শিবালীর ডেজার্ট ডায়েট চার্ট গুলিয়ে দেবে

0

পপ’জ কিচেনের নাম শুনেছেন? চকো লাভা পিৎজা ওদের বিশেষত্ব। এছাড়াও বানোফি পাই, রেড ভেলভেট কেক, ডেথ বাই চকোলেট কেক আর ব্লুবেরি চিজ কেক এই কিচেনের সিগনেচার ডিশ। জিভে জল বলতে যা বোঝায় তাই এনে দেয় পপ’জ কিচেন। সংস্থার সর্বেসর্বা মিস্টি মেয়ে শিবালী প্রকাশ। ভালবাসার পরশ দিয়ে গ্রাহকদের সেরা ডেজার্ট পরিবেশন করেন তিনি।

২০১২ সালের মে মাসে ব্যাঙ্গালোরের এই ‘হোম বেকার’ পপ’জ কিচেন শুরু করেন। বাবাই তাঁর সবথেকে বড় প্রেরণা। বাবা ব্যাঙ্গালোরের সেন্ট মার্কস রোডে স্যানিটারি সামগ্রীর দোকান চালাতেন তিরিশ বছর ধরে। ২০১২ সালে বাবার মৃত্যুর পর চাকরি ছেড়ে কয়েকদিনের অবসর নেন শিবালী। আত্মসমীক্ষা করেন। “তখনই আমার নেশাকে পেশা করার সিদ্ধান্ত নিই। আমার সবথেকে বড় ভক্ত বাবার স্মৃতিকে সম্বল করে নিজের ব্যবসা শুরু করি। সেখান থেকেই পপ’জ কিচেন নামের সূত্রপাত।”

শুরুর কথা

২০১০ সালে ক্রাইস্ট চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক উত্তীর্ণ শিবালী ২ বছর অ্যাকসেনচারে মার্কেটিং অ্যান্ড কমিউনিকেশন ডিপার্টমেন্টে কাজ করেন। “ কোনওদিন স্বপ্নেও ভাবিনি বেকিং-কে পেশা করে নিজের ব্যবসা শুরু করব। তিন বছর ধরে এটাই আমার পেশা। আমি অবশ্য খাবারের ব্যাপারে বরাবরই উৎসাহী ছিলাম।”

বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আত্মীয় পরিজন বা বন্ধুবান্ধবদের জন্য অর্ডার নিয়ে কাজ শুরু করেন শিবলী। হেসে জানালেন, “আশ্চর্যজনক ঘটনা, আমার কাজ খুব জনপ্রিয়তা পেল।”

অভিনেতা বিবেক ওবেরয়ের সদ্যোজাত মেয়ের জন্য কেক তৈরি করা শিবালির বেকিং কেরিয়ারের সবথেকে উল্লেখযোগ্য ঘটনা। স্মিত হাসি যোগ করে তিনি বললেন, “পপ’জ কিচেন কাপকেকের একটি বক্স হৃত্বিক রোশনকে পৌঁছে দিয়েছিলাম আমি।”

ব্যাঙ্গালোরের মেয়ে

ব্যাঙ্গালোরে জন্মগ্রহণ আর বেড়ে ওঠার সুবাদে গত সাতাশ বছরে শহরকে বদলাতে দেখেছেন তিনি।

“আমি জানি এটা শুনতে খুব গতে ধরা লাগে তবে আমি শ্রেষ্ঠ শৈশব কাটিয়েছি। বিশপ কটন গার্লস হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছি। লেখাপড়া ছাড়াও অভিভাবকরা আমায় ভয়েস ট্রেনিং ক্লাসে পাঠিয়েছিলেন। পিয়ানো গিটারেরও প্রশিক্ষণ নিয়েছি। ছোটবেলা থেকেই খেলাধূলায় পারদর্শী ছিলাম।”

