পারেন কোনও রকম বিরক্তিকর যন্ত্রণা বা চোখের ওপর অকারণ চাপ ছাড়াই। টেক্সট রিডিং ফাংশন সহজে হাতের ইশারায় নিয়ন্ত্রণ করা যায়। পড়া শুরু করা,থামা, পড়ার গতি নিয়ন্ত্রণ করা সব ইউজারের সহজ ইশারায় সম্ভব। বই থেকে বিলবোর্ড যে কোনও জায়গা থেকে সহজে টেক্সট পড়ে নিতে পারে MyEye 2.0।

দ্বিতীয় কাজ হল মুখ চিনে নেওয়া। আমরা প্রথমেই মানুষের চেহারা দেখে চিনতে পারি। ক্ষীণদৃষ্টি ও দৃষ্টিশক্তিহীনদের ক্ষেত্রে অসুবিধা হল নাম ছাড়া আর কোনওভাবে চেনার উপায় নেই। নতুন ডিভাইস কিন্তু সহজে চিনিয়ে দেবে যে কাউকে। এক দশক আগেই প্রমাণিত হয়ে গিয়েছিল মুখ চেনার এই টেকনোলজি খুব একটা সহজ নয়। চেরাহা, মুখের ভাব সময়, পরিবেশের সঙ্গে বদলাতে থাকে। MyEye 2.0 এর কাজ হল দ্রুত মুখ চিনে নেওয়া। ধরা যাক টাকার নোট। মূল্যমান দিয়ে চেনা যায়। কিন্তু নানা দেশে নানারকম নোট। হাতে অনুভব করে যেভাবে টাকার নোট চিনতে হত, MyEye 2.0 সেই কাজটাই সহজে করে দেয়। এর ফলে দৃষ্টিশক্তিহীনদের জীবনযাত্রা অনেক সহজ হবে।