৩ টি দেশের কোম্পানীতে ৯ হাজার কর্মী ,পঁচিশ বছরে অনন্য নজির ‘পামাকের’

দেশে এবং বিদেশে ‘পামাক’ এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। তাঁদের প্রধান কাজই হয়ে ‘ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিসিস’ এবং ‘রিস্ক মিটিগেসন সার্ভিস’। এর প্রধান প্রশান্ত আশার জানালেন, মাত্র ২৫ বছরে কীভাবে উত্তরণ ঘটেছে এই সাফল্যের চূড়ায়।

0

মাত্র ২৫ বছর। তার মধ্যে ৩টি দেশে কোম্পানি প্রতিষ্ঠা। কোম্পানির কর্মীসংখ্যা ৯০০০। এমন নিদর্শনের নাম প্রশান্ত আশার। যিনি নিজের মত করে কিছু করতে চেয়েছিলেন। আর তারই প্রতিফলন ‘পামাক’।

চাটার্ড অ্যাকাউটেন্ট পাস করে একটা অডিটিং ফার্মে কাজ শুরু করেছিলেন প্রশান্ত। কিন্তু নিজের মত করে কিছু করার ইচ্ছে প্রশান্তকে তাড়া করে বেড়াচ্ছিল। বহু কোম্পানির দরজা ধাক্কানোর পর অবশেষে সিটি ব্যাঙ্কের হাত ধরে কাজ শুরু করেন প্রশান্ত। তাঁদের প্রধান কাজই হয়ে ‘ফিন্যান্সিয়াল অ্যানালিসিস’ এবং ‘রিস্ক মিটিগেসন সার্ভিস’। বর্তমানে দেশের প্রত্যেকটি বড় ব্যাঙ্কই ‘পামাক’-এর সঙ্গে কাজ করেন। এছাড়াও আরব আমিরশাহি এবং মালয়েশিয়ায় ‘পামাক’-এর অন্যান্য শাখা ছড়িয়ে পড়েছে।


সাফল্যের এই মাপকাঠি নিয়ে ইয়োরস্টোরির সঙ্গে কথা বললেন প্রশান্ত।

ইয়োরস্টোরিঃ কী ধরনের অভিজ্ঞতা আপনাকে এই কাজে উৎসাহ দিয়েছিল?

প্রশান্তঃ সিটি ব্যাঙ্ক এমন একজন চাটার্ড অ্যাকাউটেন্ট খুঁজছিলেন, যাঁরা তাদের লোনের সিকিউরিটি পেপার আপডেটে সাহায্য করবে। ওই তিন মাসে আমরা তাদের শুধু এই কাজেই সাহায্য করিনি, লোনের ব্যাপারে বিভিন্ন সমস্যার সমাধানেও সাহায্যও করেছিলাম।

ইয়োরস্টোরিঃ তাহলে আপনাকে এই কাজে কারা উৎসাহ দিয়েছিল? কাদের সঙ্গে আপনি বিভিন্ন ব্যাপারে পরামর্শ করেন?

প্রশান্তঃ আমার নির্দিষ্ট কোনও পরামর্শদাতা নেই। তবে আমার বিশ্বাস এবং সিদ্ধান্তগুলোকে সম্মান যাঁরা দিয়েছিলেন, তাঁদের তিনজনের নাম আমি করব।

প্রশান্ত আশার।সিইও
প্রশান্ত আশার।সিইও

• আমার বাবা নিজে খুব সাধারণ জীবনযাপন করতেন। যার জন্য যে কোনও জটিল সমস্যার খুব সহজ মীমাংসা করা আমি তার কাছ থেকে শিখেছি।

• আমার এক শিক্ষক আমাকে শিখিয়েছিলেন সঠিক মানুষের ওপর বিশ্বাস রাখতে। যাতে সেও সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারে।

• আমার প্রিন্সিপাল নিজেও একজন সিএ ফার্মের মালিক। তিনি আমায় শিখিয়েছিলেন কোনও সমস্যার সমাধানের জন্য আগে সেটির পরিপূর্ণ বিশ্লেষণ দরকার। তাতেই অর্ধেক সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।

ইয়োরস্টোরিঃ যেখানে ব্যাঙ্কিং, ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং ইন্স্যুরেন্স (বিএফএসআই) আপনাদের ক্লায়েন্ট। সেখানে কতখানি স্বচ্ছতা নিয়ে কাজ করতে পারেন?

