অনলাইনে কন্ডোম! দ্যাট্‌স পার্সোনাল

0

নব্বইয়ের দশকে টিভিতে দেখানো সেই বিজ্ঞাপনটা মনে আছে? এক ব্যক্তি দোকানে গিয়ে আমতা আমতা করছেন। দোকানি বেশ বিরক্ত। এমন সময় দোকানে এসে দাঁড়াল ঝকঝকে স্মার্ট এক যুবক। কোনওরকম দ্বিধা না রেখে চেয়ে নিল তার প্রয়োজনীয় জিনিসটি। আগের সেই ব্যক্তি বুঝলেন কিছু ক্ষেত্রে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। লজ্জায় মোড়া সেই গোপনীয় জিনিসটা কন্ডোম। ভারতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ আর এডস প্রতিরোধের স্লোগান যত বেশি-বেশি গ্রাম, শহরকে ঘিরেছে, ততই লজ্জার আড়াল সরিয়েছে আম ভারতবাসী। তবে এখনও দ্বিধা আর সঙ্কোচের মেঘ পুরোপুরি কাটেনি।

দোকানে গিয়ে কন্ডোমের মতো যৌনজীবনের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার যে সঙ্কোচ, তাকেই মূলধন করে শুরুয়াতি ব্যবসা শুরু করেছিলেন সমীর সরাইয়া। তৈরি হয়েছিল অনলাইনে ব্যক্তিগত সামগ্রী কেনাকাটার জনপ্রিয় পোর্টাল, দ্যাট্‌স পার্সোনাল। বেশ কয়েকটি বহুজাতিক সংস্থায় ১৫ বছরের ওপর কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল সমীরের। বহুদিন সিঙ্গাপুরে ছিলেন তিনি। ২০১১ সালে ভারতে এসে সমীর দেখলেন বৈদ্যুতিন-ব্যবসার রমরমা । অভিজ্ঞ সমীর বুঝতে পারলেন, এটাই শুরুয়াতি ব্যবসার আদর্শ সময়। বাজার যাচাই করে বোঝা গেল যে, ব্যক্তিগত কেনাকাটায় বৈদ্যুতিন-ব্যবসায় প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

সমীর সরাইযা (মাঝে)
সমীর সরাইযা (মাঝে)

অধিকাংশ ভারতীয়ই দোকান থেকে যৌনজীবনের প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে সঙ্কোচবোধ করেন। এ ব্যাপারে বাজার যাচাইয়ের সময় জব্বলপুরের এক ব্যক্তি দ্যাট্‌স পার্সোনালকে জানান, পাড়ার দোকানে কন্ডোম কিনতে সঙ্কোচবোধ করায়, অনেকটা দূরে হাইওয়েতে গিয়ে কন্ডোম কেনেন তিনি। বিশেষ করে অবিবাহিত কোনও পুরুষের পক্ষে কন্ডোম কেনা  যেন যাতনার একশেষ। এই রকম নানা ঘটনা উঠে আসে দ্যাট্‌স পার্সোনালের বাজার যাচাইয়ের তথ্য-ভাণ্ডারে। ভারতে ব্যক্তিগত কেনাকাটায় বৈদ্যুতিন-বাজার যে কতটা উজ্জ্বল তা উপলব্ধ হতেই জন্ম নেয় দ্যাট্‌স পার্সোনাল।

কিন্তু বাজার যতই আকর্ষনীয় বলে মনে হোক না কেন, প্রাথমিক ভাবে ব্যক্তিগত কেনাকাটার এই শুরুয়াতি ব্যবসার ধারণাটিকে হাস্যকর বলে মনে হয়েছিল সমীরের। ইন্টারনেট এবং টেলিকম বিষয়ক আইনের বিশেষজ্ঞ এক বন্ধু, লেখেশ ধোলাকিয়ার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন সমীর। লেখেশ খোঁজখবর নিয়ে সমীরকে এগিয়ে যাওয়ার পরামর্শই শুধু দেন না, নিজেও এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হতে চান। এর পরেই লেখেশকে আইনি পরামর্শদাতা হিসেবে নিয়ে নেন সমীর। বোর্ড অফ ডিরেক্টরস্‌-এ যুক্ত হন বিক্রম ভর্মা ও অভয় ভালেরাও। কয়েক জন বিশিষ্ট পরামর্শদাতা ও প্রাথমিক পর্বের লগ্নিকারী নিয়ে যাত্রা শুরু হয় দ্যাট্‌স পার্সোনাল-এর।

ব্যাপক প্রচারের ভিতর দিয়ে, ২০১৩ সালে শুরু হয় দ্যাট্‌স পার্সোনাল। সমীর জানান, "বড় বড় সংবাদমাধ্যমে এবং অনলাইনেও দ্যাট্‌স পার্সোনালের আত্মপ্রকাশের সংবাদ প্রকাশিত হয়। ফলে শুরু থেকেই কেনাকাটার ধুম পড়ে যায়। অবস্থা এমন দাঁড়ায় যে, প্রথম দশ দিনের মধ্যেই ক্র্যাশ করে যায় সাইট।" সেই আগ্রহ যত দিন গড়িয়েছে তত বেড়েছে। সমীরের দাবি, চার মাস অন্তর সংস্থার বৃদ্ধি পঞ্চাশ থেকে একশো শতাংশ। আর ক্রেতারা ছড়িয়ে রয়েছেন ভারতের সবপ্রান্তেই।

(স্টোরি জুবিন মেহতা, অনুবাদ দীপঙ্কর মুখোপাধ্যায়)