শিবালীর মতে, ব্যাঙ্গালোর পরীক্ষানিরীক্ষা আর উদ্ভাবনের কেন্দ্র, বি‌শেষত রন্ধনপ্রণালীর ক্ষেত্রে।“যুব সম্প্রদায় শহরের জনসংখ্যার একটা বড় অংশ। এঁদের অসম্ভব দক্ষতা এবং অভিনব ব্যবসায়িক ভাবনা রয়েছে। নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরতে তরুণরা অন্ত্রেপ্রেনিওর হওয়ার পথে এগোচ্ছে। আজকাল একটা ছোটখাটো ব্যবসা যার মধ্যে প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে সেটাও দ্রুত গতি পায় এবং সহজে বিনিয়োগও মেলে। আমি নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে একথা বলতে পারি। প্রথমে ঠিক করি যে বাড়ি থেকেই কেক-ডেজার্ট তৈরি করে গ্রাহকদের বিক্রি করব। এভাবে বাজার সম্পর্কেও সম্যক ধারণা হবে। একইসঙ্গে সম্ভাব্য গ্রাহকদের কাছে আমার পণ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং জনপ্রিয়তা কতটা তারও একটা আন্দাজ হবে।” আপাতত শিবালী আউটলেট তৈরির দিকে মনোনিবেশ করেছেন।

পপ’জ কিচেন

পপ’জ কিচেনের বিশষত্ব হল ডেজার্ট আর অ্যারোম্যাটিক প্রোডাক্ট। জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, বেবি শাওয়ার, এঙ্গেজমেন্ট, বিয়ে এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানের জন্য কাস্টমাইজড কেক/কাপকেক তৈরি করে এই কিচেন। নিজের ফেসবুক পেজে সেইসব কাজ তুলে ধরেন শিবালী। নিজস্ব ওয়েবসাইটের কাজকর্মও চলছে। প্রাথমিক স্তরের মার্কেটিং চলে ফেসবুক মারফত, তাঁর কথায়, “মূলত মৌখিক প্রতিশ্রুতিতেই অর্ডার নিই, আমার প্যাকেজিং মারফত ব্র্যান্ডকে তুলে ধরি।”

সপ্তাহে গড়ে ৫০টি কেক তৈরি করেন শিবালী। পেমেন্ট নেন ক্যাশ অন ডেলিভারি পদ্ধতিতে। নিয়মিত কেক সরবরাহের জন্য একজন ডেলিভারি বয়-ও রয়েছেন।

তিনি বলেন, “থ্রি ডি কাস্টমাইজড কেকের জন্য একজন ডেলিভারি বয় রাখা হয়েছে যে গাড়িতে করে কেক নিরাপদে পোঁছে দেয় গ্রাহকদের।”

শিবালীর মতে, তাঁর কেকের ইউএসপি হল গুণগত মান যা গ্রাহকদের টানে। সমস্ত বেকিংয়ের কাজ নিজেই করেন শিবালী। আনুষঙ্গিক কাজের জন্য একজন সহযোগী রয়েছে তাঁর।

উদ্ভাবন

কাস্টমাইজড কেকের ক্ষেত্রে জুনি ট্যানের সৃষ্টিই তাঁর পাথেয়। জুনিকেই রোল মডেল হিসেবে দেখেন তিনি।

নতুন আর সৃজনশীল ভাবনাকে বাস্তবের রূপ দিতে ভালবাসেন শিবালী। ফলে দৈনন্দিন প্রতিযোগিতা তাঁকে ছুঁতে পারে না। “আমি আমার গ্রাহকদের সবসময় শ্রেষ্ঠ পরিষেবা দিতে চাই। আর আমার ইউএসপি হল খাবারের গুণগত মানের সঙ্গে কোনও সমঝোতা না করা। কিছু উপকরণ সিঙ্গাপুর থেকে আনাতে হয়। আমাদের মূল উদ্দশ্য হল গ্রাহকদের এমন খাবার পরিবেশন করা যার টানে বারবার তাঁরা ফিরে আসবেন।”

লেখক- তন্বি দুবে, অনুবাদ- শিল্পী চক্রবর্তী

Related Stories