প্রশান্তঃ আমাদের কাজে স্বচ্ছতা এবং সততা দুটোই খুব জরুরি। আমরা প্রত্যেকটা তথ্য রাখার ব্যাপারে গোপনীয়তা মেনে চলি। সরকারের পেমেন্ট থেকে শুরু করে যে কোনও আইনি ব্যাপার খুব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হয়। অনেক ক্লায়েন্টদের নিজস্ব অডিটর থাকে। তাই কোনও রকম ভুলভ্রান্তির জায়গা এখানে নেই।

ইয়োরস্টোরিঃ দেশের সবচেয়ে বড় বিএফএসআই ক্লায়েন্টদের সঙ্গে আপনারা কাজ করেন। এদের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষণীয় বিষয়বস্তু কী?

প্রশান্তঃ এদের সঙ্গে কাজ করার অর্থ চূড়ান্ত প্রফেসনালিজম। প্রত্যেকটি কাজের নিখুঁত বিশ্লেষণ থেকে শুরু করে সঠিক সময়ে কাজ শেষ করা সব ক্ষেত্রেই প্রফেসনালিজম থাকাটা খুব জরুরি।

ইয়োরস্টোরিঃ এই ২৫ বছরে সবচেয়ে বেশি অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছেন কখন?

প্রশান্তঃ আমাদের কাজে প্রতিটি মুহূর্ত ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। প্রথম যে অসুবিধার মুখে পড়তে হয়েছিল, তা হল সংস্থাটির একটা কাঠামো তৈরি করা। ১৯৯৫ থেকে ২০০৩ পর্যন্ত দেশের ৩০টি শহরে আমরা সংস্থার শাখা তৈরি করি। সেখানকার আঞ্চলিক ক্লায়েন্টদের সঙ্গে আমাদের উদ্দেশ্য নিয়ে কথা বলি। তারপর যখন দুবাইতে একটা শাখা খুলি, তখন প্রায় ৫ বছর লড়তে হয়েছিল সংস্থার ভিত সুদৃঢ় করতে। এই অভিজ্ঞতাই আমাদের কাজে লেগেছিল কুয়ালালামপুরের শাখাটি খোলার সময়। ২০০৮ থেকে ২০১০ সারা বিশ্বেই আর্থিক ক্ষেত্রে একটা টানাপোড়েন গেছে। যার প্রভাব পড়েছিল আমাদের ওপরও। সেই সময় বাজারে টিকে থাকার জন্য আমরাও যতটা পেরেছি খরচ কমিয়ে চলার চেষ্টা করেছি।

ইয়োরস্টোরিঃ আপনার এই চলার পথে কোম্পানির অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মচারীদেরও মতামত চাইব।

সিওও প্রবীণ শিন্ডে জানালেন, ক্লায়েন্টদের পাশে পাওয়াটাই তাদের সাফল্যের অন্যতম কারণ। তাই তাঁরা চেষ্টাও করেন, ক্লায়েন্টদের যতখানি পারা যায় খুশি রাখতে। এইচআর-এর প্রধান বাবর মিয়াঁ জানাচ্ছেন, কোম্পানির সাফল্যের সব চেয়ে বড় চাবিকাঠি সততা। অধ্যাবসায়, ক্ষিপ্রতা, সহজলভ্যতা এবং একসঙ্গে কাজ করার মানসিকতা সব কিছুই এখানে রয়েছে।

প্রবীণ শিন্ডে সিওও
প্রবীণ শিন্ডে সিওও

ইয়োরস্টোরিঃ পরবর্তী পাঁচ বছরে ‘পামাক’-এর পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

প্রশান্তঃ আমরা আরও উন্নত প্রযুক্তি আনতে চলেছি, যাতে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘পামাক’কে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দিতে পারি।

ইয়োরস্টোরিঃ অন্যান্য উচ্চাকাঙ্ক্ষী উদ্যোক্তাদের কিছু বলতে চান?

প্রশান্তঃ অধ্যাবসায় সাফল্যের মাপকাঠি। কঠোর পরিশ্রম সাহসের সঞ্চার করে। যে কোনও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তাঁরা হতে পারেন।